ব্যবসায় উদ্যোগ • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
কাশিশ্বরপুর গ্রামের মতিন ও তার ২ বন্ধু সমঝোতার ভিত্তিতে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এতে তাদের অবস্থা বেশ ভালো দেখে তাদের গ্রামের ২৫ জন কৃষক একত্র হয়ে সমতার ভিত্তিতে মূলধন বিনিয়োগ, নিজেদের মধ্যে ঝুঁকি ও সুযোগ-সুবিধা ভাগ করে নিতে সম্মত হয়ে একটি সংগঠন স্থাপন করেন। সংগঠনটি আইনগত নিয়ম পালন করে নিবন্ধিত হয়ে মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় এবং সদস্যদের পারস্পরিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
- ক)(1)
একমালিকানা ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
চুক্তি অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের মতিনের ব্যবসায়ের ধরনটি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
কৃষকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
একজন ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। এখানে মালিক নিজে মূলধন জোগান, ব্যবসায় পরিচালনা করেন এবং সব লাভ-লোকসান একাই বহন করেন।
- খ)
অংশীদারি ব্যবসায় দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়। এ চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি। চুক্তি মৌখিক বা লিখিত, নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত হতে পারে। চুক্তিতে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ীই অংশীদাররা মূলধন সরবরাহ করে এবং ব্যবসায় পরিচালনা, লাভ-লোকসান বণ্টনসহ অন্যান্য দায়িত্ব ঠিক হয়। এজন্য বলা হয় চুক্তি অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি।
- গ)
উদ্দীপকে মতিন ও তার দুই বন্ধু সমঝোতা বা চুক্তির ভিত্তিতে যে সংগঠন গড়েছেন, সেটি অংশীদারি ব্যবসায়।
১. দুই বা ততোধিক ব্যক্তি (এখানে তিনজন) মিলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায় গঠন করেছেন। এই চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের ভিত্তি।
২. অংশীদারি আইনে সর্বনিম্ন ২ জন ও সর্বোচ্চ ২০ জন ব্যক্তি অংশীদার হতে পারেন। মতিনের সংগঠনের সদস্য ৩ জন, যা এ সীমার মধ্যে আছে।
৩. এ ব্যবসায়ের গঠন সহজ এবং অংশীদারদের দায় অসীম।সুতরাং, মতিনের ব্যবসায়টি অংশীদারি ব্যবসায়।
- ঘ)
কৃষকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি সমবায় সমিতি (২৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত প্রাথমিক সমবায় সমিতি)। সদস্যরা সমতার ভিত্তিতে মূলধন দিয়েছেন, ঝুঁকি ও সুবিধা ভাগ করেছেন, সমিতি নিবন্ধিত এবং এটি গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত। এর সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা—
১. আর্থিক উন্নয়ন: ছোট ছোট সঞ্চয় ও পুঁজি একত্র করে কৃষকরা বড় আকারে কাজ করতে পারে। সমিতির মাধ্যমে তারা ঋণ, ন্যায্য মূল্যে উপকরণ ও ফসল বিক্রির সুবিধা পায়, ফলে আয় বাড়ে।
২. ঝুঁকি ভাগ: সদস্যরা ঝুঁকি ও সুযোগ-সুবিধা ন্যায়সংগতভাবে ভাগ করে নেয়। এতে একজনের ক্ষতির ভার কমে।
৩. সামাজিক উন্নয়ন: একতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা তৈরি হয়। সবাই সমান মর্যাদা ও একটি করে ভোটের অধিকার পায়, তাই গণতান্ত্রিক মনোভাব বিকশিত হয়।
৪. আত্মনির্ভরশীলতা: সমিতির মূল লক্ষ্য মুনাফা নয়, সদস্যদের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন ও জীবনমান উন্নয়ন।সুতরাং, সমবায় সমিতি কৃষকদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও