ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. A, মি. B এবং তাদের আরো ১৬ জন বন্ধু মিলে একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।প্রতিষ্ঠানটি জনগণের নিকট শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করেন এবং যার পরিচালকের সংখ্যা ৯জন। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি বেশ ভালোভাবে চলছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি অনবরত লোকসান দিয়ে যাচ্ছে। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে লাভ এর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

  1. ক)

    পরিমেল নিয়মাবলী কি?

    (1)
  2. খ)

    কোম্পানিকে বিবরণ পত্র প্রচার করতে হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের কোম্পানি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে এই কোম্পানির সংগঠন বিলোপ সাধন ঘটবে"- বিলোপ সাধনের ধরন উল্লেখপূর্বক যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিমেল নিয়মাবলী হলো কোম্পানির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মূল দলিল, যাতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা এবং দৈনন্দিন কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান লিপিবদ্ধ থাকে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনগণের নিকট শেয়ার বা ঋণপত্র ক্রয়ের আহ্বান জানিয়ে মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে বিবরণপত্র প্রকাশ করতে হয়।

    পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি গঠনের পর জনসাধারণের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহের জন্য তাদের কোম্পানি সম্পর্কে অবহিত করা আবশ্যক। বিবরণপত্রের মাধ্যমে কোম্পানির উদ্দেশ্য, মূলধন কাঠামো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আর্থিক অবস্থা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হয়, যাতে তারা আশ্বস্ত হয়ে কোম্পানির শেয়ার বা ঋণপত্র কিনতে আগ্রহী হয়। এজন্য কোম্পানি আইন অনুযায়ী বিবরণপত্র প্রচার করা বাধ্যতামূলক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।

    কোম্পানি আইন অনুযায়ী, যে সীমাবদ্ধ দায়বিশিষ্ট কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং যা জনসাধারণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে, তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। এ ধরনের কোম্পানিতে ন্যূনতম পরিচালকের সংখ্যা থাকে ৩ জন এবং শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. A, মি. B এবং তাদের আরও ১৬ জন বন্ধু মিলে মোট ১৮ জন (সর্বনিম্ন ৭ জনের বেশি) সদস্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রি করে মূলধন সংগ্রহ করেছে এবং এর পরিচালক সংখ্যা ৯ জন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে কোম্পানিটি 'আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপ সাধন' প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলুপ্ত হতে পারে।

    ১৯৯৪ সালের বাংলাদেশ কোম্পানি আইনের ২৪১ ধারা অনুযায়ী, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে আদালত কোনো কোম্পানির বাধ্যতামূলক বিলোপ সাধনের আদেশ দিতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান দুটি কারণ হলো—কোম্পানি তার দেনা পরিশোধে সম্পূর্ণ অসমর্থ হলে এবং আদালতের বিবেচনায় কোম্পানির কারবার বা অস্তিত্ব বজায় রাখা যদি ন্যায়সঙ্গত ও সংগত (Just and equitable) না হয়। বিশেষ করে যখন কোনো কোম্পানি ক্রমাগত লোকসান করে এবং অদূর ভবিষ্যতেও লাভ করার কোনো সম্ভাবনা থাকে না, তখন কোম্পানিটির মূল ভিত্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং আদালত কোম্পানিটির বিলোপ সাধনের নির্দেশ দেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে ভালো চললেও বিগত কয়েক বছর ধরে পরিচালনায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এর ফলে কোম্পানিটি ক্রমাগত লোকসান গুনছে এবং অদূর ভবিষ্যতে কোনো ধরনের মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে শেয়ারহোল্ডার ও পাওনাদারদের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কোম্পানিটির ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় আদালত এটিকে 'ন্যায্য ও সংগত' কারণে বিলুপ্ত করার নির্দেশ দিতে পারেন।

    অতএব, উদ্দীপকের ক্রমাগত লোকসান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাহীনতার কারণে কোম্পানি আইন অনুযায়ী আদালত কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিলোপ সাধনের মাধ্যমেই এই সংগঠনটির সমাপ্তি ঘটবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন