রসায়ন ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

C12O22O11+H2O→ ইনভার্টেজ A→ জাইমেজ B+CO2 B+O2→ অ্যাসিটোব্যাকটর C \mathrm{C}{12} \mathrm{O}{22} \mathrm{O}{11}+\mathrm{H}{2} \mathrm{O} \xrightarrow{\text { ইনভার্টেজ }} \mathrm{A} \xrightarrow{\text { জাইমেজ }} \mathrm{B}+\mathrm{CO}{2} \mathrm{~B}+\mathrm{O}{2} \xrightarrow{\text { অ্যাসিটোব্যাকটর }} \mathrm{C}

  1. ক)

    সম্পৃক্ত দ্রবণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    AlF3 আয়নিক প্রকৃতির হলেও AlCl3 সমযোজী কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে আখের রস থেকে C যৌগের উৎপাদন প্রক্রিয়ার মুলনীতি ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের C যৌগের জীবাণুরোধী ক্রিয়ার কৌশল ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে, সেই পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ প্রস্তুত হয়, তাকে সম্পৃক্ত দ্রবণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফাজানের নীতি অনুসারে, ক্যাটায়নের আকার ও আধান একই হলে অ্যানায়নের আকার যত বৃদ্ধি পায়, ক্যাটায়ন কর্তৃক অ্যানায়নের পোলারায়ন তত বেশি ঘটে এবং যৌগটিতে সমযোজী বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধি পায়।

    AlF3 এবং AlCl3 উভয় যৌগে ক্যাটায়ন Al3+ এক হলেও অ্যানায়ন যথাক্রমে F- এবং Cl-। F- এর তুলনায় Cl- আয়নের আকার বড় হওয়ায় Al3+ আয়ন দ্বারা Cl- আয়নের ইলেকট্রন মেঘের পোলারায়ন বেশি ঘটে। ফলে AlCl3 যৌগে সমযোজী বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য পায়। পক্ষান্তরে, F- এর আকার ছোট হওয়ায় পোলারায়ন অত্যন্ত কম হয়, ফলে AlF3 আয়নিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বিক্রিয়াগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়:
    ১. আখের রসে বিদ্যমান সুক্রোজ (C12H22O11) ইনভার্টেজ এনজাইমের প্রভাবে আর্দ্রবিশ্লেষিত হয়ে সমমোলার গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ (A) তৈরি করে:
    C12H22O11 + H2O →(ইনভার্টেজ) C6H12O6 (গ্লুকোজ) + C6H12O6 (ফ্রুক্টোজ)

    ২. উৎপন্ন গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজকে জাইমেজ এনজাইম ইথানল (B) ও CO2-তে পরিণত করে:
    C6H12O6 →(জাইমেজ) 2CH3CH2OH (B) + 2CO2

    ৩. পরিশেষে, ইথানল অ্যাসিটোব্যাকটর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে বায়ুর অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে অ্যাসিটিক অ্যাসিড বা ভিনেগার (C) উৎপন্ন করে:
    CH3CH2OH + O2 →(অ্যাসিটোব্যাকটর) CH3COOH (C) + H2O

    সুতরাং, যৌগ C হলো অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH)। আখের রস থেকে C উৎপাদনের মূলনীতি হলো আখের রসে থাকা সুক্রোজকে বিভিন্ন এনজাইম ও ব্যাকটেরিয়ার সহায়তায় সন্ধান প্রক্রিয়ায় জারিত করে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে রূপান্তর করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'C' যৌগটি হলো ইথানয়িক অ্যাসিড বা অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH)। এর ৪-১০% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে, যা খাদ্য সংরক্ষক বা জীবাণুরোধী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

    অ্যাসিটিক অ্যাসিডের জীবাণুরোধী ক্রিয়ার কৌশল নিম্নরূপ:
    ১. পিএইচ (pH) হ্রাসকরণ: অ্যাসিটিক অ্যাসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হয়ে H+ আয়ন দান করে:
    CH3COOH ⇌ CH3COO- + H+
    এর ফলে খাদ্যের মাধ্যমের pH কমে অম্লীয় হয়ে যায় (সাধারণত pH < 4.6)। অধিকাংশ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব অম্লীয় পরিবেশে বেঁচে থাকতে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে না।

    ২. ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লি ভেদ ও কার্যক্ষমতা ধ্বংস: অবিয়োজিত CH3COOH অণু সহজে ব্যাকটেরিয়ার লিপিড সমৃদ্ধ কোষঝিল্লি ভেদ করে কোষের সাইটোপ্লাজমে প্রবেশ করে। ব্যাকটেরিয়ার অভ্যন্তরীণ তুলনামূলক নিরপেক্ষ পরিবেশে এটি H+ ও অ্যাসিটেট আয়নে বিয়োজিত হয়। ফলে কোষের অভ্যন্তরীণ pH আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়, ব্যাকটেরিয়ার এনজাইমের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট হয় এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

    এভাবেই C যৌগটি জীবাণুরোধী ক্রিয়া সম্পন্ন করে খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন