পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব Z একজন বাংলাদেশী নাগরিক। তিনি দশ বছর যাবত ইতালিতে প্রবাস জীবনযাপন করেছেন। কোভিড-১৯ এর কারণে সে দেশের লোক ডাউন শুরু হলে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশ ফেরত আসার অল্প দিনের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার তার রক্ত পরীক্ষা করে বলেন যে, জনাব Z এর শরীরে একটি ভাইরাস উপস্থিতির কারণে তিনি ক্রমশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন।
- ক)(1)
ইভটিজিং কী?
- খ)(2)
বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ঘটনাটি তোমার পঠিত কোন নাগরিক সমস্যা কি নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
সামাজিক সচেতনতাই উদ্দীপকের সাথে সদৃশ্যপূর্ণ নাগরিক সমস্যা সমাধানের প্রধান উপায় -তুমি কি একমত? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণভাবে প্রকাশ্য স্থানে কোনো নারী বা কিশোরীকে কটূক্তি করা, অশোভন আচরণ করা বা যৌন হয়রানি করাকে ইভটিজিং বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শিশুর বা মানুষের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিগত বা বিকাশগত সীমাবদ্ধতা বা বৈচিত্র্যের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিক্ষার জন্য সাধারণ ব্যবস্থার অতিরিক্ত বিশেষ যত্ন, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয়, তাদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী (প্রতিবন্ধী ব্যক্তি) বলা হয়। যেমন—দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, শ্রবণপ্রতিবন্ধী কিংবা অটিস্টিক ব্যক্তিবর্গ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পঠিত নাগরিক সমস্যা হিসেবে 'এইচআইভি/এইডস' (HIV/AIDS) সমস্যাকে নির্দেশ করে।
এইচআইভি (Human Immunodeficiency Virus) হলো একটি মারাত্মক ক্ষতিকর ভাইরাস, যা মানবদেহে প্রবেশ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণ রোগব্যাধিতেও সহজে আক্রান্ত হয় এবং একপর্যায়ে এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome) রোগে রূপ নিয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব Z ইতালি থেকে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ডাক্তার তাঁর রক্ত পরীক্ষা করে জানান যে, তাঁর শরীরে একটি বিশেষ ভাইরাস উপস্থিতির কারণে তিনি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছেন। মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংসকারী এই ভাইরাসটিই হলো এইচআইভি। সুতরাং উদ্দীপকের ঘটনাটি এইডস নামক নাগরিক স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক সমস্যাকেই নির্দেশ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত যে, সামাজিক সচেতনতাই উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নাগরিক সমস্যা অর্থাৎ এইডস (HIV/AIDS) প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
এইচআইভি/এইডস এমন একটি রোগ যার কোনো স্থায়ী বা কার্যকর নিরাময়কারী প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। ফলে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই এ রোগ থেকে রক্ষার একমাত্র কার্যকর উপায়। এইচআইভি মূলত অনিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক, অনিরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ, ব্যবহৃত সুচ ও সিরিঞ্জের পুনঃব্যবহার এবং আক্রান্ত মায়ের মাধ্যমে সন্তানের শরীরে সংক্রমিত হয়।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই ভাইরাসের বিস্তার ও সংক্রামক পথগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া সম্ভব। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিতকরণ, একবার ব্যবহারযোগ্য ইনজেকশন সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বর্জনের জন্য জনসচেতনতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। এছাড়া বিদ্যালয়, গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সঠিক তথ্য প্রচার করলে মানুষের মধ্যে থাকা কুসংস্কার ও ভীতি দূর হয়।
যেহেতু চিকিৎসা দিয়ে এইডস রোগীকে পুরোপুরি সুস্থ করা সম্ভব নয়, তাই সচেতনতাই পারে সমাজকে এ প্রাণঘাতী ব্যাধির ভয়াবহ বিস্তার থেকে রক্ষা করতে। সুতরাং সামাজিক সচেতনতাই এ সমস্যা মোকাবিলার প্রধান উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও