বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
উদয়পুর গ্রামের মোড়ল সাহেবের ভৃত্য গফুর মিয়ার সন্তান সাফল্যের সঙ্গে পিএসসি পাশ করে। দূরবর্তী গ্রামে সন্তানকে পাঠিয়ে হাই স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য নেই বিধায় গফুর মোড়লের আর্থিক সাহায্য ও পরামর্শ চায়। কিন্তু মোড়ল তার সন্তানকে লেখাপড়ায় নিরুৎসাহিত করে এবং বলে গরিবের লেখাপড়া করে কী হবে? বরং আর্থিক সচ্ছলতার জন্য গফুরের সন্তানকে ঋণের মাধ্যমে অটোরিকশা কিনে দেওয়ার পরামর্শ দেয়। ভৃত্য গফুর মোড়লের এই পরামর্শ মেনে নিতে বাধ্য হয়। ফলে সন্তানের লেখাপড়ার ইতি ঘটে।
- ক)(1)
মজিদের আবিষ্কৃত পিরের নাম কী?
- খ)(2)
'ব্যাপারটা ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার মতো।'-কোন ব্যাপারটা এবং কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'মোড়লের অটোরিকশা কিনে দেওয়ার পরামর্শ' এবং 'লালসালু' উপন্যাসের 'মজিদের মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব'-এর সাদৃশ্য তুলে ধরো।
- ঘ)(4)
প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের সমাজবাস্তবতাই যেন 'লালসালু' উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে? মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদের আবিষ্কৃত পিরের নাম মোদাচ্ছের পির।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদের উপস্থিতিতে বা তাকে বাদ দিয়ে মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর সঙ্গে অন্য কারো বিয়ে বা সামাজিক মীমাংসা নিয়ে সরাসরি কথা বলা অনুচিত বোঝাতে উক্তিটি করা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে হাসুনির মার বিয়েসংক্রান্ত আলোচনার প্রসঙ্গে খালেক ব্যাপারীর স্ত্রী আমেনা বিবি সরাসরি বিষয়টি তুলতে চাইলে খালেক ব্যাপারী বলেন যে, মজিদকে পাশ কাটিয়ে কিছু করা মানে ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার মতো। কারণ মজিদ হলো গ্রামের ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষমতার আসল চালিকাশক্তি। তাকে অগ্রাহ্য করে মাতব্বরের পক্ষে কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব ছিল না বলেই এই প্রবাদপ্রতিম বাক্যটি ব্যবহৃত হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মোড়লের 'অটোরিকশা কিনে দেওয়ার পরামর্শ' এবং 'লালসালু' উপন্যাসে 'মজিদের মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব'-এর মধ্যে সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বজায় রাখার মানসিকতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ খালেক ব্যাপারীকে দিয়ে গ্রামে একটি পাকা মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বাইরে থেকে এটি ধর্মীয় উন্নয়ন বা পুণ্যকাজ মনে হলেও মজিদের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামে নিজের ভিত্তি আরও দৃঢ় করা, ক্ষমতার বিস্তার ঘটানো এবং সাধারণ মানুষের আনুগত্য ধরে রাখা। মসজিদের মতো কাঠামোগত প্রভাবের আড়ালে মজিদ নিজের কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশ করতে চেয়েছিল।
অন্যদিকে উদ্দীপকে গফুরের মেধাবী সন্তান যাতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে না পারে এবং মোড়লের অধীনস্থ অবস্থা থেকে বের হতে না পারে, সেজন্য মোড়ল কৌশলে তাকে লেখাপড়ায় নিরুৎসাহিত করে এবং ঋণের ফাঁদে ফেলে অটোরিকশা কেনার পরামর্শ দেয়। বাহ্যিকভাবে একে জীবিকার পথ দেখালেও মূলত তা ছিল শোষণ ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখার এক কুটিল চাল।
অতএব, উভয়ের উদ্যোগেই বাহ্যিক উপকারের ছদ্মবেশে প্রকৃতপক্ষে অধীনস্থদের নিজেদের বশে রাখা ও কর্তৃত্ব চিরস্থায়ী করার অপকৌশল ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের সমাজবাস্তবতাই যেন 'লালসালু' উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
উদ্দীপকে আধুনিক গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে পিএসসি পাস করা দরিদ্র শ্রমিকের সন্তানকে উচ্চশিক্ষার পথ থেকে বিচ্যুত করে ক্ষমতাবান মোড়লের নিয়ন্ত্রণে রাখার শোষক মানসিকতা ফুটে উঠেছে। গরিব মানুষ সচেতন বা শিক্ষিত হলে কায়েমি স্বার্থবাদীদের শোষণ ও প্রভুত্ব হুমকির মুখে পড়বে—এই ভয় থেকেই মোড়ল গফুরের সন্তানকে অটোরিকশা কেনার পরামর্শ দিয়ে লেখাপড়ার ইতি ঘটায়।
'লালসালু' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট গত শতকের প্রথমার্ধের এক অন্ধকারাচ্ছন্ন গ্রামীণ সমাজ। সেখানে মজিদ ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে পুরো সমাজকে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের খাঁচায় বন্দি করে রাখে। আউয়ালপুরের পিরের আগমন ঘটলে বা আক্কাস গ্রামে আধুনিক শিক্ষার জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে মজিদ নিজের আধিপত্য হারানোর আশঙ্কায় ভীত হয়ে পড়ে। আক্কাস যখন স্কুল প্রতিষ্ঠার কথা তোলে, তখন মজিদ চতুরতার সঙ্গে তার উদ্যোগ নস্যাৎ করে দিয়ে সবার সামনে তাকে অপদস্থ করে এবং মসজিদকে সামনে এনে তার প্রচেষ্টা বন্ধ করে দেয়। কারণ মজিদ ভালো করেই জানত, মানুষ সচেতন বা শিক্ষিত হলে তার ভণ্ডামির হাট ভেঙে যাবে।
উদ্দীপকে অর্থনৈতিক ও মানসিক শোষণের মাধ্যমে শিক্ষাবঞ্চনা ঘটিয়ে আধিপত্য বিস্তার করা হয়েছে, আর 'লালসালু' উপন্যাসে ধর্ম ও সংস্কারকে ব্যবহার করে একই শোষণ ও নিয়ন্ত্রণ কায়েম রাখা হয়েছে। প্রেক্ষাপট বা মাধ্যম ভিন্ন হলেও শোষক শ্রেণির কায়েমি স্বার্থ রক্ষা ও দরিদ্র-অসহায়দের বঞ্চিত রাখার যে সমাজবাস্তবতা, তা উভয় ক্ষেত্রেই অভিন্ন। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও