জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে সংক্রামক রোগের তুলনায় ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেশি। তবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ প্রাপ্ত ইনসুলিন ডায়াবেটিসে সৃষ্ট জটিলতা অনেকটা কমায়।
- ক)(1)
মেরিস্টেম কী ?
- খ)(2)
ট্রান্সলেশন কী ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঔষুধের উৎপাদন প্রক্রিয়া লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের পদ্ধতি কৃষিক্ষেত্রে কীভাবে সফলতা আনতে পারে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ভিদের যেসব শীর্ষ বা পার্শ্বীয় অঞ্চলের কোষগুলো বিভাজনে সক্ষম এবং যা বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটায়, তাকে মেরিস্টেম (Meristem) বা ভাজক কলা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
mRNA-তে থাকা জেনেটিক সংকেতের উপর ভিত্তি করে রাইবোসোমে অ্যামাইনো অ্যাসিডের নির্দিষ্ট অনুক্রমে প্রোটিন বা পলিপেপটাইড তৈরির প্রক্রিয়াকে ট্রান্সলেশন (Translation) বলে। এ প্রক্রিয়ায় tRNA উপযুক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড বহন করে আনে এবং rRNA এনজাইমের সাথে মিলে পেপটাইড বন্ধন গঠনের মাধ্যমে প্রোটিন সংশ্লেষণ সম্পন্ন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ডায়াবেটিস চিকিৎসায় ব্যবহৃত ঔষধটি হলো রিকম্বিন্যান্ট ইনসুলিন (Recombinant Insulin)। রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবদেহের ইনসুলিন জিন ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার (E. coli) সাহায্যে এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।
ইনসুলিন উৎপাদনের প্রধান ধাপসমূহ:
১. কাঙ্ক্ষিত জিন সংগ্রহ: মানব অগ্ন্যাশয়ের বিটা-কোষ থেকে ইনসুলিন তৈরির জিন শনাক্ত ও বিচ্ছিন্ন করা হয়।
২. প্লাজমিড ভেক্টর পৃথকীকরণ: Escherichia coli (E. coli) ব্যাকটেরিয়া থেকে প্লাজমিড DNA নিষ্কাশন করা হয় যা ভেক্টর হিসেবে কাজ করে।
৩. রেস্ট্রিকশন এনজাইম দ্বারা কর্তন: নির্দিষ্ট রেস্ট্রিকশন এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইম ব্যবহার করে প্লাজমিড এবং মানুষের ইনসুলিন জিনকে নির্দিষ্ট স্থানে কাটা হয়।
৪. রিকম্বিন্যান্ট প্লাজমিড তৈরি: ডিএনএ লাইগেজ (DNA ligase) এনজাইমের সাহায্যে মানব ইনসুলিন জিনটি প্লাজমিডে যুক্ত করে রিকম্বিন্যান্ট DNA তৈরি করা হয়।
৫. পোষক কোষে প্রবেশ (ট্রান্সফরমেশন): প্রস্তুতকৃত রিকম্বিন্যান্ট প্লাজমিডটিকে উপযুক্ত পোষক E. coli কোষে প্রবেশ করানো হয়।
৬. ক্লোনিং ও ইনসুলিন নিঃসরণ: এই রূপান্তরিত ব্যাকটেরিয়াগুলোকে উপযুক্ত পুষ্টি মাধ্যমে ফারমেন্টারে চাষ করে ইনসুলিন (A ও B চেইন) উৎপাদন করা হয়।
৭. নিষ্কাশন ও পরিশোধন: উৎপন্ন ইনসুলিন পৃথক ও পরিশোধন করে ব্যবহার উপযোগী ইনসুলিন তৈরি করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পদ্ধতিটি হলো রিকম্বিন্যান্ট DNA প্রযুক্তি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (Genetic Engineering)। কৃষিক্ষেত্রে এ প্রযুক্তি যুগান্তকারী পরিবর্তন ও সফলতা এনেছে। নিচে এর ক্ষেত্রসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রোগ ও কীটপতঙ্গ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন: ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস (Bt) ব্যাকটেরিয়ার জিন তুলা, বেগুন ও ভুট্টার জিনোমে প্রবেশ করিয়ে Bt-বেগুন, Bt-তুলা ইত্যাদি পোকা-প্রতিরোধী জাত তৈরি করা হয়েছে, যা কীটনাশকের ব্যবহার কমায়।
২. আগাছানাশক সহনশীল জাত সৃষ্টি: জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আগাছানাশক সহনশীল (Herbicide tolerant) সয়াবিন ও ভুট্টা তৈরি সম্ভব হয়েছে।
৩. প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল ফসলের বিকাশ: খরা, লবণাক্ততা এবং বন্যা সহনশীল ফসল উদ্ভাবনে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও খরাপ্রবণ অঞ্চলের পতিত জমিতেও ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে।
৪. পুষ্টিমানের উন্নয়ন: জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ 'গোল্ডেন রাইস' (Golden Rice) উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা অপুষ্টি ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এছাড়াও লোহার মাত্রা সমৃদ্ধ ধান ও অন্যান্য খাদ্যশস্যের গুণগত মান উন্নত করা হয়েছে।
৫. ভাইরাসমুক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী ফসল উৎপাদন: পেঁপের রিং স্পট ভাইরাস প্রতিরোধী জাত এবং টমেটোর পচন বিলম্বিতকারী (Flavr Savr টমেটো) জাত উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়েছে।সুতরাং, ফলন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অনন্য সফলতা এনে দিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও