যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃষ্টান্ত-১: কাক হয় দ্বিপদ পাখি, শালিক হয় দ্বিপদ পাখি, ঘুঘু হয় দ্বিপদ পাখি, সুতরাং, সকল পাখি হয় দ্বিপদ।দৃষ্টান্ত-২: আমি এ যাবৎ যত লাল ফুল দেখেছি তার সবই গন্ধহীন। অতএব, সকল লাল ফুল গন্ধহীন।
- ক)(1)
আরোহ কী?
- খ)(2)
আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃষ্টান্ত-২ এ সংঘটিত অনুপপত্তি ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃষ্টান্ত-১ এবং দৃষ্টান্ত-২ এর দ্বারা নির্দেশিত আরোহের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত বা ঘটনার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করার পদ্ধতিকে আরোহ অনুমান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আরোহ অনুমানে জানা থেকে অজানায়, নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে এবং বিশেষ থেকে সার্বিকে গমনের যে মানসিক ঝুঁকি গ্রহণ করা হয়, তাকে আরোহমূলক লম্ফ বলে। এই লম্ফের মাধ্যমেই আরোহ অবরোহ থেকে স্বতন্ত্র রূপ লাভ করে এবং নতুন জ্ঞান প্রদান করতে পারে। আরোহের মূল বৈশিষ্ট্যই এই অজ্ঞাত সত্যে পদার্পণের মধ্যে নিহিত, তাই যুক্তিবিদ বেন আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের প্রাণ বলেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃষ্টান্ত-২ এ সংঘটিত অনুপপত্তিটি হলো 'অবৈধ সার্বিকীকরণ অনুপপত্তি' (Fallacy of Hasty Generalization)।
কোনো বিষয়ের কার্যকারণ সম্বন্ধ বা অন্তর্নিহিত যথার্থ নিয়ম আবিষ্কার না করে শুধুমাত্র কয়েকটি অবাধ বা অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দ্রুত সার্বিক সিদ্ধান্ত টানলে এ জাতীয় অনুপপত্তি ঘটে। উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-২ এ বলা হয়েছে, "আমি এ যাবৎ যত লাল ফুল দেখেছি তার সবই গন্ধহীন। অতএব, সকল লাল ফুল গন্ধহীন।" এখানে কার্যকারণ নিয়ম নির্ণয় না করে কেবল ব্যক্তিগত সীমিত অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সব লাল ফুল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাস্তবে লাল গোলাপ বা অন্য সুগন্ধযুক্ত লাল ফুল রয়েছে। পর্যাপ্ত দৃষ্টান্ত পরীক্ষা ও কার্যকারণ সম্পর্ক ব্যতিরেকে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ায় এখানে অবাধ অভিজ্ঞতামূলক বা অবৈধ সার্বিকীকরণ অনুপপত্তি ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং দৃষ্টান্ত-২ অবৈজ্ঞানিক বা অপূর্ণ গণনামূলক আরোহকে নির্দেশ করে। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. কার্যকারণ সম্পর্ক: দৃষ্টান্ত-১ এ পাখির দ্বিপদ হওয়ার সাধারণ ও মৌলিক জৈবিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে কার্যকারণ সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত থাকে, যা বৈজ্ঞানিক আরোহের মূলভিত্তি। পক্ষান্তরে দৃষ্টান্ত-২ এ লাল ফুল ও গন্ধহীনতার মধ্যে কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়নি, যা অবৈজ্ঞানিক আরোহের লক্ষণ।
২. প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি: উভয় আরোহই প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভরশীল। তবে বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা ও কার্যকারণ নিয়ম উভয়ই একযোগে কাজ করে, কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে শুধুমাত্র অণুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকৃতির সমরূপতার ওপর নির্ভর করা হয়।
৩. সিদ্ধান্তের নিশ্চিততা: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সার্বিক এবং সুনিশ্চিত হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের ক্ষেত্রে একটিমাত্র ব্যতিক্রম বা বিপরীত দৃষ্টান্ত পুরো সিদ্ধান্তকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে (যেমন- একটি সুগন্ধি লাল ফুল পেলেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়)। তাই দৃষ্টান্ত-২ এর সিদ্ধান্ত কেবল সম্ভাব্য, নিশ্চিত নয়।
৪. বৈজ্ঞানিক মূল্য: বৈজ্ঞানিক আরোহ নিশ্চিত সত্য প্রকাশ করে বিজ্ঞানের সার্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। অপরপক্ষে, অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহৃত হলেও এটি সম্ভাব্য অনুমানের বেশি কিছু নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও