বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার আজমত আলী শান্তি কমিটি গঠন করে এবং পাক হানাদারবাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে এই দেশের প্রচুর ক্ষয়-ক্ষতি সাধন করে। পরবর্তীকালেমানবতা বিরোধী অপরাধে তার নামে মামলা করা হয় এবং ফাঁসিও কার্যকর করা হয়।প্রত্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা জামিল উদ্দীন জানান ঐ বিশ্বাসঘাতক আজমত আলীর সাহায্যেইহানাদার বাহিনী গ্রামের অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে গুলি করে হত্যা করে এবং তাদেরপরিবারের উপর চালায় সীমাহীন নির্যাতন।
- ক)(1)
‘সিরাজউদ্দৌলা’ কোন জাতীয় নাটক?
- খ)(2)
‘তার নবাব হওয়াটাই আমার মস্ত ক্ষতি।’- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আজমত আলী ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন চরিত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের বিষয়টি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূল বিষয়কে তুলে ধরেছে।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সিরাজউদ্দৌলা’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত একটি ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি বা ঐতিহাসিক নাটক।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি করেছিলেন নবাব আলীবর্দী খাঁর জ্যেষ্ঠা কন্যা ও সিরাজউদ্দৌলার খালা ঘসেটি বেগম। ঘসেটি বেগমের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল নবাব আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পালিত পুত্র শওকতজঙ্গ নবাব হবেন এবং ক্ষমতার মূল চালিকাশক্তি থাকবে ঘসেটি বেগমের হাতে। কিন্তু আলীবর্দী খাঁ তাঁর কনিষ্ঠা কন্যার সন্তান সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করায় ঘসেটি বেগমের সেই আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। সিরাজের নবাব হওয়াতেই ঘসেটি বেগমের সব ক্ষমতালিপ্সা ও চক্রান্ত ভেস্তে গিয়েছিল বলে তিনি আক্ষেপ করে কথাটি বলেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আজমত আলী চরিত্রটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের প্রধান বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর আলী খাঁ চরিত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে দেখা যায়, প্রধান সেনাপতি মীরজাফর নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে ভিনদেশি ইংরেজদের সাথে হাত মেলান। ক্ষমতার লোভে তিনি পলাশীর প্রান্তরে ইংরেজদের পক্ষে নীরব থেকে যুদ্ধক্ষেত্রকে প্রহসনে পরিণত করেন এবং সিরাজউদ্দৌলার পতন তথা বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত করতে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে বিশ্বাসঘাতকতার প্রতিফল হিসেবে তিনিও ঘৃণা ও অপমানের শিকার হন।
উদ্দীপকের আজমত আলীও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শান্তি কমিটি গঠন করে পাক হানাদারদের সহায়তা করে এবং নিজের দেশের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের ওপর সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন চালায়। সে মীরজাফরের মতোই নিজ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তাই দেশের সঙ্গে বেইমানি ও শক্রর পক্ষাবলম্বনের দিক থেকে আজমত আলী ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মীরজাফর চরিত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের বিষয়টি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূল বিষয়কে তুলে ধরেছে।”— মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ১৭৫৭ সালের ঐতিহাসিক পলাশী যুদ্ধ ও তার পটভূমি চিত্রিত হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, এদেশীয় কিছু কুচক্রী, বিশ্বাসঘাতক ও স্বার্থান্বেষী ব্যক্তিত্ব—যেমন মীরজাফর, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ প্রমুখের গোপন আঁতাত ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে দেশের স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটে এবং ইংরেজ শাসন কায়েম হয়। অর্থাৎ নাটকের মূল বিষয় ছিল স্বদেশের বিরুদ্ধে কতিপয় লোভী বেইমানের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের প্রেক্ষাপট হলো ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এখানে আজমত আলী নামের এক রাজাকার পাক হানাদার বাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে নিজ দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, গণহত্যা ও নির্যাতনে সহায়তা করে।
সুতরাং দেখা যায়, একটির প্রেক্ষাপট ১৮ শতকের বাংলা আর অন্যটির প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ। প্রেক্ষাপট ও সময় ভিন্ন হলেও উভয় ঘটনাতেই ফুটে উঠেছে স্বদেশের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, শত্রুপক্ষের দোসরবৃত্তি এবং বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি। এই বিশ্বাসঘাতকতা ও তার করুণ ফলাফলই নাটকের প্রধান সুর, যা উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই প্রদত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও