বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

একবার মরে ভুলে গেছে আজমৃত্যুর ভয় তারা।শাবাশ, বাংলাদেশ, এ পৃথিবীঅবাক তাকিয়ে রয়;জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখারতবু মাথা নোয়াবার নয়।

  1. ক)

    রেণু কে?

    (1)
  2. খ)

    “মুক্তি দিলে খাব, না দিলে খাব না।”— উক্তিটি ব্যাখ্যা কর ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শেষ চরণের বক্তব্য 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার যে বিশেষ দিকটিতে আলোকপাত করেছে তা আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকে প্রতিফলিত মনোভাব ‘বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাঝেও দেখা যায়।" মূল্যায়ন কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রেণু হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা জেলে বন্দি অবস্থায় অনশন ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধুর অটল সংকল্প ও দাবি আদায়ের ব্যাপারে আপসহীন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিনা বিচারে দীর্ঘকাল রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে আটক থাকার প্রতিবাদে এবং রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে অনশন ধর্মঘট শুরু করেছিলেন। তৎকালীন স্বৈরাচারী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও জেল কর্তৃপক্ষ বারবার তাঁকে খাবার খাওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো খাবার গ্রহণ করবেন না। ন্যায়ের দাবিতে তিনি জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত ছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষ চরণের বক্তব্য 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনার আপসহীন সংগ্রাম ও অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার দৃঢ় চেতনাকে আলোকপাত করেছে।

    সুকান্ত ভট্টাচার্যের উদ্দীপকের কবিতাংশে বলা হয়েছে—জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও বাঙালি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াবার নয়। অর্থাৎ চরম ত্যাগ ও আত্মাহুতির বিনিময়েও অধিকার আদায়ে অবিচল থাকার অঙ্গীকার এখানে ব্যক্ত হয়েছে।

    'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে অনশন ধর্মঘট করেছিলেন। অনশনের কারণে তাঁর স্বাস্থ্য চরম অবনতির দিকে চলে যায়, চিকিৎসকেরা তাঁর জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও নিজের নীতি ও দেশের মানুষের মুক্তির দাবি থেকে একচুলও সরে আসেননি। মৃত্যুকে তুচ্ছজ্ঞান করে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার এই অপরাজেয় মানসিকতাই উদ্দীপকের শেষ চরণে প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকে প্রতিফলিত মনোভাব ‘বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাঝেও দেখা যায়"— মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।

    উদ্দীপকে সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় বাঙালির নির্ভীক, লড়াকু ও আত্মোৎসর্গী মনোভাব রূপায়িত হয়েছে। বাঙালি মৃত্যুকে জয় করতে শিখেছে; যত অত্যাচার বা দমন-পীড়নই আসুক না কেন, তারা কখনোই মাথানত করে পরাজয় মেনে নেয় না।

    'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় আমরা দেখতে পাই, ফরিদপুর জেলে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর শারীরিক অবস্থা যখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং নাকের নল দিয়ে জোর করে তরল খাবার দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও একবিন্দু বিচলিত হননি। তিনি সহযোদ্ধা মহিউদ্দিনকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং মৃত্যুকে সানন্দে বরণ করে নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের সঙ্গে কোনো আপস করেননি। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও মুক্তির সংগ্রামে জীবন দিতে তিনি কুণ্ঠাবোধ করেননি।

    সুতরাং, উদ্দীপকে বিধৃত নির্ভীকতা, চরম আত্মত্যাগ ও স্বৈরাচারের কাছে মাথানত না করার যে তেজস্বী মনোভাব পরিলক্ষিত হয়, তা 'বায়ান্নর দিনগুলো' রচনায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন, অটল চরিত্র ও কারাজীবনের সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বাস্তব রূপ ধারণ করেছে। অতএব, প্রদত্ত মূল্যায়নটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন