যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

সকালে যখন আকাশ কালো হয়ে হঠাৎ বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হয়। ভয়ে, আতঙ্কে রাহাত বাবাকে প্রশ্ন করল, "বজ্রপাত কী?” রাহাতের বাবা উত্তরে বললো, "বজ্রপাত হলো আকাশে দানব কর্তৃক নিক্ষেপিত সাদা আগুনের ঝলক।" একথা শুনে রাহাতের মা বললো, "বজ্রপাত হলো আকাশে- ভাসমান মেঘের ভারি কণার ঘর্ষণের ফলে তৈরি আলো।"

  1. ক)

    ব্যাখ্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কেন অবরোহমূলক প্রক্রিয়া?

    (2)
  3. গ)

    রাহাতের বাবার বক্তব্যে কোন ধরনের ব্যাখ্যা প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাহাতের মা এবং বাবার বক্তব্যে বিদ্যমান বিষয়ের পার্থক্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো জটিল, অস্পষ্ট, অজ্ঞাত ও দুর্বোধ্য বিষয়কে সহজ, সরল ও বোধগম্য করে প্রকাশ করার নামই ব্যাখ্যা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অবরোহমূলক প্রক্রিয়া কারণ এতে একটি বিশেষ ঘটনা বা নিয়মকে এক বা একাধিক অধিকতর ব্যাপক বা সার্বিক নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করে ব্যাখ্যা করা হয়। অবরোহ যুক্তির মতো এখানেও সার্বিক নীতি থেকে বিশেষ নিয়মে পৌঁছানো হয়, ফলে যুক্তির কাঠামো অবরোহ প্রকৃতির হয়ে থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাহাতের বাবার বক্তব্যে 'লৌকিক ব্যাখ্যা' প্রতিফলিত হয়েছে।

    সাধারণ মানুষ যখন কোনো প্রাকৃতিক ঘটনার বাস্তব বা প্রাকৃতিক কারণ অনুসন্ধান না করে অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক বা কাল্পনিক শক্তির সাহায্যে অন্ধবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে সেটিকে ব্যাখ্যা করে, তখন তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। এই ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হয় এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না।

    উদ্দীপকে বজ্রপাতের কারণ হিসেবে রাহাতের বাবা বলেছেন, "বজ্রপাত হলো আকাশে দানব কর্তৃক নিক্ষেপিত সাদা আগুনের ঝলক।" এখানে তিনি কোনো প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক কারণের দিকে না গিয়ে 'দানব' নামক কাল্পনিক ও অলৌকিক ধারণার আশ্রয় নিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ কুসংস্কার ও কল্পনাপ্রসূত। সুতরাং, রাহাতের বাবার বক্তব্যটি লৌকিক ব্যাখ্যার উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রাহাতের মায়ের বক্তব্য 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' এবং রাহাতের বাবার বক্তব্য 'লৌকিক ব্যাখ্যা'-কে নির্দেশ করে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে এদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. ধারণাগত পার্থক্য: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার পেছনের প্রাকৃতিক ও কার্যকারণ নিয়ম উদ্ঘাটন করে বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা হয় (যেমন—রাহাতের মা বলেছেন মেঘের কণার ঘর্ষণে আলোর সৃষ্টি)। পক্ষান্তরে, লৌকিক ব্যাখ্যায় অলৌকিক ও কাল্পনিক শক্তির আশ্রয় নেওয়া হয় (যেমন—বাবার মতে আকাশে দানব কর্তৃক আগুন নিক্ষেপ)।

    ২. কার্যকারণ নিয়ম: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে প্রাকৃতিক কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের স্থান নেই, এটি অন্ধবিশ্বাস ও কল্পনার ওপর নির্ভরশীল।

    ৩. যাচাইযোগ্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বস্তুনিষ্ঠ, বাস্তব এবং পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে যাচাইযোগ্য। কিন্তু লৌকিক ব্যাখ্যা কাল্পনিক ও মনগড়া হওয়ায় তা বাস্তবসম্মত নয় এবং যাচাই করা যায় না।

    ৪. সার্বজনীনতা: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সবার জন্য এক ও অভিন্ন, অর্থাৎ সার্বজনীন। পক্ষান্তরে, লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিনির্ভর, অঞ্চলভেদে ও ব্যক্তিভেদে এর রূপ পরিবর্তিত হয়।

    সুতরাং, রাহাতের মা ও বাবার বক্তব্যের মধ্যকার বিষয়টি হলো বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি (বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা) ও অন্ধবিশ্বাসভিত্তিক কল্পনার (লৌকিক ব্যাখ্যা) মৌলিক পার্থক্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন