সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

গরীব সংসারের মেধাবী ছাত্র শান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে কয়েক বছর চাকরির চেষ্টা করেও চাকরির দেখা পেল না। নিজের জীবনের চাহিদা ঠিকমতো মেটানোসহ বাবা-মার সংসারেও কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা করতে পারছে না। তাই শান্ত দীর্ঘদিন হতাশায় ভুগে ছিনতাই চক্রের সাথে যোগ দিয়ে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, খুনসহ নানাবিধ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।

  1. ক)

    বিচ্যুত আচরণের উদাহরণ দাও।

    (1)
  2. খ)

    কিশোর অপরাধ কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে শান্তর অপরাধী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে শান্তর মতো অনেকের অপরাধী হওয়ার জন্য উক্ত কারণটির ভূমিকা রয়েছে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজ বা গোষ্ঠীর প্রচলিত নিয়ম, মূল্যবোধ ও প্রত্যাশার পরিপন্থী যেকোনো কাজ, যেমন—চুরি করা বা মাদক গ্রহণ করা হলো বিচ্যুত আচরণের উদাহরণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন দ্বারা নির্ধারিত নির্দিষ্ট বয়সসীমার (সাধারণত ৭ থেকে ১৬ বা ১৮ বছর) কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু বা কিশোর কর্তৃক সমাজের আইন ও নীতিবিরোধী কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়াকে কিশোর অপরাধ বলে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শান্তর অপরাধী হওয়ার প্রধান কারণ হলো তীব্র 'বেকারত্ব' এবং তা থেকে সৃষ্ট 'অর্থনৈতিক হতাশা ও সামাজিক বঞ্চনা'।

    উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর সমাজে একজন ব্যক্তি সম্মানজনক পেশা ও আয়ের প্রত্যাশা করে। কিন্তু যখন সে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও চাকরি পায় না এবং মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়, তখন তার মধ্যে তীব্র হতাশা, হীনম্মন্যতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট কে. মার্টন বর্ণিত বিচ্যুতি বা লক্ষ্য অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ের ব্যর্থতার সাথে মিলে যায়।

    উদ্দীপকে শান্ত উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেও দীর্ঘদিন বেকার ছিল। নিজের ও পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটাতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে সে অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জনের জন্য অপরাধমূলক চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়ে। সুতরাং, বেকারত্ব ও চরম আর্থিক সংকটই শান্তকে অপরাধ জগতে ঠেলে দিয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে শান্তর মতো অনেকের অপরাধী হওয়ার পেছনে বেকারত্ব ও আর্থিক হতাশার ভূমিকা অনস্বীকার্য—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    সমাজবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর সপক্ষে নিম্নলিখিত যুক্তিগুলো দেওয়া যায়:
    ১. মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা: বেকারত্বের কারণে তরুণ সমাজ যখন খাদ্য, বস্ত্র ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অপারগ হয়, তখন টিকে থাকার তাগিদে অনেকেই বিকল্প ও অবৈধ পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।
    ২. মানসিক হতাশা ও বিচ্ছিন্নতাবোধ: দীর্ঘদিনের কর্মহীনতা ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করে। হতাশা থেকে তৈরি হয় ক্রোধ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, যা সহজে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজির মতো অসামাজিক কাজে যুক্ত হতে উৎসাহিত করে।
    ৩. সুযোগের অসম বণ্টন ও বৈষম্য: সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট মার্টন তাঁর 'অ্যানোমি তত্ত্ব'-এ দেখিয়েছেন যে সমাজে সফলতার লক্ষ্য নির্ধারিত থাকলেও বৈধ উপায়ের সুযোগ যখন সীমিত হয়, তখন মানুষ অবৈধ পন্থা বা অপরাধমূলক পথ অবলম্বন করে।
    ৪. অসৎ সঙ্গ ও অপরাধচক্রের প্রভাব: বেকার যুবকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অপরাধ চক্রগুলো তাদের প্রলোভন দেখিয়ে অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

    অতএব, বেকারত্ব কেবল একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং এটি যুবসমাজকে বিপথগামী ও অপরাধপ্রবণ করে তোলার পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন