বাংলা ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
খ্যাতিমান সমাজবিজ্ঞানী ড. সামাদ তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের এ বাংলাদেশের ইতিহাস শোষণ আর বঞ্চনার। কৃষিই ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের প্রধান অবলম্বন আর ছিল মৃৎশিল্প, তাঁত শিল্প, মৎসজীবীতা। আমাদের পূর্বপুরুষদের বা তাদের পেশার প্রতি অশ্রদ্ধা দেখিয়ে জাতি হিসেবে আমরা উন্নতি করতে পারব না। বিদেশি শোষণের নির্মম অত্যাচার সহ্য করে আমাদের পূর্বপ্রজন্ম আমাদের জন্য বর্তমানের যে ভিত তৈরি করেছিলেন, তাই-ই আমাদের শিল্প সাহিত্যের মৌলিক প্রেরণা।'
- ক)(1)
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কী?
- খ)(2)
"তার পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের বিদেশি শোষকের অত্যাচার 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কোন প্রসঙ্গকে মনে করিয়ে দেয়? কেন?
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"- মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জিহ্বায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কবিতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"তার পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল"- চরণটির মাধ্যমে আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপর সামন্তবাদী ও উপনিবেশবাদী প্রভুদের নির্মম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর কৃতদাস পূর্বপুরুষদের কথা স্মরণ করেছেন। সামন্ত যুগে প্রভুরা তাদের অধীনস্থ কৃতদাসদের নির্মমভাবে চাবুক বা বেত্রাঘাত করত। সেই চাবুকের আঘাতের ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দাগ কবির চোখে লাল রক্তজবার মতো প্রতীয়মান হয়েছিল। এটি মূলত যুগ যুগ ধরে বাঙালির বঞ্চনা ও শোষণের গভীর ক্ষতচিহ্নের প্রতীকী রূপ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিদেশি শোষকের নির্মম অত্যাচার 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কৃতদাস পূর্বপুরুষদের ওপর প্রভুশ্রেণির পাশবিক নির্যাতন এবং বাঙালি জাতির ওপর ঔপনিবেশিক শোষণের ঐতিহাসিক প্রসঙ্গকে মনে করিয়ে দেয়।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আমাদের পূর্বপুরুষদের অতীত ইতিহাস তুলে ধরেছেন। আমাদের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ভূস্বামী ও প্রভুশ্রেণির কৃতদাস। তাঁদের ওপর চলত অবর্ণনীয় শোষণ ও অত্যাচার, যার কারণে তাঁদের পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষতচিহ্ন সৃষ্টি হতো। শত অত্যাচার সহ্য করেও তাঁরা নতুন পলিমাটিতে চাষাবাদ করে শস্য ফলিয়েছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মের বাঁচার পথ প্রশস্ত করেছেন।
উদ্দীপকে ড. সামাদ উল্লেখ করেন যে, বিদেশি শোষকের নির্মম অত্যাচার সহ্য করে আমাদের পূর্বপ্রজন্ম আমাদের জন্য বর্তমানের ভিত তৈরি করেছিলেন। কবিতার সেই রক্তজবার মতো ক্ষতের অধিকারী ক্রীতদাস পূর্বপুরুষদের আত্মত্যাগ ও লড়াইয়ের ইতিহাসের সাথে উদ্দীপকের এই বক্তব্য পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই শোষকের নির্মম অত্যাচার এবং পূর্বপুরুষদের ঐতিহাসিক সংগ্রামের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের ড. সামাদ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার কবি চৈতন্যগত দিক থেকে অভিন্ন"— মন্তব্যটি যথার্থ।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বাঙালির হাজার বছরের সংগ্রামী ঐতিহ্য, কৃষিজীবী পূর্বপুরুষদের মেহনত এবং শোষিত মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরেছেন। কবি তাঁর পূর্বপুরুষদের কৌম চেতনা, মাটি ও কৃষির সাথে গভীর যোগসূত্রকে শিল্প-সাহিত্যের এবং জাতিসত্তার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই জাতির আসল মুক্তি আসে।
উদ্দীপকের ড. সামাদও একই চেতনা ধারণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলাদেশ শোষণ ও বঞ্চনার ইতিহাসের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে এবং কৃষি, মৃৎশিল্প, তাঁত শিল্প ইত্যাদি মেহনতি পেশাই ছিল আমাদের ভিত্তি। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, পূর্বপুরুষদের এবং তাঁদের মেহনতি পেশার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করলে জাতির উন্নতি সম্ভব নয়। পাশাপাশি বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে পূর্বপ্রজন্মের লড়াইকেই তিনি আমাদের শিল্প-সাহিত্যের মূল প্রেরণা হিসেবে আখ্যা দেন।
সুতরাং দেখা যায়, কবিতার কবি এবং উদ্দীপকের ড. সামাদ—উভয়েই নিজেদের ঐতিহ্য, পূর্বপুরুষদের শ্রম ও শোষণের ইতিহাসকে জাতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার মূল চালিকাশক্তি মনে করেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁদের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা একই সূত্রে গাঁথা। তাই মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও