ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. জোয়ার্দার চারুলতা কর্পোরেশনের শেয়ার ক্রয় করেছেন। বছর শেষে তিনি তুলনামূলকভাবে কম লভ্যাংশ পান। তবে পরিচালক নির্বাচনে তার ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। পক্ষান্তরে মি. বক্কর উক্ত কোম্পানির এমন ধরনের শেয়ার ক্রয় করেছেন যা থেকে তিনি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান, কিন্তু কোনো ভোটাধিকার নেই।
- ক)(1)
শেয়ার কী?
- খ)(2)
বিবরণপত্র বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মি. বক্করের ক্রয়কৃত শেয়ারকে কোন ধরনের শেয়ার বলে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
মি. জোয়ার্দারের ক্রয়কৃত শেয়ার কোম্পানির প্রকৃত মালিকানার নির্দেশক'- উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যৌথমূলধনী কোম্পানির মোট মূলধনের সমমূল্যের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য একককে শেয়ার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির উদ্দেশ্যে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে যে বিজ্ঞপ্তি বা প্রচারপত্র প্রকাশ করে, তাকে বিবরণপত্র (Prospectus) বলে।
বিবরণপত্রে কোম্পানির উদ্দেশ্য, মূলধনের পরিমাণ, শেয়ারের ধরন ও মূল্য, পরিচালকদের পরিচিতি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ থাকে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো জনসাধারণকে কোম্পানির সার্বিক চিত্র সম্পর্কে অবহিত করে শেয়ার বা ঋণপত্র ক্রয়ে আকৃষ্ট করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মি. বক্করের ক্রয়কৃত শেয়ারকে 'অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার' (Preference Share) বলে।
যে শেয়ারের মালিকরা কোম্পানি থেকে একটি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন এবং কোম্পানি অবসায়নের সময় মূলধন ফেরতের ক্ষেত্রে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের চেয়ে অগ্রাধিকার পান, কিন্তু সাধারণত কোম্পানিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না, তাকে অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. বক্কর চারুলতা কর্পোরেশনের এমন একটি শেয়ার ক্রয় করেছেন যা থেকে তিনি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান, কিন্তু কোনো ভোটাধিকার নেই। এই বৈশিষ্ট্যগুলো অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ারের অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য। অতএব, মি. বক্করের শেয়ারটি অগ্রাধিকারযুক্ত শেয়ার।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"মি. জোয়ার্দারের ক্রয়কৃত শেয়ার কোম্পানির প্রকৃত মালিকানার নির্দেশক"—উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
যৌথমূলধনী কোম্পানির সাধারণ শেয়ার (Ordinary Share)-এর মালিকরাই হলেন কোম্পানির প্রকৃত মালিক। সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কোনো নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে না; তবে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ গঠনে ভোটদান, নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ এবং ঝুঁকি গ্রহণের অধিকার কেবল তাঁদেরই থাকে। অন্যান্য দায় ও অগ্রাধিকার শেয়ারের দাবি মেটানোর পর অবশিষ্ট মুনাফার ওপর তাঁদের পূর্ণ অধিকার থাকে।
উদ্দীপকে মি. জোয়ার্দার চারুলতা কর্পোরেশনের যে শেয়ার কিনেছেন, তাতে বছর শেষে তিনি লভ্যাংশ কম পেলেও পরিচালক নির্বাচনে তাঁর ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই একজন শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেন, যা একমাত্র সাধারণ শেয়ারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অন্যদিকে নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পেলেও অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডাররা কেবল ঋণদাতার সমরূপ মর্যাদা ভোগ করেন, পরিচালনায় অংশ নিতে পারেন না।
সুতরাং দেখা যায়, মি. জোয়ার্দার ঝুঁকি গ্রহণ করে সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন এবং ভোটাধিকার ভোগ করছেন। তাই তাঁর ক্রয়কৃত শেয়ারটিই কোম্পানির প্রকৃত মালিকানার নির্দেশক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও