অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মুরাদ সাহেব ঢাকার কাওরান বাজারে রাতে মাছ কিনতে যেয়ে দেখেন মাছগুলো সব তাজা ও সতেজ। তিনি মাছওয়ালাকে প্রশ্ন করলেন মাছগুলো কবে ধরা হয়েছে। মাছওয়ালা উত্তর দিল গতকাল। তিনি ফলবাজারে গিয়ে দেখলেন তাজা তাজা আম যেন এখন গাছ থেকে পাড়া। কিন্তু তিনি ভাবলেন এখন তো আমের সময় না। তিনি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে মাছ ও ফল না কিনে বাড়ি ফিরলেন।

  1. ক)

    নিরাপদ খাদ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    খাদ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    মুরাদ সাহেব কেন মাছ ও ফল না কিনে বাড়ি ফিরলেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা সমাধান করার জন্য সরকার, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিরাপদ খাদ্য বলতে এমন খাদ্যকে বোঝায় যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং যা প্রয়োজনীয় পুষ্টিমানসমৃদ্ধ, বিশুদ্ধ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক বা জীবাণুমুক্ত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাদ্যের গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখা, পচন রোধ করা এবং অসময়ে খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
    খাদ্যদ্রব্য পচনশীল হওয়ায় উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হয়ে যায়। সুষ্ঠু সংরক্ষণের মাধ্যমে একদিকে যেমন ফসলের অপচয় রোধ ও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যায়, তেমনি সারা বছর জনগণের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুরাদ সাহেব ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি এবং খাদ্য ভেজালের সন্দেহে মাছ ও ফল না কিনে বাড়ি ফিরলেন।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রাতের বেলা ঢাকার কারওয়ান বাজারে তিনি মাছ দেখে জানতে পারেন সেগুলো গতকাল ধরা হয়েছে, অথচ মাছগুলো অস্বাভাবিক তাজা ও সতেজ লাগছিল। সাধারণত ফরমালিন বা রাসায়নিক পদার্থ মেশালে মাছ দীর্ঘ সময় সতেজ দেখায়। আবার ফল বাজারে গিয়ে তিনি অসময়ের আম অস্বাভাবিকভাবে তাজা দেখতে পান, যা কৃত্রিমভাবে কার্বাইড বা বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ও সংরক্ষণ করা হয়েছিল।

    মুরাদ সাহেব একজন সচেতন ভোক্তা হিসেবে বুঝতে পেরেছিলেন যে, স্বাভাবিক সময়ের বাইরে কিংবা দীর্ঘদিন আগের মাছ-ফলকে এভাবে সতেজ রাখার পেছনে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে। তাই তিনি নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সেগুলো না কিনে বাড়ি ফিরে যান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও ভেজাল মেশানোর সমস্যা দূর করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী ও জনসাধারণ—এই তিন পক্ষেরই সমন্বিত ভূমিকা থাকা আবশ্যক। নিম্নে এদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সরকারের ভূমিকা:
    সরকারকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিয়মিত বাজার তদারকি, ফরমালিন ও বিষাক্ত রাসায়নিকের অনিয়ন্ত্রিত আমদানি ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা আবশ্যক। এছাড়া আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন করা জরুরি।

    ২. ব্যবসায়ীদের ভূমিকা:
    ব্যবসায়ীদের কেবল অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অনৈতিক মানসিকতা পরিহার করতে হবে। খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিন, কার্বাইড বা অন্য কোনো বিষাক্ত উপাদান মেশানো থেকে বিরত থেকে সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

    ৩. জনসাধারণের ভূমিকা:
    ভোক্তা বা সাধারণ জনগণকে খাদ্যদ্রব্য কেনার ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে। অস্বাভাবিক সতেজ বা অসময়ের ফলমূল কেনা থেকে বিরত থাকা এবং ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। কোনো অসাধু কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

    পরিশেষে, খাদ্য ভেজালের এই জাতীয় সমস্যা নিরসনে কঠোর আইনি নজরদারি, ব্যবসায়ীদের নৈতিকতা ও জনগণের সম্মিলিত সচেতনতাই একমাত্র স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন