বাংলা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

4.1.

“উপসর্গের স্বাধীন কোনো অর্থ নেই, কিন্তু অর্থ-দ্যোতকতা আছে।” —ব্যাখ্যা করো।

4.2.

ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় করো (যে কোনো পাঁচটি) :
দম্পতি, আয়কর, মুখচন্দ্র, প্রবচন, তেপান্তর, অকালপক্ব, যথারীতি, দোমনা।

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।

স্পষ্ট অনুমান: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্রের প্রশ্নকাঠামো অনুযায়ী ৪.১ অথবা ৪.২-এর যেকোনো একটির উত্তর করতে হয়, তবে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে দুটিরই পূর্ণাঙ্গ উত্তর প্রদান করা হয়েছে।

৪.১. “উপসর্গের স্বাধীন কোনো অর্থ নেই, কিন্তু অর্থ-দ্যোতকতা আছে।” —ব্যাখ্যা:

যেসব অর্থহীন অব্যয়সূচক শব্দাংশ ধাতু বা নামশব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে এবং অর্থের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পূর্ণতা বা সংকোচন ঘটায়, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।

উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই:
উপসর্গের নিজস্ব কোনো অর্থ বা অর্থবাচকতা নেই। উপসর্গগুলো বাক্যে স্বাধীন পদ হিসেবে এককভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না। যেমন: ‘প্র’, ‘পরা’, ‘অপ’, ‘অধি’, ‘বি’ ইত্যাদি উপসর্গ আলাদাভাবে ব্যবহৃত হলে কোনো অর্থ বা ভাব প্রকাশ করতে পারে না। এজন্য বলা হয়— উপসর্গের কোনো স্বাধীন অর্থ বা অর্থবাচকতা নেই।

উপসর্গের অর্থ-দ্যোতকতা আছে:
উপসর্গের নিজস্ব অর্থ না থাকলেও অন্য কোনো অর্থবোধক শব্দ বা ধাতুর পূর্বে বসে নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ সৃষ্টি করার কিংবা অর্থের পরিবর্তন ও সংকোচন-সম্প্রসারণ ঘটানোর বিশিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। উপসর্গের এই অর্থ সৃষ্টির দ্যোতনা বা ইঙ্গিত করার ক্ষমতাকেই ‘অর্থ-দ্যোতকতা’ বলে।

যেমন— ‘হার’ একটি অর্থবোধক মূল শব্দ। এর পূর্বে বিভিন্ন উপসর্গ যুক্ত হয়ে নানা অর্থ তৈরি করে:
১. প্র + হার = প্রহার (আঘাত করা বা মারধর)
২. আ + হার = আহার (খাবার বা ভোজন)
৩. বি + হার = বিহার (ভ্রমণ)
৪. পরি + হার = পরিহার (বর্জন করা)
৫. উপ + হার = উপহার (উপঢৌকন বা উপবৃত্তি)

উপর্যুক্ত উদাহরণ থেকে স্পষ্ট দেখা যায়, 'হার' শব্দের পূর্বে উপসর্গ যুক্ত হয়ে মূল শব্দটির অর্থে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করেছে। সুতরাং, ব্যাকরণিক দিক থেকে এটি যথার্থই বলা হয়েছে— “উপসর্গের স্বাধীন কোনো অর্থ নেই, কিন্তু অর্থ-দ্যোতকতা আছে।”


৪.২. ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় (যেকোনো পাঁচটি):

১. দম্পতি = জায়া ও পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)
২. আয়কর = আয়ের ওপর ধার্য কর (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
৩. মুখচন্দ্র = মুখ চন্দ্রের ন্যায় (উপমিত কর্মধারয় সমাস)
৪. প্রবচন = প্র (প্রকৃষ্ট রূপ) যে বচন (প্রাদি সমাস)
৫. তেপান্তর = তিন প্রান্তরের সমাহার (দ্বিগু সমাস)
৬. অকালপক্ব = অকালে পক্ব (সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস)
৭. যথারীতি = রীতিকে অতিক্রম না করে (অব্যয়ীভাব সমাস)
৮. দোমনা = দু দিকে মন যার (বহুব্রীহি সমাস)

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন