ইতিহাস ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৬৪ সাল থেকে ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা পৃথক রাষ্ট্রের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। কিন্তু ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে তারা সফল হতে পারেনি। ১৯৮২ সালে তারা তিউনিশিয়ার রাজধানী তিউনিশে সদর দফতর স্থাপন করে। প্রবাস থেকেই তারা তাদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
- ক)(1)
পাক-সেনাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম কোন বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তোলে?
- খ)(2)
বুদ্ধিজীবী হত্যা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দপ্তরের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কোন দপ্তরের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উত্ত দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ছিল? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাক-সেনাদের আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রথম পুলিশ বাহিনী (ইপিআর ও আনসার সদস্যদের সাথে মিলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে) সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বুদ্ধিজীবী হত্যা বলতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে, বিশেষ করে বিজয়ের প্রাক্কালে, বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার উদ্দেশ্যে শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও নির্মমভাবে হত্যা করাকে বোঝায়। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থার প্রবাসে স্থাপিত দপ্তরের সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন কোলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থাপিত মুজিবনগর সরকারের প্রধান কার্যালয় বা দপ্তরের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারদের আক্রমণের মুখে বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ ভারতে গিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠন করেন এবং ১৭ এপ্রিল তা শপথ গ্রহণ করে। মুক্তাঞ্চল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় গঠিত হলেও কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে সরকারের মূল দপ্তর কোলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে স্থাপন করা হয়। উদ্দীপকেও ফিলিস্তিনি মুক্তি সংস্থা নিজেদের ভূখণ্ডে আগ্রাসনের কারণে তিউনিশিয়ার রাজধানীতে দপ্তর স্থাপন করে প্রবাস থেকে সংগ্রাম চালায়। এই পরদেশে বা প্রবাসে অবস্থান করে জাতীয় মুক্তি আন্দোলন পরিচালনা করার প্রেক্ষাপটেই উভয় দপ্তরের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন উক্ত দপ্তরের (মুজিবনগর সরকারের প্রধান কার্যালয়) প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিসীম ও অনস্বীকার্য।
একটি রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের সফল পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো অত্যন্ত জরুরি। থিয়েটার রোডের কার্যালয় থেকেই সমগ্র মুক্তিযুদ্ধকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হতো। এই দপ্তর থেকে পুরো দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে সশস্ত্র প্রতিরোধযুদ্ধ পরিচালনা, মুক্তিবাহিনীর রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং মিত্রবাহিনীর সঙ্গে যৌথ সামরিক কৌশল নির্ধারণ করা হতো। একই সাথে এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের বৈধ সরকারের মূল কেন্দ্র, যেখান থেকে বিশ্ববাসীর সমর্থন আদায়ের কূটনৈতিক প্রয়াস এবং প্রচার অভিযান পরিচালিত হতো। এই দপ্তর কার্যকর না থাকলে পাকিস্তানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত সামরিক লড়াই ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ অসম্ভব হয়ে পড়ত।
সুতরাং, সামগ্রিক যুদ্ধ পরিচালনা, জাতীয় নেতৃত্ব প্রদান এবং মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জনে উক্ত মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও