ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৬
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা মাহিন প্রতিদিন চিংড়ির পোনা ধরে। সে সকালে দেখে পানি স্ফীত হয়ে উপরে উঠে এসেছে কিন্তু বিকেলে দেখে পানি পূর্বের অবস্থানে ফিরে গিয়েছে।
- ক)(1)
মহীসোপান কাকে বলে?
- খ)(2)
কোন ধরনের স্রোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পানির এরূপ আচরণের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মাহিনের দেখা ঘটনাটি মানব জীবনে কীরূপ প্রভাব ফেলে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মহাদেশের চারদিকে স্থলভাগের যে অংশ অল্প ঢালু হয়ে সমুদ্রের পানির মধ্যে নেমে গেছে এবং ক্রমান্বয়ে নিমজ্জিত হয়েছে, তাকে মহীসোপান বলে। এর সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার।
- খ)
শীতল সমুদ্রস্রোতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। শীতল স্রোতের গতিপথে তীব্র শীত ও হিমশৈলের (Iceberg) কারণে জাহাজ চলাচলে অসুবিধা হয়। হিমশৈলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে জাহাজ ডুবে যেতে পারে, যেমন টাইটানিক জাহাজ ১৯১২ সালে ডুবেছিল। এছাড়া উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে ঘন কুয়াশা ও ঝড়ঝঞ্ঝা সৃষ্টি হয়ে চলাচলে বাধা দেয়।
- গ)
মাহিন সকালে পানি স্ফীত হয়ে ওঠা এবং বিকেলে আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া দেখেছে। এটি জোয়ার-ভাটা। এর কারণ:
১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ: চাঁদ পৃথিবীর নিকটে বলে তার আকর্ষণে সমুদ্রের জল ফুলে ওঠে। সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার কম জোরালো হয়। চাঁদ ও সূর্য এক সরলরেখায় এলে জোয়ার প্রবল হয়।
২. কেন্দ্রাতিগ শক্তি: পৃথিবী নিজ অক্ষে আবর্তন করে বলে কেন্দ্রাতিগ শক্তি সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে মহাকর্ষের বিপরীত দিকের জল ছিটকে গিয়ে জোয়ার সৃষ্টি করে। - ঘ)
মাহিনের দেখা জোয়ার-ভাটা মানবজীবনে নিচের প্রভাব ফেলে।
১. সুফল: জোয়ার-ভাটার স্রোতে নদীর আবর্জনা সমুদ্রে চলে যায়, মোহনায় পলি জমে না এবং নদীখাত গভীর হয়।
২. অর্থনৈতিক কাজে: জোয়ারের পানি সেচে ব্যবহার করা যায়, ভাটার স্রোতে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। জোয়ারের সময় সমুদ্রগামী জাহাজ নদীতে প্রবেশ করতে পারে। পতেঙ্গা ও মংলা বন্দর সচল রাখতে এর ভূমিকা আছে।
৩. ক্ষতি: অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় অতিরিক্ত জোয়ারে নৌকা, লঞ্চ ডুবে যেতে পারে এবং জানমালের ক্ষতি হয়।সুতরাং, জোয়ার-ভাটা মানুষের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত জোয়ারে ক্ষতিও হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও