হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
শিবু দুর্গাপূজার কোনো একদিন লক্ষ করল, মন্দিরে একটি মেয়ের পূজা করছে। সে বিষয়টি পুরোহিত মহাশয়ের কাছে জানতে চাইলে পুরোহিত মহাশয় তাকে বুঝিয়ে বলেন। অন্যদিকে, সুভাষও দুর্গাপূজার কোনো একদিন লক্ষ করল, মায়েরা দেবী দুর্গাকে সিঁদুর পরাচ্ছেন। পরস্পর আলিঙ্গন করছেন, মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন। এ উপলক্ষ্যে মেলারও আয়োজন করা হয়েছে।
- ক)(1)
পূজা কাকে বলে?
- খ)(2)
'নবপত্রিকা' পূজার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিবু দুর্গাপূজার যে বিশেষ তিথিটি লক্ষ করেছিল তার বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
সুভাষ দুর্গাপূজার যে তিথিটির আনুষ্ঠানিকতা লক্ষ করছিল তার প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ঈশ্বরের প্রতীক বা কোনো রূপকে (দেব-দেবী) সন্তুষ্ট করার জন্য ভক্তিসহকারে ফুল, বেলপাতা, ধূপ, দীপ ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে যে অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে পূজা বলে।
- খ)
নবপত্রিকা কলা, ডালিম, ধান, হলুদ, মানকচু, কচু, বেল, অশোক ও জয়ন্তী- এই নয়টি গাছের সমাহার। দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিন এটি স্থাপন করে পূজা করা হয়।
নবপত্রিকার মধ্যে দেবী দুর্গা নয়টি ভিন্ন নামে অধিষ্ঠিত বলে বিশ্বাস করা হয়। এ পূজার মাধ্যমে আমরা জীবনদায়ী বৃক্ষকে পূজা ও সংরক্ষণ করি এবং বৃক্ষের মধ্যে ঈশ্বরের শক্তি অনুভব করি। - গ)
শিবু দুর্গাপূজায় যে বিশেষ তিথিটি লক্ষ করেছিল তা হলো মহাষ্টমী, কারণ এ তিথিতে কুমারী পূজা করা হয়। মন্দিরে একটি মেয়ের পূজা করা হচ্ছে বলে সে কুমারী পূজা দেখেছিল।
শারদীয় দুর্গোৎসবে অষ্টমী পূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী এ দিনে দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করে বিজয় লাভ করেছিলেন। ভক্তরা অষ্টমীবিহিত পূজা করে দেবীর কৃপা প্রার্থনা করেন এবং পূজা শেষে পুষ্পাঞ্জলি দেন। এ তিথিতে অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজাও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১০৮টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীর পূজা করা হয়।
কুমারী পূজা: নারীকে মাতৃরূপে ও ঈশ্বরীরূপে ভাবনা হিন্দুসাধনার একটি বড় দিক। কুমারীর মধ্য দিয়ে আসলে দেবী দুর্গারই পূজা করা হয়। এতে নারীর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি হয়। পুরোহিত মহাশয় শিবুকে এ বিষয়টিই বুঝিয়ে বলেছেন।
সুতরাং, শিবুর লক্ষ করা তিথিটি মহাষ্টমী।
- ঘ)
সুভাষ মায়েদের দেবী দুর্গাকে সিঁদুর পরানো, আলিঙ্গন ও মিষ্টিমুখ করানো এবং মেলার আয়োজন দেখেছে। এগুলো বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। বিজয়া দশমী দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের দিন। এর প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
বিজয়া দশমীতে দেবীকে সিঁদুর পরানো ও মিষ্টি মুখ করিয়ে বিদায় জানানো হয়, সধবা নারীরা পরস্পরের কপালে সিঁদুর পরান, সবাই আলিঙ্গন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিসর্জনের দিন বা পরের দিন অনেক স্থানে মেলা বসে।
১. অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্তি জাগরণ: মহিষাসুর বধের মাধ্যমে বিজয় উৎসব পালিত হয়। বিজয়া দশমী অন্যায়কে প্রতিহত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রেরণা দেয় এবং পারিবারিক ও সামাজিক জীবন থেকে অশুভ শক্তি দূর করতে উদ্বুদ্ধ করে।
২. সম্প্রীতি ও ঐক্য: দেবী দুর্গা দেবতাদের সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ, তাই বিজয়া দশমী ঐক্যের প্রতীক। পরস্পর আলিঙ্গন ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে ভালোবাসার বন্ধন তৈরি হয় এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাড়ে।
৩. সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব: আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের নতুন জামা-কাপড়, অর্থ ও উপহার দেওয়া হয়। মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়। পূজাসংখ্যা প্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নান্দনিক মণ্ডপসজ্জা সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়।সুতরাং, বিজয়া দশমী ন্যায়ের জয়, সম্প্রীতি ও আনন্দের উৎসব হিসেবে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও