‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

A দেশের নাগরিক মি. কলিন্স স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনা করছেন । সেদেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাতসহ সকল খাতই ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হয় এবং অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম নির্ধারিত হয়। ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি অন্য একটি দেশ Bতে গিয়ে সে দেশের অর্থনীতির উল্টো চিত্র অবলোকন করলেন। B দেশে উৎপাদন, ভোগ ও বণ্টন সবই কেন্দ্রীয় পরিকল্পার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

  1. ক)

    ব্যষ্টিক অর্থনীতি কী?

    (1)
  2. খ)

    নির্বাচন সমস্যা উদ্ভবের কারণ কী?

    (2)
  3. গ)

    A দেশের অর্থব্যবস্থার প্রকৃতি নির্ণয় করে এর তিনটি বৈশিষ্ট্য লিখ ।

    (3)
  4. ঘ)

    শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে A ও B দু'দেশের অর্থব্যবস্থার মধ্যে তুলনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতির যে শাখায় সামগ্রিক অর্থনীতির পরিবর্তে কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা একক ফার্মের অর্থনৈতিক আচরণ ও কার্যাবলি পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা করা হয়, তাকে ব্যষ্টিক অর্থনীতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষের জীবনে অভাব অসীম কিন্তু সেই অভাব পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ বা উপায় সীমিত এবং এই সম্পদের বিকল্প ব্যবহার রয়েছে। সীমিত সম্পদ দিয়ে সব অভাব একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব হয় না বলেই মানুষকে গুরুত্ব বা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সবচেয়ে জরুরি অভাবটি বাছাই বা নির্বাচন করতে হয়। তাই সম্পদের দুষ্প্রাপ্যতা এবং সম্পদের বিকল্প ব্যবহারযোগ্যতাই নির্বাচন সমস্যার উদ্ভবের প্রধান কারণ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত A দেশে স্ব-উদ্যোগে উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালিত হয়, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সব খাত ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এবং অবাধ প্রতিযোগিতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম নির্ধারিত হয়। অতএব, A দেশের অর্থব্যবস্থাটি হলো ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা (Capitalistic Economic System)।

    ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থার তিনটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
    ১. উৎপাদনের উপাদানের ব্যক্তিগত মালিকানা: এ ব্যবস্থায় উৎপাদনের উপকরণসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ইত্যাদি) ব্যক্তি মালিকানাধীন থাকে এবং ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো এগুলো ব্যবহার ও হস্তান্তর করতে পারে।
    ২. স্বয়ংক্রিয় দাম ব্যবস্থা: সরকারি কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই বাজারে ক্রেতা ও বিক্রেতার দরকষাকষি তথা চাহিদা ও যোগানের পারস্পরিক ঘাত-প্রতিঘাতের মাধ্যমে পণ্যের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় (অদৃশ্য হাত)।
    ৩. মুনাফা অর্জন ও অবাধ প্রতিযোগিতা: ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন। এখানে বাজারে বহুসংখ্যক ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে অবাধ প্রতিযোগিতা বিদ্যমান থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে A দেশের অর্থব্যবস্থা হলো ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা এবং B দেশের অর্থব্যবস্থা হলো নির্দেশমূলক বা সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা। শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই দুই অর্থব্যবস্থার ভূমিকা সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী।

    A দেশে প্রচলিত ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকৃত এবং উৎপাদন কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য থাকে ব্যক্তিস্বার্থ ও মুনাফা সর্বোচ্চকরণ। এর ফলে সম্পদ ধীরে ধীরে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির হাতে পুঞ্জীভূত হয়। মালিক শ্রেণি শ্রমিক শ্রেণিকে কম মজুরি দিয়ে শোষণ করে উদ্বৃত্ত মূল্য আত্মসাৎ করে। ফলে সমাজে একদিকে চরম ধনী বা ধনিক শ্রেণির সৃষ্টি হয় এবং অন্যদিকে দরিদ্র শ্রমিক শ্রেণির সৃষ্টি হয়, যা সমাজে তীব্র শ্রেণিবৈষম্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের জন্ম দেয়।

    অন্যদিকে, B দেশে প্রচলিত সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহের ওপর কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে না; বরং রাষ্ট্র বা সমাজের সমষ্টিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠিত থাকে। কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে জনগণের সামগ্রিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে সম্পদ বণ্টন ও উৎপাদন পরিচালিত হয়। এখানে ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের সুযোগ ও শোষণ না থাকায় সমাজে ধনিক ও দরিদ্রের কৃত্রিম শ্রেণিবৈষম্য তৈরি হয় না। সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হওয়ায় এ অর্থব্যবস্থায় শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, A দেশের ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা শ্রেণিবৈষম্যকে তীব্রতর করে, পক্ষান্তরে B দেশের সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা শ্রেণিবৈষম্য নির্মূল করে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন