রসায়ন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
রাইডার ধ্রুবক কী?
- খ)(2)
দ্রবণে SO4_42−^{2-} আয়ন কীভাবে শনাক্ত করবে? বিক্রিয়া লেখো।
- গ)(3)
A যন্ত্রটিকে ব্যবহার করে কীভাবে NaOH এর ডেসিমোলার দ্রবণ তৈরি করবে? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
B, C এবং D যন্ত্রকে আয়তনমিতিক বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হয়- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্যালেন্সের বিমের এক দাগ ডানে বা বাঁয়ে রাইডারকে সরালে দুই পাল্লার ওজনের মধ্যে যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়, তাকে রাইডার ধ্রুবক (Rider Constant) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মূল দ্রবণের সাথে বেরিয়াম নাইট্রেট বা বেরিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণ যোগ করলে বেরিয়াম সালফেটের (BaSO4) সাদা অধঃক্ষেপ পড়ে। এই অধঃক্ষেপ লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিডে (HCl) অদ্রবণীয়। এতে SO4^{2-} আয়নের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়।
বিক্রিয়া:
SO4^{2-}(aq) + BaCl2(aq) -> BaSO4(s) (সাদা অধঃক্ষেপ) + 2Cl^-(aq)
অথবা,
Na2SO4 + BaCl2 -> BaSO4 (সাদা অধঃক্ষেপ) + 2NaCl - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের A চিহ্নিত যন্ত্রটি হলো ১০০ mL ধারকত্বের একটি কোনিক্যাল ফ্লাস্ক। ডেসিমোলার দ্রবণ হলো 0.1 M দ্রবণ।
প্রয়োজনীয় ভর নির্ণয়:
আমরা জানি, W = (SMV) / 1000
এখানে,
ঘনমাত্রা, S = 0.1 M
আয়তন, V = 100 mL
NaOH এর আণবিক ভর, M = 23 + 16 + 1 = 40 g/mol
অতএব, W = (0.1 × 40 × 100) / 1000 = 0.4 gপ্রস্তুতি প্রণালী:
১. রাসায়নিক নিক্তির সাহায্যে পরিষ্কার ওয়াচ গ্লাসে মেপে 0.4 গ্রাম শুষ্ক ও বিশুদ্ধ কঠিন NaOH নেওয়া হয়।
২. এরপর A চিহ্নিত কোনিক্যাল ফ্লাস্কে কিছু পরিমাণ পাতিত পানি নিয়ে ওয়াচ গ্লাসের NaOH দ্রবীভূত করা হয়। ওয়াচ গ্লাসটি পাতিত পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ধৌত পানিও ফ্লাস্কে যোগ করা হয়।
৩. কাচদণ্ড দিয়ে নেড়ে NaOH সম্পূর্ণ দ্রবীভূত করার পর ফ্লাস্কের ১০০ mL দাগ পর্যন্ত সতর্কতার সাথে পাতিত পানি যোগ করে ঝাঁকিয়ে সমসত্ত্ব দ্রবণ তৈরি করা হয়। ফলে ১০০ mL 0.1 M বা ডেসিমোলার NaOH দ্রবণ প্রস্তুত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের B হলো পিপেট, C হলো ব্যুরেট এবং D হলো আয়তনিক ফ্লাস্ক (মেথারিং ফ্লাস্ক)। এ তিনটি কাচযন্ত্রই আয়তনমিতিক বিশ্লেষণে (টাইট্রেশন প্রক্রিয়ায়) অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে:
১. D যন্ত্র (আয়তনিক ফ্লাস্ক): আয়তনমিতিক বিশ্লেষণে একটি জানা ঘনমাত্রার প্রমাণ দ্রবণ তৈরি করতে হয়। নির্দিষ্ট আয়তনের নিখুঁত প্রমাণ দ্রবণ প্রস্তুত করতে আয়তনিক ফ্লাস্ক ব্যবহার করা হয়। এর নির্দিষ্ট দাগ পর্যন্ত দ্রাবক যোগ করে কাঙ্ক্ষিত ঘনমাত্রার দ্রবণ প্রস্তুত করা হয়।
২. B যন্ত্র (পিপেট): আয়তনিক ফ্লাস্কে প্রস্তুতকৃত দ্রবণ অথবা অজ্ঞাত ঘনমাত্রার দ্রবণের নির্দিষ্ট আয়তন (যেমন- 10 mL বা 25 mL) মেপে কোনিক্যাল ফ্লাস্কে স্থানান্তরের জন্য পিপেট ব্যবহার করা হয়। পিপেটের সাহায্যে নিখুঁতভাবে নির্ধারিত আয়তনের দ্রবণ স্থানান্তর সম্ভব হয়।
৩. C যন্ত্র (ব্যুরেট): টাইট্রেশনের প্রধান কার্য সম্পন্ন করতে ব্যুরেট ব্যবহৃত হয়। ব্যুরেটে জানা ঘনমাত্রার প্রমাণ দ্রবণ বা অজ্ঞাত দ্রবণ নিয়ে স্টপককের সাহায্যে ফোঁটায় ফোঁটায় টাইট্রেশন পাত্রে (কোনিক্যাল ফ্লাস্কে) যোগ করা হয়। নির্দেশকের রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাপ্তি বিন্দু নির্ধারণ করে দ্রবণের ব্যবহৃত সঠিক আয়তন ব্যুরেটের স্কেল থেকে নির্ণয় করা হয়।
পরিশেষে, B, C এবং D যন্ত্রগুলো যথাক্রমে দ্রবণ প্রস্তুতি, নির্দিষ্ট আয়তন গ্রহণ এবং টাইট্রেশনের প্রশমন মাত্রা নির্ণয়ের কাজে সরাসরি জড়িত। তাই বলা যায়, B, C এবং D যন্ত্র আয়তনমিতিক বিশ্লেষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও