ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তির জন্ম ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখে। উক্ত তারিখে তার বাবাসহ শত শত বাঙ্গালি কে পাকিস্তানী সৈন্যরা গণহত্যা করেছিল। দুঃখের সেই স্মৃতি তাকে কাঁদায়। ছাত্র, শিক্ষক, ডাক্তার, সাংবাদিকসহ কোন বুদ্ধিজীবী গণহত্যা থেকে রেহাই পায়নি।

  1. ক)

    ছয় দফাকে উত্থাপন করে?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জয়লাভ করেছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হত্যাকাণ্ডের আলোকে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন হত্যাকাণ্ডের মিল রয়েছে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত হত্যাকাণ্ড ছিল জাতীয় মেধাশূন্য করার নীল নকশা - বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মূল কারণ ছিল বাঙালির স্বাধিকারের আকাঙ্ক্ষা এবং পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে একাত্মতা।

    বঙ্গবন্ধু প্রণীত ৬ দফা কর্মসূচিকে বাঙালি জাতি তাদের 'মুক্তির সনদ' হিসেবে গ্রহণ করেছিল। দীর্ঘ দুই দশকের অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামরিক শাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে পাকিস্তানি শাসকদের চরম অবহেলার জবাবে বাঙালিরা ব্যালটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে তাদের একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হত্যাকাণ্ডের আলোকে আমার পাঠ্যপুস্তকের ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পরিচালিত পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম 'অপারেশন সার্চলাইট' ও পরবর্তী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মিল রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের নারকীয় গণহত্যার সাথে এটি সরাসরি সম্পর্কিত।

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বর আক্রমণ শুরু করে। ওই রাতে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে নৃশংস গণহত্যা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাধারণ কর্মচারী, ডাক্তার এবং বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। উদ্দীপকে উল্লেখিত 'মার্চ মাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখে' শত শত নিরীহ বাঙালির সাথে ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যার স্মৃতি ২৫ মার্চের সেই ভয়াল কালরাতের গণহত্যার চিত্রকেই হুবহু প্রতিফলিত করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্ত হত্যাকাণ্ড (অপারেশন সার্চলাইট ও ১৯৭১-এর ধারাবাহিক বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড) ছিল মূলত বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য ও পঙ্গু করার সুপরিকল্পিত নীল নকশা—মন্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ।

    পাকিস্তানি জান্তারা বুঝতে পেরেছিল যে, বন্দুকের নল দিয়ে বাঙালি জাতিকে চিরতরে পদানত করে রাখা সম্ভব নয়। তাই তারা বাঙালির অস্তিত্বের মূলে আঘাত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের নীল নকশার দিকগুলো হলো:
    ১. নেতৃত্ব ও চিন্তাশক্তি ধ্বংস করা: বাঙালি সমাজকে দিকনির্দেশনা দিতেন শিক্ষক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদগণ। পাকিস্তানি বাহিনী ২৫ মার্চ থেকেই পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের তালিকা তৈরি করে তাদের হত্যা করতে শুরু করে।
    ২. জাতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া: একটি স্বাধীন ও উন্নত জাতি গঠনে মেধার কোনো বিকল্প নেই। পাকিস্তানিদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন হলেও যাতে তা একটি ব্যর্থ ও নেতৃত্বহীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা।
    ৩. পরাজয়ের চরম প্রতিহিংসা: ২৫ মার্চের শুরু থেকে এবং বিশেষ করে ডিসেম্বরে যুদ্ধের চূড়ান্ত পরাজয় নিশ্চিত জেনে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বধ্যভূমিতে নিয়ে হত্যা করা হয়।

    অতএব, স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ছিল বাঙালি জাতিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বহীন ও চিরতরে মেধাশূন্য করার এক সুদূরপ্রসারী ও জঘন্য চক্রান্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন