ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সালমান সাহেব একজন চেয়ারম্যান ছিলেন। তার এলাকার অধিকাংশ মানুষ ছিল ভিন্ন ধর্মাবলম্ব। তিনি বুঝতে পারলে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে অসন্তুষ্ট রেখে এলাকার উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তাই তিনি ভিন্ন ধর্মের এক রমণীকে বিয়ে করলেন এবং উক্ত সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের সুব্যবস্থা করে দিলেন। ফলে উক্ত সম্প্রদায়ের সাথে সালমান সাহেবের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- ক)(1)
কোন শব্দ থেকে মুঘল শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে?
- খ)(2)
কবুলিয়ত ও পাট্টা কি? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের কোন মোগল সম্রাটের কোন নীতির কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে?
- ঘ)(4)
উক্ত নীতির ফলাফল বিশ্লেষণ কর
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল শব্দটি মঙ্গোল (Mongol) শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘কবুলিয়ত’ ও ‘পাট্টা’ হলো শেরশাহ কর্তৃক প্রবর্তিত ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
'পাট্টা' হলো সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের অধিকার স্বীকার করে দেওয়া এমন একটি দলিল, যাতে কৃষকের জমির পরিমাণ, অবস্থান এবং প্রদেয় খাজনার পরিমাণ লিপিবদ্ধ থাকত। পক্ষান্তরে, পাট্টা গ্রহণের পর কৃষক নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব সরকারকে পরিশোধের অঙ্গীকার করে যে দলিল লিখে স্বাক্ষর করত, তাকে 'কবুলিয়ত' বলা হতো।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মুঘল সম্রাট আকবরের 'সুলহ-ই-কুল' বা পরমতসহিষ্ণুতা এবং রাজপুত নীতির কথা ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মুঘল সম্রাট আকবর উপলব্ধি করেছিলেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু প্রজাদের অসন্তুষ্ট রেখে ভারতবর্ষে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সুদৃঢ় সাম্রাজ্য গড়ে তোলা অসম্ভব। উদ্দীপকের সালমান সাহেবের মতোই আকবর অমুসলিম ও রাজপুতদের আস্থা অর্জনের জন্য রাজপুত রাজকন্যাদের বিবাহ করেন এবং তাঁদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা দেন। এছাড়া তিনি হিন্দুদের ওপর থেকে জিজিয়া ও তীর্থকর প্রত্যাহার করে সাম্রাজ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপন করেন। উদ্দীপকের সালমান সাহেবের পদক্ষেপে সম্রাট আকবরের সেই উদার ও দূরদর্শী রাজনৈতিক-ধর্মীয় নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুঘল সম্রাট আকবরের প্রবর্তিত উদার ও রাজপুত নীতির ফলাফল ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং মুঘল সাম্রাজ্যের স্থায়িত্বের জন্য ইতিবাচক।
প্রথমত, এ নীতির ফলে মুঘল সাম্রাজ্য এবং রাজপুতদের মধ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটে। আকবর বৈবাহিক সম্পর্ক এবং ধর্মীয় উদারতার মাধ্যমে রাজপুতদের সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত মিত্র ও স্তম্ভে পরিণত করেন। রাজা ভগবান দাস, মানসিংহ প্রমুখ রাজপুত বীররা মুঘল সেনাবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত হয়ে সাম্রাজ্যের প্রসারে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় সহনশীলতার ফলে হিন্দু-মুসলিম বৈরিতা হ্রাস পায় এবং একটি মিশ্র সংস্কৃতির (যাকে গঙ্গা-যমুনা সংস্কৃতি বলা হয়) বিকাশ ঘটে। এর ফলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কৃষি ও বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, আকবরের এই দূরদর্শী নীতির ফলে মুঘল সাম্রাজ্য শুধু একটি বিজেতা শক্তি হিসেবে নয়, বরং ভারতবর্ষের নিজস্ব এবং শক্তিশালী এক সাম্রাজ্য হিসেবে স্থায়িত্ব অর্জন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও