ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল শাসন • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২২

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

আশরাফ চৌধুরী পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলের অধিপতি ছিলেন। কিন্তু নিকট আত্মীয়দের ষড়যন্ত্রের কারণে ঐ রাজ্য তার হাতছাড়া হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা সুযোগ নিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজ্য আক্রমণ করেন। উন্নত রণকৌশল ও কামান ব্যবহার করে তিনি প্রতিবেশীর বিশাল সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করতে সক্ষম হন। একটি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব অর্জন করেন

  1. ক)

    হুমায়ুন কত সালে সিংহাসনে বসেন?

    (1)
  2. খ)

    ট্রাঙ্ক রোড সম্পর্কে টীকা লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের কোন শাসকের মিল খুঁজে পাওয়া যায? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে উক্ত শাসকের কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুঘল সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩০ সালে (বাবার মৃত্যুর পর) সিংহাসনে বসেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড' (Grand Trunk Road) হলো শেরশাহ শূরির নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মহাহাসড়ক। সাম্রাজ্যের যোগাযোগব্যবস্থা, সামরিক তৎপরতা ও বাণিজ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি বাংলার সোনারগাঁও থেকে সিন্ধু নদের তীরবর্তী পেশোয়ার (বর্তমান পাকিস্তান) পর্যন্ত প্রায় ১৫০০ ক্রোশ দীর্ঘ এই প্রশস্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ করেন। রাস্তার দুই পাশে ছায়াদানকারী বৃক্ষ রোপণ, নির্দিষ্ট দূরত্বে সরাইখানা, কূপ ও ডাকচৌকি স্থাপন করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের গভীর মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
    বাবর পৈতৃক সূত্রে মধ্য এশিয়ার ফরগনা রাজ্যের সিংহাসন লাভ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর নিকটাত্মীয় (চাচা ও মামা)-দের শত্রুতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি অল্প বয়সে বারবার সিংহাসনচ্যুত হয়ে রাজ্যহারা হন। পরবর্তীতে সমরকন্দ ও কাবুল হয়ে তিনি দিল্লির লোদি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করেন। উদ্দীপকেও ঠিক একইভাবে পৈতৃক ক্ষুদ্র রাজ্য হারানো এবং পরে প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সামরিক অভিযানের দিকটি ফুটে উঠেছে। অতএব, উদ্দীপকের আশরাফ চৌধুরীর সাথে সম্রাট বাবরের জীবনের হুবহু মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে সম্রাট বাবর কেবল একজন দুর্ধর্ষ সেনানায়কই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একাধারে সুকৌশলী সামরিক প্রতিভার অধিকারী এবং ভারতে মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত 'উন্নত রণকৌশল ও কামান ব্যবহার' বাবরের পানিপথের প্রথম যুদ্ধের (১৫২৬ খ্রি.) ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্যকে নির্দেশ করে। এই যুদ্ধে বাবর তুঘলমা রণকৌশল এবং ভারতে প্রথমবারের মতো কার্যকরভাবে রুমি পদ্ধতিতে সাজানো কামান ও গোলন্দাজ বাহিনী ব্যবহার করেন। এর ফলে ইব্রাহিম লোদির লক্ষাধিক সৈন্যের বিশাল বাহিনীকে মাত্র বারো হাজার সৈন্য নিয়ে বাবর শোচনীয়ভাবে পরাস্ত করেন।

    এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে লোদি বংশ তথা দিল্লি সালতানাতের পতন ঘটে এবং ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্যের সূচনা হয়। পরবর্তীতে খানুয়ার যুদ্ধ (১৫২৭ খ্রি.) ও ঘাঘরার যুদ্ধে (১৫২৯ খ্রি.) জয়লাভের মাধ্যমে তিনি সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন। অদম্য ইচ্ছা, চরম প্রতিকূলতায় অবিচলতা এবং রণকৌশলের দক্ষতার মাধ্যমে তিনি এক রাজ্যহারা নিঃস্ব ভাগ্যসন্ধানী থেকে উপমহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতায় রূপান্তরিত হন। সুতরাং, উদ্দীপকের আলোকে বাবরের কৃতিত্ব অনন্য ও অপরিসীম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন