বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

হত্যাকে উৎসব ভেবে যারা পার্কে মাঠে ক্যাম্পাসে বাজারে বিষাক্ত গ্যাসের মতো বীভৎস গন্ধ দিয়েছে ছড়িয়ে আমি তো তাদের জন্য অমন সহজ মৃত্যু করি না কামনা।

  1. ক)

    প্রিন্সিপাল কাকে তোয়াজ করতেন?

    (1)
  2. খ)

    ক্রাক ডাউনের রাত বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি 'রেইনকোট' গল্পের সঙ্গে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যাখ্যা কর ।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের একটি বিশেষ দিক প্রকাশিত হয়েছে।"- মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ কলেজের পিয়ন ইসহাক মিয়াকে তোয়াজ করতেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্র্যাক ডাউনের রাত বলতে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাতে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো অতর্কিত, বর্বরোচিত ও নির্মম গণহত্যাকে বোঝানো হয়েছে।
    'অপারেশন সার্চলাইট' নামের এই নৃশংস সামরিক অভিযানে পাকিস্তানি সেনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, পিলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে ট্যাঙ্ক, কামান ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে এবং হাজার হাজার নিরীহ বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটি এক চরমতম বিভীষিকাময় রাত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের দ্বারা পরিচালিত বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ ও গণহত্যার দিক থেকে 'রেইনকোট' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
    'রেইনকোট' গল্পে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ঢাকার বিভীষিকাময় পরিস্থিতির চিত্র আঁকা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কীভাবে শান্তি ও শৃঙ্খলার নামে সাধারণ মানুষ, শিক্ষক ও ছাত্রদের নির্বিচারে হত্যা করেছে এবং সমাজে এক সার্বক্ষণিক ভীতিকর ও দমবন্ধ পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিল, তা গল্পে উন্মোচিত হয়েছে।
    উদ্দীপকের চরণগুলোতেও বলা হয়েছে যে ঘাতকেরা হত্যাকে উৎসব মনে করে পার্ক, মাঠ, ক্যাম্পাস ও বাজারে বিষাক্ত গ্যাসের মতো বীভৎস মৃত্যু ছড়িয়ে দিয়েছে। 'রেইনকোট' গল্পেও হানাদার বাহিনীর এই নরমেধ যজ্ঞ, বিশেষ করে ক্যাম্পাস ও শহরের নানা স্থানে নারকীয় ধ্বংসলীলা চালানোর বাস্তব চিত্র রয়েছে। তাই গণমানুষের ওপর বর্বর আক্রমণের এই ভয়াল দিকটিতে উদ্দীপকটি গল্পের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকে 'রেইনকোট' গল্পের একটি বিশেষ দিক প্রকাশিত হয়েছে”—মন্তব্যটি যথাযথ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
    'রেইনকোট' গল্পে মূলত দুটি প্রধান দিক সমান্তরালভাবে উঠে এসেছে: একদিকে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর গণহত্যা, ত্রাস ও নির্মম নির্যাতনের চিত্র; অন্যদিকে সাধারণ ভীতু বাঙালির দেশপ্রেমের স্পর্শে রূপান্তর ও মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নূরুল হুদা সাধারণ ও ভীতু প্রকৃতির কলেজ শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট গায়ে চড়িয়ে অন্তরে অসীম সাহস ও দেশপ্রেম অনুভব করেন। চরম শারীরিক নির্যাতনের মুখেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তথ্য প্রকাশ না করে আত্মমর্যাদা ও সাহসের প্রতীক হয়ে ওঠেন।
    অপরদিকে উদ্দীপকে কেবল ঘাতকদের নরপশুসুলভ মানসিকতা, শিক্ষাঙ্গন ও জনপদে চালানো বীভৎস গণহত্যা এবং তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণার প্রকাশ ঘটেছে। অর্থাৎ এখানে কেবল হানাদারদের ধ্বংসলীলা ও বর্বরোচিত রূপটিই প্রাধান্য পেয়েছে। কিন্তু গল্পের মূল সুর—সাধারণ মানুষের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রূপান্তর, রেইনকোটের রূপক তাৎপর্য এবং বাঙালির মুক্তির অদম্য সংকল্প—উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।
    সুতরাং, উদ্দীপকে গল্পটির সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের বদলে কেবল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও বর্বরতার বিশেষ দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে, যা মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন