বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
1.
তথ্য-প্রযুক্তি ও বাংলাদেশ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তথ্য-প্রযুক্তি ও বাংলাদেশ
ভূমিকা:
একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি হলো বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তি। তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ এবং দ্রুত বিনিময়ের প্রযুক্তিই তথ্য-প্রযুক্তি (Information Technology বা IT) নামে পরিচিত। বিশ্বায়নের এই যুগে তথ্য-প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ বাংলাদেশকে এক নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিয়েছে।
তথ্য-প্রযুক্তির অগ্রগতি ও প্রেক্ষাপট:
কম্পিউটার, ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ তথ্য আদান-প্রদানকে অত্যন্ত সহজ ও দ্রুততর করেছে। বাংলাদেশও এই প্রযুক্তি বিপ্লব থেকে পিছিয়ে থাকেনি। সরকারের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' বাস্তবায়ন এবং বর্তমান 'স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়ার রূপরেখা তথ্য-প্রযুক্তি খাতের সামগ্রিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছে।
বাংলাদেশে তথ্য-প্রযুক্তির বহুমুখী ব্যবহার:
১. শিক্ষা ক্ষেত্র: মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম, ই-বুক এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বিপ্লব ঘটিয়েছে।
২. স্বাস্থ্যসেবা: টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে দূরদূরান্তের রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. অর্থনীতি ও ব্যাংকিং: মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি), অনলাইন ব্যাংকিং ও ই-কমার্সের বিস্তার দেশের অর্থনীতিকে ক্যাশলেস সমাজের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
৪. সরকারি সেবা: জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জমির ই-নামজারি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এখন ঘরে বসেই সম্ভব হচ্ছে।
৫. ফ্রিল্যান্সিং ও কর্মসংস্থান: তথ্য-প্রযুক্তির দক্ষতায় তরুণ সমাজ ঘরে বসেই বিশ্ববাজারে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।
মহাকাশে বাংলাদেশ:
২০১৮ সালে নিজস্ব স্যাটেলাইট 'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১' উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ব মহাকাশ গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্লাবে ৫৭তম দেশ হিসেবে গৌরবের স্থান অর্জন করে।
চ্যালেঞ্জসমূহ:
তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। যেমন—সাইবার নিরাপত্তা ও জালিয়াতি, অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো, তরুণ প্রজন্মের ইন্টারনেট আসক্তি এবং শহর ও গ্রামের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য।
উপসংহার:
বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে তথ্য-প্রযুক্তির সঠিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি স্বনির্ভর, আধুনিক ও স্মার্ট জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে—এটাই প্রত্যাশা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও