বাংলা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
7.1.
করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে সতর্কতা বিষয়ে দুই শিক্ষার্থীর সংলাপ রচনা করো।
7.2.
অথবা, প্রদত্ত গল্পসংকেত অনুসরণে একটি ক্ষুদেগল্প রচনা করো:
ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় কথাটি কতটুকু বাস্তব তার প্রমাণ আমাদের গাঁয়ের মেয়ে সুমনা....
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
৭.১. করোনাভাইরাসের বিস্তাররোধে সতর্কতা বিষয়ে দুই শিক্ষার্থীর সংলাপ:
স্থান: কলেজের প্রাঙ্গণ
চরিত্র: তানভীর ও ফাহিম (উভয়েই দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী)
তানভীর: শুভ সকাল ফাহিম! কেমন আছ?
ফাহিম: শুভ সকাল তানভীর। ভালো আছি, তবে ইদানীং করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বৃদ্ধির খবরে বেশ চিন্তিত আছি।
তানভীর: ঠিক বলেছ ফাহিম। আমরা প্রায় সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা ভুলে যাচ্ছি, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
ফাহিম: একদম সত্যি। অথচ করোনা বিস্তাররোধে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বাইরে বের হলে সঠিকভাবে মাস্ক পরা।
তানভীর: হ্যাঁ, মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি সাবান-পানি দিয়ে নিয়মিত অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়া কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা জরুরি।
ফাহিম: শুধু তাই নয়, জনাকীর্ণ স্থান এড়িয়ে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব অর্থাৎ অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখাও আবশ্যক।
তানভীর: তাছাড়া যাদের এখনো টিকার ডোজ বা বুস্টার ডোজ নেওয়া বাকি, তাদের দ্রুত টিকা গ্রহণ করা উচিত। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি এবং তীব্রতা অনেকাংশে কমে যায়।
ফাহিম: খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছ। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা এবং কারও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত আইসোলেশনে থেকে পরীক্ষা করানো দরকার।
তানভীর: আমরা নিজেরা সতর্ক হব এবং আমাদের সহপাঠী ও পরিবারের সবাইকে এই স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করব।
ফাহিম: নিশ্চয়ই। সচেতনতাই পারে আমাদের এই মহামারি থেকে সুরক্ষিত রাখতে। চলো, ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।
তানভীর: হ্যাঁ, চলো যাই। ভালো থেকো।
অথবা,
৭.২. ক্ষুদেগল্প: অদম্য সুমনা
ইচ্ছে থাকলে উপায় হয় কথাটি কতটুকু বাস্তব তার প্রমাণ আমাদের গাঁয়ের মেয়ে সুমনা। নদীভাঙনকবলিত এক প্রত্যন্ত গ্রামের দিনমজুর বাবার বড় মেয়ে সে। অভাব-অনটন ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। সুমনার যখন এসএসসি পরীক্ষা ঘনিয়ে আসছিল, তখন তার বাবার গুরুতর অসুস্থতার কারণে পরিবারে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। পড়াশোনা তো দূরের কথা, দুমুঠো ভাত জোগাড় করাই যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে গ্রামবাসী অনেকেই ভেবেছিল সুমনার হয়তো বাল্যবিয়ে হয়ে যাবে।
কিন্তু সুমনার চোখে ছিল আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এক অদম্য স্বপ্ন। সে দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে সকালে নিজের পড়ার ফাঁকে পাশের বাড়ির শিশুদের টিউশনি শুরু করল। ছুটির দিনে স্থানীয় এক হস্তশিল্প কেন্দ্রে গিয়ে সেলাইয়ের কাজ করে সামান্য কিছু অর্থ উপার্জন করত। ভাঙা কুটিরে কুপি জ্বালিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেত সে। সুমনার এই একাগ্রতা দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও তার বেতন মওকুফ করে দেন এবং প্রয়োজনীয় বইপত্র দিয়ে সহায়তা করেন।
কঠোর পরিশ্রম ও প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে সে বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সুমনা গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে। তার এই সাফল্য পুরো এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান করা হয়। সুমনা আজ একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যয়নরত। প্রতিকূলতাকে জয় করে সে প্রমাণ করেছে—দৃঢ় সংকল্প ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই মানুষকে আটকে রাখতে পারে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও