পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • দেশপ্রেম ও জাতীয়তা • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
অধ্যাপক Q একাদশ শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে জাতি, জাতীয়তা এবং জাতীয়তার উপাদানগুলো সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তিনি জাতি ও জাতীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের উদাহরণ তুলে ধরেন।
- ক)(1)
Natus শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
জাতীয় রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন দুটি বিষয়ের ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত জাতীয়তার উপাদানগুলো চিহ্নিত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'Natus' শব্দের অর্থ হলো জন্ম বা জন্মসূত্র (born বা birth)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী কোনো জনসমাজ যখন নিজেদের অভিন্ন জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলে, তখন তাকে জাতীয় রাষ্ট্র (Nation State) বলে। অর্থাৎ, একটি জাতি যখন নিজস্ব সার্বভৌমিকতা অর্জন করে রাষ্ট্রে রূপ নেয়, তাই হলো জাতীয় রাষ্ট্র; যেমন—বাংলাদেশ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'জাতি' (Nation) এবং 'জাতীয়তা' (Nationality)—এই দুটি মৌলিক বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
জাতীয়তা হলো মূলত এক ধরনের মানসিক ধারণা বা অনুভূতি, যার ফলে একটি নির্দিষ্ট জনসমাজ নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সূত্রে অন্যান্য জনসমাজ থেকে আলাদা মনে করে। অপরদিকে, জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কোনো জনগোষ্ঠী যখন রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বা স্বাধীন হতে চায়, তখন তাকে জাতি বলা হয়।
উদ্দীপকে অধ্যাপক Q একাদশ শ্রেণির ক্লাসে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জনের যে প্রক্রিয়ার উদাহরণ দিয়েছেন, তা জাতীয়তা থেকে জাতিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়াই তুলে ধরে। সুতরাং, উদ্দীপকে জাতি ও জাতীয়তার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয়তা গঠনে যেসব উপাদানের ভূমিকা রয়েছে, তা বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রেক্ষাপটের আলোকে জাতীয়তার প্রধান উপাদানগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভৌগোলিক ঐক্য: নির্দিষ্ট কোনো ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন একত্রে বসবাসের ফলে মানুষের মধ্যে একাত্মতা গড়ে ওঠে, যেমনটি বাঙালিরা বাংলা ভূখণ্ডে গড়ে তুলেছিল।
২. ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্য: একই ভাষায় কথা বলা এবং অভিন্ন সংস্কৃতি মানুষের মনস্তাত্ত্বিক বন্ধনকে দৃঢ় করে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়েছিল।
৩. ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যের ঐক্য: একটি জনসমষ্টির অতীত ইতিহাস, সুখ-দুঃখের স্মৃতি ও সংগ্রামের অভিন্ন ইতিহাস জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি করে। দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শোষণ ও মুক্তির সংগ্রাম বাঙালিদের একতাবদ্ধ করেছিল।
৪. রাজনৈতিক চেতনা ও রাষ্ট্রাকাঙ্ক্ষা: জাতীয়তার অন্যতম প্রধান উপাদান হলো স্বাধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা। স্বাধিকার আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিরা এই রাজনৈতিক চেতনার চূড়ান্ত বিকাশ ঘটিয়েছিল।পরিশেষে বলা যায়, ভাষা, সংস্কৃতি, ভূখণ্ড ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা গভীর মানসিক ঐক্যই হলো উদ্দীপকে বর্ণিত জাতীয়তার মূল উপাদান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও