পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ • আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
সালেহা একটি সূতা তৈরির মিলে কাজ করে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা ডিউটি করার পর অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা অভারটাইম করে। অথচ মাস শেষে বেতন তুলতে গেলে কর্তৃপক্ষ তার অভারটাইমের মজুরী পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় কম হারে মজুরী প্রদান করে। সালেহা প্রতিবাদ করলে মালিক পক্ষ তাকে চাকরী থেকে ছাটাইয়ের হুমকি দেয়। সালেহা সকল শ্রমিককে সংগটিত করে গার্মেন্টস মালিক সমিতির নিকট অভিযোগ করে। মালিক সমিতি শ্রমিকদের চাপে পরে বিষয়টি সমাধান করেন।
- ক)(1)
স্বাধীনতা কী?
- খ)(2)
মানবাধিকার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সালেহা কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা মোকাবিলায় সালেহার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে নিজের ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো কাজ করার ক্ষমতাকে বোঝায়; তবে পৌরনীতিতে স্বাধীনতা হলো অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবাধিকার হলো মানুষের জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্য সেই সব অধিকার, যা একজন মানুষের আত্মবিকাশ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ জন্মসূত্রে এসব অধিকার লাভ করে। জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র (১৯৪৮)-এ এই অধিকারগুলোর স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সালেহা 'অর্থনৈতিক সাম্য' (Economic Equality) থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় যোগ্যতা ও কাজ অনুযায়ী উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার সুযোগ, জীবিকা নির্বাহের উপযুক্ত পরিবেশ এবং কোনো প্রকার অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্য না থাকা। বিশেষ করে নারী ও পুরুষের সমান কাজের জন্য সমান মজুরি পাওয়া অর্থনৈতিক সাম্যের একটি মৌলিক নীতি।
উদ্দীপকে সালেহা পুরুষ শ্রমিকদের মতোই প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা নিয়মিত কাজের পর অতিরিক্ত ২ ঘণ্টা ওভারটাইম কাজ করে। কিন্তু মাস শেষে কর্তৃপক্ষ তাকে পুরুষ সহকর্মীদের তুলনায় কম মজুরি দেয়। একই পরিশ্রম ও একই কাজ করা সত্ত্বেও লিঙ্গভেদে পারিশ্রমিকে এই বৈষম্য অর্থনৈতিক সাম্যের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই বলা যায়, সালেহা অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা মোকাবিলায় সালেহার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সাহসী, বলিষ্ঠ ও প্রশংসনীয়।
শ্রমক্ষেত্রে নারীরা প্রায়ই বৈষম্য ও শোষণের শিকার হন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চাকরি হারানোর ভয়ে অনেকেই তা নীরবে সহ্য করেন। কিন্তু সালেহা অন্যায় মেনে নেয়নি। সালেহার ভূমিকার ইতিবাচক দিকগুলো নিম্নরূপ:
১. অন্যায়ের প্রতিবাদ: চাকরিচ্যুতির হুমকি পাওয়ার পরও সে আপস না করে নিজের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় রুখে দাঁড়িয়েছে।
২. শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ করা: সে একাকী বিচ্ছিন্ন আন্দোলন না করে অন্যান্য সহকর্মীদের সংগঠিত করেছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের অন্যতম কার্যকর কৌশল।
৩. নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় দাবি পেশ: সালেহা কোনো ধ্বংসাত্মক পথ না বেছে গার্মেন্টস মালিক সমিতির নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পেশ করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়।
৪. সফলতা অর্জন: সালেহার সুসংগঠিত ভূমিকার কারণে মালিক সমিতি বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে বাধ্য হয় এবং তার অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।পরিশেষে বলা যায়, নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য নিরসনে সালেহার সচেতনতা, সাহসিকতা এবং নেতৃত্বমূলক সাংগঠনিক ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক ও অনুকরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও