জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
ইক্ষু উদ্ভিদ কার্বন বিজারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি তৈরির প্রধান কাঁচামাল উৎপাদন করে। উক্ত কাঁচামাল অন্য একটি শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় আবার জৈব মুদ্রায় পরিণত হয়।
- ক)(1)
RQ কী?
- খ)(2)
সবাত শ্বসনের শেষ ধাপে অক্সিজেন প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের কাঁচামাল তৈরির প্রক্রিয়াটি বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া দুইটির মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্বসন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইডের আয়তন এবং ব্যবহৃত অক্সিজেনের আয়তনের অনুপাতকে শ্বসনিক অনুপাত বা Respiratory Quotient (RQ) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সবাত শ্বসনের শেষ ধাপ হলো ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইন (ETC) বা অক্সিডেটিভ ফসফোরাইলেশন। এই ধাপে বিভিন্ন ইলেকট্রন বাহকের মধ্য দিয়ে উচ্চ শক্তি সম্পন্ন ইলেকট্রন স্থানান্তরিত হয়ে মুক্ত শক্তি ব্যবহার করে ATP তৈরি করে। স্থানান্তরিত এই মুক্ত ইলেকট্রন এবং প্রোটন (H+) গ্রহণ করার জন্য চূড়ান্ত গ্রাহক হিসেবে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। ইলেকট্রন ও প্রোটনের সাথে অক্সিজেন যুক্ত হয়ে পানি (H2O) উৎপন্ন করে। অক্সিজেন না থাকলে ইলেকট্রন প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং সামগ্রিক সবাত শ্বসন ব্যাহত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত শক্তি তৈরির প্রধান কাঁচামালটি হলো কার্বোহাইড্রেট বা গ্লুকোজ, যা ইক্ষু উদ্ভিদে C4 গতিপথ (হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র)-এর মাধ্যমে উৎপন্ন হয়।
প্রক্রিয়াটির ধাপসমূহ নিচে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:
১. মেসোফিল কোষে বায়ুমণ্ডলের CO2 গ্রহণ করে ৩-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোএনল পাইরুভিক অ্যাসিড (PEP) কার্বক্সিলেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (OAA) গঠন করে।
২. অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড বিজারিত হয়ে ম্যালিক অ্যাসিড বা অ্যাসপার্টিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়।
৩. এই ম্যালিক অ্যাসিড প্লাজমোডেসমাটার মাধ্যমে বান্ডল সিথ কোষে প্রবেশ করে।
৪. বান্ডল সিথে ম্যালিক অ্যাসিড ডিকার্বক্সিলেশনের মাধ্যমে ১ অণু CO2 ও ৩-কার্বনবিশিষ্ট পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি করে।
৫. নির্গত CO2 বান্ডল সিথের ক্লোরোপ্লাস্টে প্রবেশ করে এবং কেলভিন চক্রের (C3 গতিপথ) মাধ্যমে শর্করা বা গ্লুকোজ উৎপন্ন করে।
৬. উৎপাদিত ৩-কার্বনবিশিষ্ট পাইরুভিক অ্যাসিড পুনরায় মেসোফিল কোষে ফিরে আসে এবং ATP ব্যবহারের মাধ্যমে ফসফোএনল পাইরুভিক অ্যাসিড পুনরুৎপাদন করে চক্রটিকে সচল রাখে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া দুইটি হলো যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ (যা কাঁচামাল গ্লুকোজ তৈরি করে) এবং শ্বসন (যা গ্লুকোজ ভেঙে ATP বা জৈব মুদ্রা তৈরি করে)। এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রক্রিয়ার প্রকৃতি: সালোকসংশ্লেষণ একটি উপচিতিমূলক (Anabolic) প্রক্রিয়া, যেখানে জৈব যৌগ সংশ্লেষিত হয়। অন্যদিকে শ্বসন একটি অপচিতিমূলক (Catabolic) প্রক্রিয়া, যেখানে জটিল খাদ্য ভেঙে সহজ উপাদানে পরিণত হয়।
২. সংঘটনের স্থান: সালোকসংশ্লেষণ শুধুমাত্র ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত সজীব কোষে ঘটে। কিন্তু শ্বসন সকল সজীব কোষে (সাইটোপ্লাজম ও মাইটোকন্ড্রিয়া) সম্পন্ন হয়।
৩. শক্তির রূপান্তর: সালোকসংশ্লেষণে সৌরশক্তি রাসায়নিক স্থিতিশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে গ্লুকোজের মধ্যে সঞ্চিত হয়। শ্বসনে খাদ্যের স্থিতিশক্তি ভেঙে গতিশক্তি ও ATP-তে সংরক্ষিত রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
৪. গ্যাসীয় বিনিময়: সালোকসংশ্লেষণে CO2 ব্যবহৃত হয় এবং O2 নির্গত হয়। শ্বসন প্রক্রিয়ায় সাধারণত O2 ব্যবহৃত হয় এবং CO2 নির্গত হয়।
৫. শুষ্ক ওজন: সালোকসংশ্লেষণের ফলে কোষের ও উদ্ভিদের শুষ্ক ওজন বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে শ্বসনের ফলে জীবদেহের শুষ্ক ওজন হ্রাস পায়।
৬. আলোর প্রয়োজনীয়তা: সালোকসংশ্লেষণ মূলত সূর্যালোকের উপস্থিতিতে সংঘটিত হয়, কিন্তু শ্বসন প্রক্রিয়া আলো ও অন্ধকার উভয় অবস্থাতেই অবিরাম চলতে থাকে।সুতরাং, প্রক্রিয়া দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী হলেও জীবজগতে শক্তির অবিচ্ছিন্ন প্রবাহ রক্ষায় পরস্পর পরিপূরক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও