বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
রত্না এবং রতনের দাম্পত্য জীবন বেশ সুখে-শান্তিতেই কাটছিল। কিন্তু বিনা মেঘে বজ্রপাতের ন্যায় মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল রতন। কালের বিবর্তনে জীবন নামের একজন ভালো মানুষের সাথে রত্নার পুনরায় বিয়ে হলেও প্রথম স্বামীর স্মৃতি একমুহূর্তের জন্যেও ভুলতে পারেনি সে। কেননা, প্রথম স্বামী ছিল তার সকল কাজের সহযোগী ও প্রেরণাদাতা। প্রতি বসন্তে রত্না তাই প্রথম স্বামীর কথা বিশেষভাবে স্মরণ করে নীরবে কাঁদে। কারণ, তার ভালোবাসার মানুষটি বসন্তকালের পূর্বলগ্নেই তাকে ছেড়ে চির বিদায় নিয়েছে।
- ক)(1)
"কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি"- কার কথা বলা হয়েছে?
- খ)(2)
"পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার বিষয়বস্তু ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে। বুঝিয়ে লেখো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের রত্না আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির কষ্ট একসূত্রে গাঁথা"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি"—এখানে কবি সুফিয়া কামালের কথা বলা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে" বলতে শীতের রিক্ততা ও প্রিয়জন হারানোর ফলে কবির অন্তরের চরম শূন্যতাকে বোঝানো হয়েছে।
শীতকালে প্রকৃতি যেমন ফুল-ফল ও পত্রহীন হয়ে রিক্ত ও শ্রীহীন রূপ ধারণ করে, তেমনি কবি সুফিয়া কামালের স্বামী ও প্রেরণার মানুষ সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যুর পর কবির হৃদয়ও এক গভীর হাহাকার ও আনন্দহীন রিক্ততায় পূর্ণ হয়ে যায়। শীতের বিদায়ের মধ্য দিয়ে এই শূন্যতাই কবির চিত্তে ফুটে উঠেছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার প্রিয়জন হারানোর বেদনা ও স্মৃতিকাতরতার বিষয়টি বাস্তব পারিবারিক জীবনের পুনর্জীবন ও শোকের ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হয়েছে।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের শোক এবং প্রকৃতির বসন্ত আগমনের বৈপরীত্য প্রকাশিত হয়েছে। কবির স্বামী ও কাব্যসাধনার প্রেরণা সৈয়দ নেহাল হোসেনের অকাল প্রয়াণে কবি বসন্তের আগমন সত্ত্বেও কাব্য সৃষ্টি ও উদযাপনে উদাসীন থাকেন।
উদ্দীপকে রত্নার জীবনেও তার প্রথম স্বামী ছিল সকল কাজের সহযোগী ও প্রেরণার উৎস। তার মৃত্যুর পর রত্নার নতুন করে বিয়ে হলেও প্রথম স্বামীর স্মৃতি ও তাকে হারানোর শোক সে মুছে ফেলতে পারেনি। কবিতায় কবি তাঁর শোক প্রকাশ করেছেন কাব্য রচনায় অনীহা ও প্রকৃতির উৎসবকে উপেক্ষা করে, অন্যদিকে উদ্দীপকে রত্নার দাম্পত্য জীবনে পুনরায় বিয়ে হওয়ার পরেও বসন্ত এলেই প্রথম স্বামীর কথা মনে করে গোপনে কাঁদার মাধ্যমে বিষয়টি পার্থিব জীবনের এক ভিন্ন আঙ্গিকে প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের রত্না আর 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতার কবির কষ্ট একসূত্রে গাঁথা"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণ সত্য ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতায় কবি সুফিয়া কামাল তাঁর স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনকে হারিয়ে অন্তহীন বিষাদে নিমজ্জিত। বসন্তকাল প্রকৃতির রূপ-রস-লাবণ্য নিয়ে এলেও কবির অন্তর জুড়ে কেবল শূন্যতা ও হাহাকার বিরাজ করে। কারণ তাঁর সাহিত্যচর্চার প্রথম উৎসাহদাতা ছিলেন তাঁর প্রয়াত স্বামী, যাঁর বিচ্ছেদ কবি কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারেন না।
উদ্দীপকের রত্নার জীবনের ঘটনাও একই বেদনার প্রতিচ্ছবি। প্রথম স্বামী ছিল রত্নার জীবনের অনুপ্রেরণা ও পরম সঙ্গী। বসন্তের পূর্বমুহূর্তে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে রত্নার অন্তরে যে শূন্যতা তৈরি হয়, তা পরবর্তীতে নতুন দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ করেও দূর হয়নি। প্রতিটি বসন্ত এলেই রত্না তার হারানো স্বামীর স্মরণে অশ্রুসিক্ত হয়।
উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রিয়তম ব্যক্তি কেবল ভালোবাসার মানুষই ছিলেন না, ছিলেন প্রেরণার মূল উৎস। দুজনের কষ্টই বসন্তকালে প্রিয়জনকে হারানোর তীব্র স্মৃতিকাতরতায় নতুন করে জেগে ওঠে। তাই তাদের অনুভূতির এই একাত্মতার কারণে বলা যায়, উদ্দীপকের রত্না ও কবিতার কবির শোকের সুর একই সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও