অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
"বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি" শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় একজন বক্তা আশা প্রকাশ করলেন, বাংলাদেশ অচিরেই খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে। তিনি বললেন, এদেশে প্রায় ১৮.৭৫ লক্ষ একর জমি এখনও অনাবাদি রয়েছে। বক্তব্যে তিনি নিম্নের তথ্যও তুলে ধরলেন:

- ক)(1)
বিশ্বায়ন কী?
- খ)(2)
সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের প্রভাব কেমন?
- গ)(3)
বক্তার প্রদত্ত তথ্য স্তম্ভচিত্র এঁকে দেখাও।
- ঘ)(4)
তুমি কি বস্তার আশাবাদের সাথে একমত? প্রদত্ত তথ্যের আলোকে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে সমগ্র বিশ্বের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আন্তঃনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে বিশ্বায়ন (Globalization) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের প্রভাব বহুমুখী—ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের। ইতিবাচক দিক হলো, বিশ্বায়নের ফলে বিভিন্ন দেশের সাহিত্য, শিল্পকলা, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সহজে পরিচিত হওয়া যায় এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান সমৃদ্ধ হয়। অন্যদিকে এর নেতিবাচক দিক হিসেবে শক্তিশালী সংস্কৃতির আধিপত্যের ফলে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজস্ব লোকসংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ কোণঠাসা হয়ে পড়ছে এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বা অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বক্তার প্রদত্ত তথ্যের আলোকে স্তম্ভচিত্র (Bar Diagram) অঙ্কন:
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী:
- ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে: খাদ্যশস্য উৎপাদন = ৩২৯ লক্ষ মেট্রিক টন, খাদ্যশস্য আমদানি = ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন।
- ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে: খাদ্যশস্য উৎপাদন = ৩৪১ লক্ষ মেট্রিক টন, খাদ্যশস্য আমদানি = ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন।
অঙ্কন পদ্ধতি:
১. ভূমির অক্ষে (X-অক্ষ) অর্থবছর (২০০৮-২০০৯ এবং ২০০৯-২০১০) নির্দেশ করা হয়।
২. উল্লম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) উপযুক্ত স্কেল নিয়ে খাদ্যশস্যের পরিমাণ (লক্ষ মেট্রিক টন) নির্দেশ করা হয় (যেমন: প্রতি ১ সেমি = ৫০ লক্ষ মেট্রিক টন)।
৩. প্রতিটি অর্থবছরের জন্য পাশাপাশি দুটি ভিন্ন শেড বা রঙের স্তম্ভ (যৌগিক স্তম্ভচিত্র) আঁকা হয়—একটি উৎপাদনের জন্য এবং অন্যটি আমদানির জন্য।চিত্রের বিবরণ:
- ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে উৎপাদনের স্তম্ভটির উচ্চতা হবে ৩২৯ একক এবং আমদানির স্তম্ভটির উচ্চতা হবে ৩০ একক।
- ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে উৎপাদনের স্তম্ভটি বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৩৪১ একক এবং আমদানির স্তম্ভটি হ্রাস পেয়ে হবে ১৮ একক।
এভাবে অঙ্কিত স্তম্ভচিত্রের মাধ্যমে খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমদানির ক্রমহ্রাসমান ধারা সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি বক্তার এই আশাবাদের সাথে একমত যে, বাংলাদেশ অচিরেই খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারে।
প্রদত্ত তথ্যের আলোকে নিম্নোক্ত যুক্তিসমূহ তুলে ধরা হলো:
১. অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি: উদ্দীপকের সারণি থেকে দেখা যায়, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ৩২৯ লক্ষ মেট্রিক টন, যা ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪১ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খাদ্য উৎপাদন ১২ লক্ষ মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. আমদানির ক্রমহ্রাসমান ধারা: উৎপাদন বৃদ্ধির ফলস্বরূপ খাদ্যশস্য আমদানি হ্রাস পেয়েছে। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে যেখানে খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছিল ৩০ লক্ষ মেট্রিক টন, সেখানে ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৮ লক্ষ মেট্রিক টনে (১২ লক্ষ মেট্রিক টন হ্রাস)। এটি প্রমাণ করে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
৩. অনাবাদি জমির যথাযথ ব্যবহার: বক্তার বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশে এখনও প্রায় ১৮.৭৫ লক্ষ একর জমি অনাবাদি রয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, সার ও সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে এই বিপুল পরিমাণ অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনতে পারলে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বহুগুণ বেড়ে যাবে।অতএব, বর্ধিত উৎপাদন দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্পূর্ণরূপে সম্ভব। সুতরাং বক্তার আশাবাদ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও