বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
বাংলার "রেনেসাঁ" কী?
- খ)(2)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কেন বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বলা হয়?
- গ)(3)
চিত্র-১ এ প্রদর্শিত ব্যক্তির ভূমিকা "আধুনিক সমাজ নির্মাণে অনস্বীকার্য"- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নারী শিক্ষার প্রসারে চিত্র-২' এ প্রদর্শিত ব্যক্তির অবদান বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে বাংলার সমাজ, ধর্ম, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে যে নতুন চেতনা ও জাগরণ দেখা দেয়, তাকেই বাংলার রেনেসাঁ বা নবজাগরণ বলা হয়।
- খ)
বাংলা ভাষায় উন্নতমানের পাঠ্যপুস্তকের অভাব দেখে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর গদ্যসাহিত্য রচনা শুরু করেন। তিনি বাংলা গদ্যকে নবজীবন দান করেন।
শিশুদের পড়া সহজ করতে তিনি ‘বর্ণ পরিচয়’-এর প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ এবং সংস্কৃত শিক্ষা সহজ করতে ব্যাকরণের ‘উপক্রমণিকা’ রচনা করেন। এছাড়া তিনি অনেক গ্রন্থ অনুবাদও করেন। বাংলা গদ্যের এই ভিত্তি গড়ে দেওয়ার কারণেই তাঁকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বলা হয়।
- গ)
চিত্র-১ এ প্রদর্শিত ব্যক্তি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর কর্মকাণ্ড বাংলার আধুনিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যেমন :
১. সমাজ-সংস্কার : তিনি কন্যাশিশু হত্যা ও বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন এবং হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়।
২. শিক্ষা বিস্তার : তিনি সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার করেন, বাংলা শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন করেন এবং ২০টি মডেল স্কুল ও ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশন (বর্তমান বিদ্যাসাগর কলেজ) তাঁর উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
৩. সাহিত্য ও মানবসেবা : তিনি বাংলা গদ্যকে নবজীবন দেন। দান-দাক্ষিণ্যের জন্য তাঁকে ‘দয়ার সাগর’ বলা হতো।এসব কাজের মাধ্যমে কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ আধুনিক ও মানবিক হয়ে ওঠার পথ পায়। তাই আধুনিক সমাজ নির্মাণে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- ঘ)
চিত্র-২ এ প্রদর্শিত ব্যক্তি বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। নারীশিক্ষার প্রসারে তিনি ছিলেন অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এক মহীয়সী নারী। তাঁর অবদান নিম্নরূপ :
১. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন : স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ভাগলপুরে স্বামীর নামে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে কলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন, যা ১৯৩১ সালে উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এর প্রধান শিক্ষিকা ও সুপারিনটেনডেন্ট ছিলেন।
২. সংগঠন প্রতিষ্ঠা : ১৯১৬ সালে তিনি কলকাতায় ‘আঞ্জুমান খাওয়াতিনে ইসলাম’ (মুসলিম মহিলা সমিতি) প্রতিষ্ঠা করেন। এর মাধ্যমে নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা সম্ভব হয়।
৩. লেখনীর মাধ্যমে সচেতনতা : ‘অবরোধবাসিনী’, ‘পদ্মরাগ’, ‘মতিচুর’, ‘সুলতানার স্বপ্ন’ প্রভৃতি গ্রন্থে তিনি নারীর বঞ্চনা ও সমাজের কুসংস্কারের চিত্র তুলে ধরেন।সুতরাং, পর্দাপ্রথার বন্দিদশা থেকে মুসলমান নারীদের মুক্তির পথ দেখিয়ে এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে রোকেয়া নারীশিক্ষার প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও