হিন্দু ধর্ম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
নিখিল রায় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে এক বিশেষ সংস্কারের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি নমিতা রায়ের সমগ্র জীবনের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। লিখিল রায় এ সংস্কারে কন্যা পক্ষ থেকে কোনো প্রকার উপঢৌকন গ্রহণ করেননি।
- ক)(1)
সংস্কার কাকে বলে?
- খ)(2)
দেহ-শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানটি ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
নিখিল রায় কোন সংস্কারের আয়োজন করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নিখিল রায়ের উপঢৌকন গ্রহণ না করার যৌক্তিকতা তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ঐতিহ্য অনুসরণ করে হিন্দুদের সমগ্র জীবনে যেসব মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান পালন করা হয়, সেগুলোকে সংস্কার বলে।
- খ)
বিবাহের আগে অনুষ্ঠিত গায়ে হলুদ বা গাত্র হরিদ্রা মূলত দেহশুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান। এতে বর বা কনেকে আসনে বসিয়ে বড়রা ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করে এবং ছোটরা গালে, কপালে ও হাতে হলুদ মাখিয়ে দেয়। কাঁচা হলুদের সাথে মেথি, সরিষা, চন্দন প্রভৃতি সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে থাকে। সুদৃঢ় বিবাহিত জীবন ও নবদম্পতির সুখ-শান্তি কামনাই এর উদ্দেশ্য।
- গ)
নিখিল রায় বিবাহ সংস্কারের আয়োজন করেছেন।
ধারণা : হিন্দুশাস্ত্রে দশবিধ সংস্কারের মধ্যে বিবাহ শ্রেষ্ঠ। ‘বিবাহ’ শব্দের অর্থ বিশেষরূপে ভারবহন করা। বিবাহের ফলে পুরুষকে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও মানসম্ভ্রম রক্ষার সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। হিন্দু বিবাহ কোনো চুক্তি নয়, এটি জীবনের শ্রেষ্ঠ সংস্কারমূলক অধ্যায়, যা আত্মীয়-অতিথিদের সাক্ষী রেখে মঙ্গলমন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
উদ্দীপকের সাথে প্রয়োগ : নিখিল রায় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে বিশেষ সংস্কারের আয়োজন করেছেন এবং সেখানে নমিতা রায়ের সমগ্র জীবনের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এটি বিবাহের ধারণার সাথে হুবহু মিলে যায়, কারণ বিবাহে স্বামী স্ত্রীর সার্বিক দায়িত্ব বহন করেন। তাছাড়া আত্মীয়-প্রতিবেশীর উপস্থিতি বিবাহের সামাজিক স্বীকৃতির বৈশিষ্ট্য।
অতএব, নিখিল রায় বিবাহ সংস্কারের আয়োজন করেছেন।
- ঘ)
নিখিল রায়ের কন্যাপক্ষ থেকে উপঢৌকন বা পণ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
ধারণা : কন্যাকে পাত্রস্থ করার সময় বরপক্ষকে নগদ অর্থ বা সম্পদ দিতে হলে তাকে পণ বা যৌতুক বলে। পাঠ্যবইয়ে এটিকে অধর্ম ও সামাজিক ব্যাধি বলা হয়েছে।
১. বিবাহের পবিত্রতা রক্ষা : হিন্দু বিবাহ জীবনের শ্রেষ্ঠ সংস্কার, কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি নয়। উপঢৌকন নিলে এই পবিত্র সংস্কার অর্থলেনদেনের বিষয়ে পরিণত হয়। নিখিল তা না নিয়ে পবিত্রতা বজায় রেখেছেন।
২. সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে অবস্থান : পণ গ্রহণ ও প্রদান উভয়ই সমান অপরাধ। এর মূলে অশিক্ষা, অসচেতনতা ও পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। নিখিল এসব কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন।
৩. আইনের প্রতি শ্রদ্ধা : বর্তমান সমাজব্যবস্থায় পণপ্রথা নিন্দনীয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। পণ না নিয়ে তিনি আইন মেনেছেন।
৪. নারীর মর্যাদা ও সামাজিক কল্যাণ : নমিতার সমগ্র জীবনের দায়িত্ব গ্রহণকারী স্বামী যদি আর্থিক লাভের আশা না করেন, তবে নারী সম্মানিত হয় এবং কন্যার পরিবার অযথা চাপে পড়ে না। পণপ্রথা নির্মূলে এ ধরনের দৃষ্টান্ত সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।সুতরাং, নিখিল রায়ের উপঢৌকন গ্রহণ না করা ধর্মীয়, নৈতিক, সামাজিক ও আইনগত—সব দিক থেকেই যৌক্তিক ও অনুকরণীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও