পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব রশিদ একটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী। দায়িত্ব নেবার পর তিনি সংগঠনটি পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা তৈরি করেন। সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও অন্যান্য সংগঠনের নীতিমালা পর্যালোচনা করে নীতিমালাটি তৈরি করা হয়। নীতিমালায় সদস্যদের অধিকার ও কর্তব্য, সংগঠন পরিচালনার মূলনীতি লিপিবদ্ধ করা হয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ রেখে নীতিমালাটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করা হয়েছে।
- ক)(1)
স্থানীয় শাসন কাকে বলে?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার কেন প্রয়োজন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিমালার সাথে বাংলাদেশ সংবিধান প্রতিষ্ঠার পদ্ধতিগত মিল কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত নীতিমালাটির সংশোধন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীনে নিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের শাসনকার্য পরিচালনা করাকে স্থানীয় শাসন (Local Administration) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ, মর্যাদা রক্ষা এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য মৌলিক অধিকার অপরিহার্য। মৌলিক অধিকারের উপস্থিতি রাষ্ট্র বা সরকারের স্বেচ্ছাচারিতা প্রতিরোধ করে এবং সংবিধানে এটি সুরক্ষিত থাকায় নাগরিকরা নির্ভয়ে তাদের মতামত প্রকাশ, ন্যায়বিচার লাভ ও সাম্য বজায় রাখতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিমালার সাথে বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন ও প্রতিষ্ঠার পদ্ধতিগত মিল রয়েছে।
সংবিধান মূলত একটি দেশের সর্বোচ্চ আইন যা রাষ্ট্রের মূলনীতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য নির্ধারণ করে। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নকালে ১৯৭২ সালে গণপরিষদের একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা এবং জনসাধারণের মতামত গ্রহণ ও সদস্যদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে এটি তৈরি করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রশিদ একটি সংগঠনের নীতিমালা তৈরি করতে গিয়ে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং অন্যান্য সংগঠনের নীতিমালা পর্যালোচনা করেন। এছাড়াও এতে সদস্যদের অধিকার, কর্তব্য এবং মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গণপরিষদ যেভাবে বিচার-বিশ্লেষণ ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করেছিল, জনাব রশিদের নীতিমালা তৈরির পদ্ধতিও সেই প্রক্রিয়ার অনুরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উক্ত নীতিমালাটির সংশোধন সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক"— বক্তব্যটি যথার্থ।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদায় পরিবর্তন আসে। একটি নীতিমালা যদি অনড় বা সম্পূর্ণ অনমনীয় থাকে, তবে তা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কার্যকর সুশাসন প্রদানে ব্যর্থ হতে পারে। সুশাসনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো জনগণের প্রয়োজন ও মতামতের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রশিদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি লক্ষ্য রেখে নীতিমালাটি বেশ কয়েকবার সংশোধন করেছেন। এটি সংবিধানের সংশোধন পদ্ধতির সাথে তুলনীয়; যেমন বাংলাদেশের সংবিধানেও জনস্বার্থ ও জাতীয় প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনীর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে সংশোধন আনার মাধ্যমে অন্যায্য বা অকার্যকর ধারা বাতিল করে যুগোপযোগী নিয়ম প্রবর্তন করা সম্ভব হয়, যা জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং আইনের শাসনকে সুসংহত করে।
অতএব, জনগণের কল্যাণে ও সময়ের প্রয়োজনে নীতিমালার সংস্কার বা সংশোধন অব্যাহত রাখলে তা সংগঠনে বা রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও