গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পৌষ্টিক নালি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    যকৃৎ কীভাবে চর্বি পরিপাকে সাহায্য করে?

    (2)
  3. গ)

    চিত্রে 'A' অংশটি চিহ্নিত করে মানবদেহে এর কাজ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    চিত্রে 'B' অংশটিতে রুটি, ভাত, মাছ, মাংস ইত্যাদির শোষণ পদ্ধতি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুখছিদ্র থেকে শুরু হয়ে পায়ুছিদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত যে নালিপথের মধ্য দিয়ে খাদ্যবস্তু গৃহীত, পরিপাক ও শোষিত হয় এবং অপাচ্য অংশ নিষ্ক্রান্ত হয়, তাকে পৌষ্টিক নালি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যকৃৎ পিত্তরস (Bile) তৈরি করে, যা পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং পরে ক্ষুদ্রান্ত্রে ক্ষরিত হয়। পিত্তরসে থাকা পিত্তলবণ চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফোঁটায় পরিণত করে, যাকে ইমালসিফিকেশন (Emulsification) বলে। এর ফলে চর্বির পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বৃদ্ধি পায় এবং লাইপেজ জাতীয় এনজাইম চর্বিকে সহজে ভেঙে ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারলে রূপান্তর করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্রে 'A' অংশটি হলো পাকস্থলী (Stomach)।

    মানবদেহে পাকস্থলীর কাজসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. খাদ্যের আধার: পাকস্থলী গৃহীত খাদ্যবস্তুকে সাময়িকভাবে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা জমা রাখে।
    ২. যান্ত্রিক পরিপাক: পাকস্থলীর পেশিবহুল প্রাচীরের পেরিস্টালসিস বা সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্যবস্তু পিষ্ট হয়ে লেই বা কাইমে (Chyme) পরিণত হয়।
    ৩. রাসায়নিক পরিপাক: পাকস্থলীর গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং পেপসিনোজেন নিঃসৃত হয়। HCl খাদ্যের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে এবং নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে, যা আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক শুরু করে।
    ৪. শোষণ: সামান্য পরিমাণ পানি, গ্লুকোজ, অ্যালকোহল ও কিছু ওষুধ পাকস্থলীতে শোষিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্রে 'B' অংশটি হলো অন্ত্র (ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র)। রুটি ও ভাত হলো শর্করা জাতীয় খাদ্য এবং মাছ ও মাংস হলো আমিষ জাতীয় খাদ্য। পরিপাকের পর এ উপাদানগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয়। এদের শোষণ পদ্ধতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. শর্করা (রুটি, ভাত) শোষণ:
    রুটি ও ভাত পরিপাকের ফলে সরল শর্করা অর্থাৎ গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাক্টোজে রূপান্তরিত হয়। এগুলো ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরে থাকা ভিলাইয়ের (Villi) এপিথেলিয়াল কোষ দ্বারা শোষিত হয়। গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজ মূলত সোডিয়াম নির্ভরশীল সক্রিয় পরিবহণ (Active Transport) পদ্ধতির মাধ্যমে এবং ফ্রুক্টোজ ব্যাপন বা সহায়ক ব্যাপন প্রক্রিয়ায় শোষিত হয়ে সরাসরি রক্তকৈশিক নালিকায় (Capillaries) প্রবেশ করে। সেখান থেকে হেপাটিক পোর্টাল শিরার মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়।

    ২. আমিষ (মাছ, মাংস) শোষণ:
    মাছ ও মাংস পরিপাকের পর অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত হয়। অ্যামাইনো অ্যাসিড ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ের এপিথেলিয়াল কোষের মাধ্যমে মূলত সক্রিয় পরিবহণ (Active Transport) পদ্ধতিতে শোষিত হয়। শোষিত অ্যামাইনো অ্যাসিড রক্তকৈশিক নালিতে প্রবেশ করে এবং হেপাটিক পোর্টাল সংবহনের মাধ্যমে সমগ্র দেহে পরিবাহিত হয়ে প্রোটিন সংশ্লেষণ ও দেহ গঠনে অংশ নেয়।

    সুতরাং, ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ের রক্তজালকের মাধ্যমে রুটি ও ভাতের শর্করা এবং মাছ ও মাংসের আমিষ শোষণ সম্পন্ন হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন