বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
করোনাকালীন দুর্যোগে জনাব শিমুল চাকুরি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। চরম আর্থিক সংকট এবং মানসিক চাপে তিনি শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। ফলে দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের খরচ চালানো তার জন্য কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে তার স্ত্রী পারুল আক্তার সেলাইয়ের কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। পাশাপাশি অসুস্থ স্বামীর সেবা করেন পরম মমতায়।
- ক)(1)
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?
- খ)(2)
“একদিন এই মন্ত্রের সত্য-মিথ্যার চরম মীমাংসা হইয়া গেল।”—উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ ।
- গ)(3)
পারুল আক্তারের সঙ্গে বিলাসী চরিত্রের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন।”—উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে (বর্তমান অষ্টম শ্রেণি) পড়ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা সাপের কামড়ের মুখে সাপুড়েদের বিষ ঝাড়ার মন্ত্রের অসারতা ও অন্তঃসারশূন্যতা প্রমাণিত হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী সাপুড়েদের সঙ্গে থেকে সাপের বিষ ঝাড়ার নানা মন্ত্র ও কৌশল শিখেছিল। তবে সেই মন্ত্র কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তিযুক্ত ছিল না, ছিল অন্ধবিশ্বাস ও ধোঁকা। অবশেষে একদিন কেউটে সাপে মৃত্যুঞ্জয়কে দংশন করলে সমস্ত মন্ত্র ও তন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায় এবং বিষের প্রতিক্রিয়ায় মৃত্যুঞ্জয়ের করুণ মৃত্যু ঘটে। এর মাধ্যমেই মৃত্যুঞ্জয়ের চিকিৎসায় সাপুড়ে-মন্ত্রের কার্যকারিতা যে মিথ্যা, তা নির্মমভাবে প্রমাণিত বা মীমাংসিত হয়েছিল। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পারুল আক্তারের সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের চরম বিপদের দিনে স্বামীকে একান্তভাবে সেবা-যত্ন ও নির্ভরতা দেওয়ার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বিলাসী' গল্পে দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয়ের কঠিন ও প্রাণঘাতী অসুস্থতার সময়ে কোনো আত্মীয়স্বজন যখন পাশে ছিল না, তখন বিলাসী একা পরম মমতায় রাত জেগে সেবা-শুশ্রূষা করে মৃত্যুঞ্জয়কে সুস্থ করে তোলে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছিল বিলাসী।
উদ্দীপকে দেখা যায়, করোনাকালীন দুর্যোগে শিমুল চাকরি হারিয়ে আর্থিক ও মানসিক চাপে শারীরিকভাবে ভেঙে পড়লে তার স্ত্রী পারুল আক্তার সংসারের হাল ধরেন এবং অসুস্থ স্বামীর পরম মমতায় সেবা করেন। পারুল আক্তারের স্বামীর প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সংকটের মুহূর্তে সেবা ও নির্ভরতা প্রদানের দিকটি 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের সঙ্গে বিশেষভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের ভাববস্তুর সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের সাদৃশ্য থাকলেও প্রেক্ষাপট ভিন্ন”—মন্তব্যটি যথার্থ।
'বিলাসী' গল্পে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রেমের মহিমা, আত্মত্যাগ এবং তৎকালীন জাত-পাত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজব্যবস্থার নির্মমতাকে তুলে ধরেছেন। মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুসংকট থেকে আরোগ্য লাভের নেপথ্যে ছিল বিলাসীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও সেবা। কিন্তু সমাজ তাদের সেই সম্পর্ককে মেনে নেয়নি, বরং জাত-ধর্মের নামে বিলাসীর ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। শেষপর্যন্ত মৃত্যুঞ্জয়ের অকালমৃত্যু এবং বিলাসীর আত্মাহুতির মধ্য দিয়ে গল্পের ট্র্যাজিক সমাপ্তি ঘটে।
অপরদিকে উদ্দীপকে করোনাকালীন বৈশ্বিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে। চাকরি হারিয়ে স্বামী চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়লে স্ত্রী পারুল আক্তার সেলাই কাজ করে সংসারের হাল ধরেন এবং অসুস্থ স্বামীর সেবা করেন। এখানে কোনো সামাজিক শ্রেণিভেদ বা জাতপাতের বিরোধ নেই; বরং আর্থিক অভাব-অনটনের বাস্তবতায় পারিবারিক দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার চিত্র ফুটে উঠেছে।
সুতরাং দেখা যায়, স্বামীর বিপদে স্ত্রীর সেবা ও নির্ভরতা দেওয়ার মানবিক ভাববস্তুটি এক হলেও 'বিলাসী' গল্পের গ্রামীণ সমাজের জাতিভেদ ও কুসংস্কারের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে উদ্দীপকের আধুনিক করোনাকালীন অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও