জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    নিতম্বাস্থি কী?

    (1)
  2. খ)

    বক্ষপিঞ্জর বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' চিত্রের মধ্যে দৃশ্যমান জটিলতার চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'ক' সংশ্লিষ্ট পেশি ও 'খ' এর মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? বুঝিয়ে লেখ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শ্রোণিচক্রের প্রতিটি অর্ধাংশ বা হিপ বোন (শ্রোণি অস্থি)-কে নিতম্বাস্থি বা ইনোমিনেট অস্থি বলে; যা মূলত ইলিয়াম, ইশ্চিয়াম ও পিউবিস—এই তিনটি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বক্ষপিঞ্জর (Thoracic cage) হলো মানুষের বক্ষগহ্বরকে আবৃতকারী খাঁচার মতো অস্থিময় কাঠামো। এটি পেছনে ১২টি থোরাসিক বা বক্ষদেশীয় কশেরুকা, সামনে একটি স্টার্নাম এবং দুই পাশে ১২ জোড়া (মোট ২৪টি) পরশুকা বা পর্শুকা দ্বারা গঠিত। এটি মূলত হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে বাহ্যিক আঘাত থেকে রক্ষা করে এবং শ্বসনকার্যে সাহায্য করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' চিত্রে একটি অস্থি ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য অর্থাৎ অস্থিভঙ্গ (Bone fracture) প্রদর্শিত হয়েছে।

    অস্থিভঙ্গের চিকিৎসা পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো:
    ১. প্রাথমিক চিকিৎসা (First Aid): ভাঙা স্থানটিকে যথাসম্ভব নড়াচড়া না করিয়ে স্থির রাখতে হবে। কাঠের বা ধাতব স্প্লিন্ট ও ব্যান্ডেজ দিয়ে অস্থিকে অনড় রাখতে হয় এবং বরফ প্রয়োগ করে ব্যথা ও ফোলা কমানো যায়।
    ২. রিডাকশন (Reduction) বা পুনঃস্থাপন:
    ক. বদ্ধ রিডাকশন (Closed Reduction): চামড়া না কেটে বাইরে থেকে টেনে বা চাপ দিয়ে ভাঙা অস্থির অংশগুলো যথাযথ অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়।
    খ. উন্মুক্ত রিডাকশন (Open Reduction): জটিল বা স্থানচ্যুত ভঙ্গের ক্ষেত্রে শল্যচিকিৎসা (অপারেশন) করে অস্থিখণ্ডগুলোকে সোজা করে সঠিক অবস্থানে মেলানো হয়। এতে স্ক্রু, প্লেট, রড বা তার ব্যবহার করে অস্থিগুলোকে আটকে রাখা হয় (Internal fixation)।
    ৩. ইমোবিলাইজেশন (Immobilization) বা নিশ্চলকরণ: অস্থি যথাযথভাবে জোড়া লাগার জন্য প্লাস্টার অব প্যারিস বা ফাইবারগ্লাসের কাস্ট (Cast) পরিয়ে স্থানটিকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিশ্চল করে রাখা হয়।
    ৪. পুনর্বাসন ও ফিজিওথেরাপি (Rehabilitation): প্লাস্টার খোলার পর রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ও পেশির স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মমাফিক মৃদু ব্যায়াম বা ফিজিওথেরাপি দিতে হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' অস্থি সংশ্লিষ্ট পেশি হলো 'ঐচ্ছিক পেশি বা কঙ্কাল পেশি' এবং 'খ' চিত্রে প্রদর্শিত পেশিটি হলো 'অনৈচ্ছিক পেশি বা মসৃণ পেশি'। এদের মধ্যে স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

    পার্থক্যসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
    ১. অবস্থান: 'ক' সংশ্লিষ্ট ঐচ্ছিক পেশি অস্থিসংলগ্ন হয়ে থাকে (যেমন—হাত ও পায়ের অস্থি সংলগ্ন পেশি)। অন্যদিকে 'খ' অর্থাৎ অনৈচ্ছিক পেশি পৌষ্টিকনালি, রক্তনালি, মূত্রাশয় ইত্যাদি অভ্যন্তরীণ অঙ্গের প্রাচীরে থাকে।
    ২. গঠন ও কোষের আকার: ঐচ্ছিক পেশিকোষগুলো লম্বাটে ও নলাকার (cylindrical) এবং শাখাহীন। পক্ষান্তরে, অনৈচ্ছিক পেশিকোষগুলো মাকু আকৃতির (spindle-shaped), যার প্রান্তভাগ সরু ও মধ্যভাগ মোটা।
    ৩. নিউক্লিয়াস: ঐচ্ছিক পেশিকোষে একাধিক নিউক্লিয়াস (বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত) পরিধির দিকে থাকে। অন্যদিকে অনৈচ্ছিক পেশিকোষে একটিমাত্র নিউক্লিয়াস কোষের মাঝখানে থাকে।
    ৪. ডোরাকাটা দাগ: ঐচ্ছিক পেশিতে সুস্পষ্ট অনুপ্রস্থ রেখা বা ডোরাকাটা দাগ (striations) বিদ্যমান। কিন্তু অনৈচ্ছিক পেশিতে কোনো আড়াআড়ি রেখা বা ডোরাকাটা দাগ থাকে না (মসৃণ)।
    ৫. নিয়ন্ত্রণ ও সংকোচন: কঙ্কাল পেশির সংকোচন-প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন (ঐচ্ছিক) এবং এটি দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে সংকুচিত হতে পারে। অপরদিকে মসৃণ পেশির সংকোচন প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয় (অনৈচ্ছিক, স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত) এবং এটি ধীরে ধীরে ও দীর্ঘ সময় ধরে সংকুচিত হয়।
    ৬. ক্লান্তি: ঐচ্ছিক পেশি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু অনৈচ্ছিক পেশি সহজে ক্লান্ত হয় না।

    অতএব, উদ্দীপকের 'ক' সংশ্লিষ্ট পেশি ও 'খ' পেশির মধ্যে গঠন ও কার্যাবলির দিক থেকে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন