সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

তাসফিয়া শীতকালীন ছুটিতে নানাবাড়ি বেড়াতে যায়। সকালে নানুর হাতে বানানো পিঠা খেয়ে সে নানার সাথে ঘুরতে বের হয়। তার নানা এলাকায় বেশ প্রভাবশালী ব্যক্তি। লোকজন বেশ আন্তরিকভাবে তার সাথে কথা বলে। কিন্তু এখানকার মানুষজন মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও এসবের ইতিবাচক ব্যবহার এখনও শিখেনি। এখনও মানুষের মধ্যে অজ্ঞতা, কুসংস্কার বিদ্যমান, যা দেখে তাসফিয়া অবাক হয়।

  1. ক)

    'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থটি কার লেখা?

    (1)
  2. খ)

    মানবসৃষ্ট সবকিছুই সংস্কৃতি'- উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের কোন সংস্কৃতি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক অবস্থা সাংস্কৃতিক ব্যবধানের ফল- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'সমাজবিজ্ঞান সমীক্ষণ' গ্রন্থটি সমাজবিজ্ঞানী ড. বদরুদ্দীন উমরের লেখা (অথবা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ড. রঙ্গলাল সেন রচিত)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজবিজ্ঞানী রবার্ট বিয়ারস্টেডের মতে, মানুষ তার সমাজে টিকে থাকার জন্য যা কিছু তৈরি করে ও ব্যবহার করে, তার সামগ্রিক রূপই হলো সংস্কৃতি। মানুষ প্রকৃতিপ্রদত্ত পরিবেশকে নিজের প্রয়োজন ও রুচি অনুযায়ী রূপান্তর করে যা সৃষ্টি করে—যেমন ঘরবাড়ি, প্রযুক্তি, পোশাক, ভাষা, সাহিত্য, আচার-ব্যবহার, মূল্যবোধ ইত্যাদি—সবই সংস্কৃতির অংশ। তাই সংস্কৃতির পরিধি বোঝাতে বলা হয় 'মানবসৃষ্ট সবকিছুই সংস্কৃতি'।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের 'গ্রামীণ সংস্কৃতি' প্রতিফলিত হয়েছে।

    বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আত্মীয়তার গভীর বন্ধন, অতিথি পরায়ণতা, পিঠা-পুলির ঐতিহ্য এবং পারস্পরিক আন্তরিকতা ও সামাজিক সংহতি। গ্রামীণ সমাজে মুরব্বি বা প্রভাবশালীদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং মুখোমুখি নিবিড় যোগাযোগ দেখা যায়।

    উদ্দীপকে তাসফিয়ার শীতের ছুটিতে নানাবাড়ি যাওয়া, সকালে নানুর হাতের তৈরি ঐতিহ্যবাহী পিঠা খাওয়া, এলাকার মানুষের সাথে নানার আন্তরিক মেলামেশা এবং নানার সামাজিক প্রভাব বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকজ গ্রামীণ সংস্কৃতিরই রূপ। যদিও আধুনিক প্রযুক্তি সেখানে প্রবেশ করেছে, তবুও মানুষের আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রায় আবহমান বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির চিত্রটিই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত সামাজিক অবস্থাটি সমাজবিজ্ঞানী ডব্লিউ এফ অগবার্নের 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান তত্ত্ব' (Cultural Lag Theory)-এর একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত।

    অগবার্নের মতে, সংস্কৃতি মূলত দুই প্রকার—বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। বস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন: মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, রাস্তাঘাট ইত্যাদি প্রযুক্তিগত উপাদান) খুব দ্রুত পরিবর্তিত ও গৃহীত হয়। কিন্তু অবস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন: চিন্তা-চেতনা, বিশ্বাস, মনোভাব, কুসংস্কারমুক্তি ইত্যাদি) সে অনুপাতে দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে না। ফলে সংস্কৃতির এই দুই অংশের পরিবর্তনের গতির মধ্যে যে অসামঞ্জস্য বা দূরত্ব তৈরি হয়, তাকে 'সাংস্কৃতিক ব্যবধান' বলা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, তাসফিয়ার নানাবাড়ির মানুষজন আধুনিক বস্তুগত উপাদান হিসেবে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট গ্রহণ করেছে এবং ব্যবহার করছে। কিন্তু তাদের চিন্তাধারা ও মানসিকতা অর্থাৎ অবস্তুগত সংস্কৃতির রূপান্তর ঘটেনি; তারা এখনও এসবের ইতিবাচক ব্যবহার শেখেনি এবং তাদের মধ্যে অজ্ঞতা ও কুসংস্কার বিদ্যমান রয়েছে। বস্তুগত প্রযুক্তির সাথে অবস্তুগত মানসিকতার এই যে পিছিয়ে থাকা বা তাল মেলাতে না পারা, তা স্পষ্টতই সাংস্কৃতিক ব্যবধানের ফলাফল।

    অতএব, উদ্দীপকের সামাজিক অবস্থাটিতে বস্তুগত প্রযুক্তির দ্রুত গ্রহণের বিপরীতে মানসিকতার স্থবিরতা ফুটে ওঠায় এটি নিঃসন্দেহে সাংস্কৃতিক ব্যবধানেরই প্রতিফলন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন