উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা জহিরের দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা সিরাজগ অবস্থিত। পদ্মার পাড়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় গো-চারণভূমি থাকায় এই এলাকায় অনে ডেইরি ফার্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জহির স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত দুধ সংগ্রহ ক প্রক্রিয়াজাতকরণ করে এবং দুধ থেকে ঘি, পনির, মাখন, মাঠা তৈরি করে বাজারজ করে। এখন সে ঢাকায় 'জহির ডেইরী ফুড' নামে একটি শো-রুম খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- ক)(1)
শ্রমের সহজলভ্যতা কী?
- খ)(2)
শ্রম ঘূর্ণায়মানতা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জহিরের প্রতিষ্ঠানটি সিরাজগঞ্জে গড়ে তোলার কারণ কী? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
জহিরের ঢাকায় শো-রুম খোলার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় প্রয়োজনীয় দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের পর্যাপ্ত সরবরাহ বা প্রাপ্তির সুযোগকে শ্রমের সহজলভ্যতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ে বা বছরে শ্রমিকদের কাজে যোগদান ও কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুপাত বা প্রক্রিয়াকে শ্রম ঘূর্ণায়মানতা (Labor Turnover) বলে।
শ্রম ঘূর্ণায়মানতা বেশি হলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়, কারণ ঘন ঘন নতুন কর্মী নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণে বাড়তি খরচ এবং সময় ব্যয় হয়। সন্তোষজনক কর্মপরিবেশ, উপযুক্ত মজুরি এবং চাকরির নিরাপত্তা শ্রম ঘূর্ণায়মানতা কমাতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাঁচামালের সহজলভ্যতা ও অনুকূল ভৌগোলিক পরিবেশের কারণেই জহির তার প্রতিষ্ঠানটি সিরাজগঞ্জে গড়ে তুলেছেন।
কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে কাঁচামালের উৎসের সান্নিধ্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, বিশেষ করে পচনশীল ও ওজনে ভারী কাঁচামালভিত্তিক শিল্পের জন্য। কাঁচামালের উৎসের কাছে শিল্প গড়ে উঠলে পরিবহন খরচ এবং কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জে নদী বিধৌত বিস্তীর্ণ গো-চারণভূমি থাকায় সেখানে প্রচুর ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠেছে। দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রধান ও মৌলিক কাঁচামাল হলো কাঁচা দুধ, যা পচনশীল। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে দুধ সংগ্রহের সুবিধা পাওয়ার জন্য জহির তার কারখানাটি সিরাজগঞ্জে স্থাপন করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জহিরের ঢাকায় শো-রুম খোলার সিদ্ধান্তটি ব্যবসায়িক ও বাজারজাতকরণ দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
দুগ্ধজাত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী যেমন ঘি, পনির, মাখন ও মাঠা মূলত উচ্চমূল্যের ভোগ্যপণ্য। এসব পণ্যের প্রধান ও বৃহৎ ভোক্তা শ্রেণি শহরাঞ্চলে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বসবাস করে। একটি পণ্যের উৎপত্তিস্থল বা উৎপাদন কারখানা কাঁচামালের সান্নিধ্যে গড়ে উঠলেও বিক্রির জন্য বৃহৎ ও সচ্ছল বাজার প্রয়োজন হয়।
সিরাজগঞ্জে কারখানা থাকায় কাঁচামালের সাশ্রয় নিশ্চিত হলেও স্থানীয় বাজারে প্রক্রিয়াজাত উচ্চমূল্যের পণ্যের চাহিদা সীমিত হতে পারে। অপরদিকে রাজধানী ঢাকা দেশের বৃহত্তম ভোক্তা বাজার এবং এখানে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি, যাদের এসব প্রক্রিয়াজাত স্বাস্থ্যকর খাদ্য ক্রয়ের সামর্থ্য রয়েছে। ঢাকায় নিজস্ব শো-রুম স্থাপন করলে সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে, মধ্যস্থতাকারীদের কমিশন হ্রাস পাবে এবং ব্র্যান্ডের পরিচিতি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
সুতরাং, পণ্যের সর্বোচ্চ বিক্রয় নিশ্চিতকরণ, মুনাফা বৃদ্ধি ও ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই ঢাকায় শো-রুম খোলার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও