বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
'আমিত্ব'-কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি, পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি! নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা, মুছালে পরের অশ্রু-ঘুচালে পরের ব্যথা! আপনাকে বিলাইয় দীনদুঃখীদের মাঝে, বিদূরিলে পর দুঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে! তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি, যা রুপিবে-তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি!
- ক)(1)
'প্রতিদান' কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত?
- খ)(2)
'কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর'-উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার চেতনাগত সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটি 'প্রতিদান' কবিতার মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব করে কি? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'প্রতিদান' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীন-এর 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা কবির পরম পরোপকারী, ক্ষমাসুন্দর ও উদার মানসিকতাকে বোঝানো হয়েছে।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে শত্রুতা ও হিংসার বিপরীতে ভালোবাসার রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। সাধারণ মানুষ আঘাতের বিনিময়ে প্রতিশোধ নিতে চায়; কিন্তু কবি যিনি তাঁকে আঘাত বা বেদনা দিয়েছেন (কাঁটা দিয়েছেন), তাঁকেও আজীবন ভালোবাসা ও কল্যাণ (ফুল) উপহার দিয়ে জয় করতে চেয়েছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার চেতনাগত মূল সাদৃশ্য হলো—স্বার্থপরতা বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতা এবং অন্যের কল্যাণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদন করা।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি জসীমউদ্দীন নিজের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে অপরের কল্যাণে আত্মনিবেদনের চিত্র তুলে ধরেছেন। কবি অনিষ্টকারীরও অনিষ্ট কামনা না করে তাঁর মঙ্গল সাধন করেন। পরকে আপন করা এবং পরের ব্যথায় ব্যথিত হওয়াই কবির জীবনের ব্রত।
উদ্দীপকেও 'আমিত্ব' অর্থাৎ ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে নিরবধি পরের মঙ্গলের কথা ভাবা, নিজের সুখ ভুলে অপরের অশ্রু মোছানো এবং দীন-দুঃখীদের মধ্যে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে আত্মার সুখ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। উভয়ের মূল বক্তব্য আত্মত্যাগ ও পরের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই সত্যিকারের মানবতা ও সার্থকতা নিহিত। সুতরাং, পরার্থপরতা ও আত্মত্যাগের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'প্রতিদান' কবিতার সঙ্গে গভীর সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'প্রতিদান' কবিতার পরার্থপরতার চেতনাকে ধারণ করলেও কবিতার সম্পূর্ণ মূলভাবকে পুরোপুরি প্রতিনিধিত্ব করে না। নিচে মতের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:
উদ্দীপকে আত্মত্যাগ, পরোপকার এবং দীন-দুঃখীর দুঃখ মোচনের মাধ্যমে আত্মিক আনন্দ লাভের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপকের বক্তব্য মূলত সাধারণ পরোপকার ও কল্যাণমুখী মানসিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
অন্যদিকে, 'প্রতিদান' কবিতায় পরোপকারের সীমানা অতিক্রম করে শত্রুতা ও প্রতিহিংসাকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করার এক অনন্য মানবিক দর্শন প্রকাশ পেয়েছে। কবিতায় যে কবির ঘর ভেঙেছে, কবি তার ঘর বেঁধে দেন; যে কবিকে পর করেছে, কবি তাকে আপন করতে ঘুরে বেড়ান; এমনকি যে কবিকে বিষ দিয়েছে, কবি তাকে বুকভরা ভালোবাসার কুল দেন। অনিষ্টকারীর প্রতিও এই যে অপরিসীম ক্ষমাশীলতা ও প্রতিদানের অভিনব রূপ, তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। উদ্দীপকে শত্রুর অনিষ্টের বিপরীতে ক্ষমা ও প্রীতি দানের এই বিশেষ দর্শনটি উল্লেখ করা হয়নি।
অতএব, উদ্দীপকটি পরোপকার ও আত্মত্যাগের আংশিক দিক তুলে ধরলেও শত্রুকে ক্ষমা ও ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নেওয়ার যে ব্যাপক মহত্ত্ব 'প্রতিদান' কবিতার মূল সুর, তা ধারণ করতে না পারায় এটি কবিতাটির সামগ্রিক মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব করে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও