‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পরে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক দলের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করতে শাসকগোষ্ঠীর টালবাহানা শুরু করে। প্রতিবাদে সর্বস্তরের জনগণ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিজয়ী দলের অবিসংবাদিত নেতা বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে গণমানুষের মুক্তির পথ দেখান এবং সংকট মোকাবেলার জন্য সকল প্রকার দিক নির্দেশনা দেন।

  1. ক)

    আগরতলা মামলার আসামি সংখ্যা কতজন ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাত কেন আমাদের জাতীয় জীবনে কাল রাত হিসেবে খ্যাত।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত নির্বাচনের ফলাফল ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত নির্বাচনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামি ছিলেন ৩৫ জন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাত আমাদের জাতীয় জীবনে 'কালরাত' হিসেবে খ্যাত, কারণ এ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর নামে নিরীহ, ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরতম গণহত্যা শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়, যা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২৩ বছর পর অনুষ্ঠিত ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল প্রতিফলিত হয়েছে।

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জাতীয় পরিষদের মোট ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসনেই আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয় (সংরক্ষিত নারী আসনসহ ১৬৭টি)। অন্যদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় জুলফিকার আলী ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। প্রাদেশিক পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি আসন লাভ করে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নির্বাচিত হন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের তাৎপর্য বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তি রচনার ক্ষেত্রে অপরিসীম ছিল।

    এই নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে, ছয় দফা ছিল বাঙালির প্রাণের দাবি এবং বাঙালি জাতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ শোষণ ও বৈষম্য থেকে চূড়ান্তভাবে মুক্তি চায়। নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের বৈধ ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে পরিণত হয়। ফলে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তরে অনীহা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাঙালির আন্দোলনের আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।

    নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট পেয়েই বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিশেষে, ১৯৭০-এর নির্বাচনের ফলই ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের প্রত্যক্ষ ও মূল চাবিকাঠি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন