অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নাবিলা একজন নারী উদ্যোক্তা। আগে তিনি নিজে ঘরে বসে হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন। বর্তমানে তার পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তার স্বামীও তাকে সহযোগিতা করেন। তিনি অধিক উৎপাদনের জন্য ১০ জন মহিলা শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানটির মূলধন প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। বর্তমানে তার পণ্যের চাহিদা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্যান্য দেশেও ব্যাপৃত।
- ক)(1)
শিল্প কী?
- খ)(2)
দেশের উন্নয়নে আমদানি বিকল্প শিল্প স্থাপন প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
নাবিলার প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের শিল্প নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নাবিলার প্রতিষ্ঠিত শিল্পের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণভাবে কারখানাভিত্তিক পদ্ধতিতে প্রাথমিক পণ্যকে রূপান্তরের মাধ্যমে অধিক উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আমদানি বিকল্প শিল্প স্থাপন করা প্রয়োজন কারণ এর মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির নির্ভরতা হ্রাস পায় এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি এ ধরনের শিল্প দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, জাতীয় আয় বাড়ায় এবং দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাবিলার প্রতিষ্ঠানটি 'কুটির শিল্প' বা 'মাইক্রো/ক্ষুদ্র শিল্প'-এর রূপ নির্দেশ করে। তবে মূল বৈশিষ্ট্যানুযায়ী এটি প্রধানত কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্পের সমন্বয়।
জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রধানত পারিবারিক সদস্যদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয় এবং যেখানে মূলধন স্বল্প থাকে, তাকে কুটির শিল্প বলে। নাবিলা শুরুতে ঘরে বসে নিজে হাতে তৈরি পণ্য উৎপাদন করতেন এবং তার স্বামীও সহযোগিতা করতেন। পরবর্তীতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে তিনি ১০ জন মহিলা শ্রমিক নিয়োগ দেন এবং মূলধন প্রায় ৫ লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়, যা বাংলাদেশ শিল্পনীতি অনুযায়ী কুটির ও মাইক্রো/ক্ষুদ্র শিল্পের আওতাভুক্ত। এতে হস্তশিল্পের বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নাবিলার প্রতিষ্ঠিত কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম। নিচে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: নাবিলা ১০ জন মহিলার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২. নারী ক্ষমতায়ন: নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এ ধরনের শিল্প কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
৩. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: নাবিলার উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রয়েছে। এর ফলে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়ে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়।
৪. স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার: হস্তশিল্প জাতীয় পণ্যে স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহৃত হওয়ায় দেশের সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
৫. দারিদ্র্য বিমোচন ও জিডিপিতে অবদান: এটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধি করে দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করে এবং জাতীয় উৎপাদন তথা জিডিপিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
সুতরাং, দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নাবিলার প্রতিষ্ঠিত শিল্প অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও