জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
আমাদের দেহে এমন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি আছে, যা দেহের বৃহত্তম গ্রন্থি। এ গ্রন্থি থেকে এমন এক ধরনের রসের ক্ষরণ ঘটে, যার প্রকৃতি ক্ষারীয়।
- ক)(1)
পিত্ত কী?
- খ)(2)
পেরিস্ট্যালসিস বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রন্থিটির গঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দেহের শারীরবৃত্তীয় কাজে উদ্দীপকে নির্দেশিত গ্রন্থিটির ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ-বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিত্ত (Bile) হলো যকৃতের হেপাটোসাইট কোষে উৎপন্ন এবং পিত্তথলিতে জমা থাকা সবুজ-হলুদাভ বর্ণের তিক্ত স্বাদযুক্ত ও ক্ষারীয় তরল পদার্থ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পৌষ্টিকনালির প্রাচীরের বৃত্তাকার ও অনুদৈর্ঘ্য অনৈচ্ছিক পেশির পর্যায়ক্রমিক ছন্দোময় সংকোচন ও প্রসারণের ফলে খাদ্যবস্তু মুখবিবর থেকে ক্রমান্বয়ে পায়ুর দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়াকে পেরিস্ট্যালসিস (Peristalsis) বলে। এটি স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং খাদ্যকে পাচক রসের সাথে মিশিয়ে পরিপাক ও পরিবহনে ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেহের বৃহত্তম গ্রন্থিটি হলো যকৃত (Liver)। নিচে এর গঠন সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অবস্থান ও আকার: প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের যকৃত উদরগহ্বরের উপরের অংশে ডায়াফ্রামের ঠিক নিচে এবং পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। এর ওজন প্রায় ১.৫ থেকে ৪.০ কেজি এবং এটি লালচে-বাদামি বর্ণের।
২. খণ্ডকসমূহ: যকৃত চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ডে বিভক্ত—ডান খণ্ড (বৃহত্তম), বাম খণ্ড, কডেট খণ্ড এবং কোয়াড্রেট খণ্ড। ডান খণ্ডের নিচে পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে।
৩. ক্যাপসুল: যকৃতের বাইরে গ্লিসনস ক্যাপসুল (Glisson's capsule) নামক পাতলা সংযোজক কলার আবরণ থাকে।
৪. মাইক্রোস্কোপিক গঠন: যকৃত অসংখ্য বহুভুজাকার লোবিউল বা অনুখণ্ডক নিয়ে গঠিত, যা যকৃতের গঠন ও কাজের একক। লোবিউলের কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় শিরা থাকে এবং তা থেকে চারদিকে হেপাটোসাইট কোষের সারি স্পোকের মতো বিন্যস্ত থাকে। কোষসারির মধ্যবর্তী স্থানে সাইনুসয়েড রক্তনালি এবং কুফার কোষ (Kupffer cells—জীবাণু ধ্বংসকারী ফ্যাগোসাইট) থাকে।
৫. নালিতন্ত্র: লোবিউল থেকে নির্গত পিত্তনালিগুলো একত্রিত হয়ে ডান ও বাম হেপাটিক নালি তৈরি করে, যা পরবর্তীতে সিস্টিক নালির সাথে যুক্ত হয়ে সাধারণ পিত্তনালি গঠন করে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলে অ্যাম্পুলা অব ভ্যাটারে উন্মুক্ত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত গ্রন্থিটি হলো যকৃত (Liver)। বিপাক ও শারীরবৃত্তীয় কাজের বিশালতার জন্য এটিকে 'দেহের জৈব রসায়নাগার' বলা হয়। মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় কাজে এর ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শর্করা বিপাক: যকৃত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে সঞ্চয় করে এবং প্রয়োজনে গ্লাইকোজেনোলাইসিস ও গ্লুকোনিওজেনেসিসের মাধ্যমে পুনরায় গ্লুকোজে রূপান্তরিত করে রক্তে সরবরাহ করে।
২. লিপিড বিপাক: অতিরিক্ত শর্করাকে ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তর করা, কোলেস্টেরল ও লাইপোপ্রোটিন সংশ্লেষণ এবং ফ্যাটি অ্যাসিডের বিটা-জারণে যকৃত ভূমিকা রাখে।
৩. প্রোটিন বিপাক ও ইউরিয়া তৈরি: ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড থেকে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া তৈরি হয়, যা যকৃতের অর্নিথিন চক্রের মাধ্যমে কম বিষাক্ত ইউরিয়ায় পরিণত হয় এবং মূত্রের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়।
৪. পিত্ত উৎপাদন ও পরিপাক: যকৃত দৈনিক ক্ষারীয় পিত্তরস ক্ষরণ করে, যা ক্ষুদ্রান্ত্রে কাইমের অম্লতা প্রশমিত করে এবং ফ্যাটের ইমালসিফিকেশন ঘটিয়ে লিপিড পরিপাকে মুখ্য ভূমিকা রাখে।
৫. সঞ্চয়ী ভূমিকা: এটি গ্লাইকোজেন, বিভিন্ন ভিটামিন (A, D, E, K, B12), খনিজ পদার্থ (লৌহ, কপার, পটাসিয়াম) ইত্যাদি সঞ্চয় করে রাখে।
৬. রক্ত উৎপাদন ও প্রোটিন সংশ্লেষণ: ভ্রূণাবস্থায় এটি লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদন করে এবং সারাজীবন রক্তের প্রধান প্লাজমা প্রোটিন (অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, প্রোথ্রম্বিন) সংশ্লেষণ করে। এটি হেপারিন তৈরি করে রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিহত করে।
৭. বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশন (ডিটক্সিফিকেশন): কুফার কোষ দ্বারা জীবাণু ধ্বংস করে এবং বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ ও ওষুধকে নিষ্ক্রিয় বা পরিবর্তন করে দেহকে সুরক্ষা দেয়।অতএব, উপর্যুক্ত বহুমুখী ও জীবনধারণে অত্যাবশ্যক কার্যাবলির জন্য মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়ায় যকৃতের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও