অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ একটি স্বল্প আয়ের দেশ। বাংলাদেশ সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সরকার একটি পরিকল্পনায় দেশে দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাসকারী লোকের সংখ্যা ১৫% এ নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। দক্ষ শ্রমিকের হার ৫০% এ উন্নীত করার চেষ্টা করছে। শিল্পখাতে কর্মসংস্থান প্রায় ২৫% এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার নতুন নতুন প্রযুক্তির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ শক্তিশালীকরণ ইত্যাদির উপর জোর দিয়েছেন।

  1. ক)

    উন্নয়ন পরিকল্পনা কী?

    (1)
  2. খ)

    সঠিক তথ্য ও উপাত্তের অভাব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি অন্যতম সমস্যা- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কোন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিকল্পনা সফল করার জন্য গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহ কতটুকু কার্যকর? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও কর্মসূচি নির্ধারণ করে প্রণীত সুসংহত নীতি ও কৌশলকে উন্নয়ন পরিকল্পনা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেকোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে দেশের জনসংখ্যা, জাতীয় আয়, প্রাকৃতিক সম্পদ, উৎপাদন ও ব্যয় সম্পর্কিত নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্য-উপাত্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তথ্য ও উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা না থাকলে সঠিক অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা যায় না এবং উন্নয়ন কৌশল ত্রুটিপূর্ণ হয়। ফলে গৃহীত পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে ফারাক সৃষ্টি হয়ে সম্পদ ও সময়ের অপচয় ঘটে, যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার (২০১৬–২০২০) কথা বলা হয়েছে।

    সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে ছিল চরম ও সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে দারিদ্র্যের হার প্রায় ১৮.৬% বা ১৫%-এর নিচে নামিয়ে আনা, দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি করা, শিল্পখাতে কর্মসংস্থানের হার প্রায় ২৫% এ উন্নীত করা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। উদ্দীপকে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের অনুপাত ১৫%-এ নামিয়ে আনা, দক্ষ শ্রমিকের হার ৫০%-এ উন্নীত করা, শিল্পখাতে কর্মসংস্থান প্রায় ২৫%-এ উন্নীত করা এবং নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও পিপিপি শক্তিশালীকরণের যে উল্লেখ রয়েছে, তা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল কৌশল ও লক্ষ্যের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সফল করার জন্য সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে অত্যন্ত কার্যকর ও সময়োপযোগী।

    প্রথমত, দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্পায়নের গতি বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে কর্মসংস্থান ২৫%-এ উন্নীত করার কৌশল দেশের উদ্বৃত্ত শ্রমশক্তিকে উৎপাদনশীল খাতে স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি করে। দ্বিতীয়ত, দক্ষ শ্রমিকের হার ৫০%-এ উন্নীত করতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার প্রসার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়ক।

    তৃতীয়ত, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) শক্তিশালীকরণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বেসরকারি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা বিধান এবং লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের মতো সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে।

    অতএব, উপযুক্ত তদারকি, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা গেলে সরকারের গৃহীত এসব পদক্ষেপ পরিকল্পনাটি সফল করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ফলাফল বয়ে আনে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন