উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. মনির ৩ কোটি টাকা নিয়ে রাজশাহী বিসিক-এ সিল্কের কাপড়ের কারখানা স্থাপন করেন। ২৫ জন শ্রমিক সেখানে কর্মরত। জাপান প্রবাসী ভাই তার ব্যবসায়ে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। বর্তমানে তিনি বার্ষিক ৫০ হাজার শাড়ি উৎপাদন করেন। গুণগতমানের কারণে তার পণ্যের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ৫ লক্ষ শাড়ির ফরমায়েশ পান, যা ডিসেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে। এ ফরমায়েশ বাস্তবায়নের জন্য তার চাচা প্রয়োজনীয় মূলধন সরবরাহের প্রস্তাব দেন। কিন্তু বর্তমান কাঠামো বিবেচনায় মি. মনি চিন্তিত।
- ক)(1)
উৎপাদনের মাত্রা কী?
- খ)(2)
‘কাম্য মাত্রায় উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক’— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উৎপাদন মাত্রার ভিত্তিতে মি. মনিরের প্রতিষ্ঠানটি কোন ধরনের এন্টারপ্রাইজ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘মি. মনিরের প্রতিষ্ঠানটির কাঠামোগত পরিবর্তনই হলো বর্তমান সমস্যা সমাধানের উপায়’— তুমি কি একমত? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহারের অনুপাত ও আয়তনের ওপর ভিত্তি করে যে পরিমাপে পণ্য উৎপাদিত হয়, তাকে উৎপাদনের মাত্রা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাম্য মাত্রায় উৎপাদন করা প্রতিষ্ঠানের জন্য লাভজনক, কারণ এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানের গড় উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন এবং মোট মুনাফা সর্বোচ্চ হয়।
উৎপাদনের উপাদানসমূহ এমন এক সুষম অনুপাতে ব্যবহার করা হয় যাতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যয়সংকোচনের পূর্ণ সুবিধা অর্জিত হয়। কাম্য বিন্দুর চেয়ে কম বা বেশি উৎপাদন করলে অপচয় বৃদ্ধি পায় এবং গড় ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে কাম্য মাত্রায় উৎপাদন অব্যাহত রাখলে প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে এবং সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন মাত্রার ভিত্তিতে মি. মনিরের প্রতিষ্ঠানটি একটি ‘মাঝারি শিল্প’ (Medium Enterprise)।
উৎপাদনশীল খাতের জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, যে প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানার ভবন ব্যতীত স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ কোটি টাকা থেকে ৩০ কোটি টাকা কিংবা কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১২০ জন থেকে ৩০০ জন, তা মাঝারি শিল্প। আবার এর পূর্ববর্তী স্তর (ক্ষুদ্র শিল্পে) স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৭৫ লক্ষ থেকে ১০ কোটি টাকা এবং শ্রমিক সংখ্যা ৩১ থেকে ১২০ জন হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. মনিরের প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল ৩ কোটি টাকা এবং জাপান প্রবাসী ভাই আরও ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করায় মোট বিনিয়োগ দাঁড়ায় ৮ কোটি টাকা। তবে তাঁর বাৎসরিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ হাজার শাড়ি এবং প্রতিষ্ঠানটি বিসিক এলাকায় অবস্থিত। যদিও শ্রমিক সংখ্যা মাত্র ২৫ জন, কিন্তু সামগ্রিক বিনিয়োগ (৮ কোটি টাকা) ও উৎপাদন কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বিবেচনায় এটি মূলধনের মানদণ্ডে একটি মাঝারি উদ্যোগের কাছাকাছি রূপ নিচ্ছে অথবা প্রচলিত ক্ষুদ্র শিল্প সীমা অতিক্রম করে মাঝারি স্তরে উন্নীত হচ্ছে। অতএব, জাতীয় উৎপাদন মাত্রার মানদণ্ডে এটি ক্ষুদ্র হতে মাঝারি পর্যায়ের উৎপাদনকারী এন্টারপ্রাইজ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘মি. মনিরের প্রতিষ্ঠানটির কাঠামোগত পরিবর্তনই হলো বর্তমান সমস্যা সমাধানের উপায়’— আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. মনিরের কারখানার বর্তমান বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ হাজার শাড়ি এবং কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ২৫ জন। কিন্তু ২০১৫ সালে তিনি ৫ লক্ষ শাড়ির বিশাল একটি ফরমায়েশ পান, যা বর্তমান ক্ষমতার চেয়ে ১০ গুণ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ ফরমায়েশ বর্তমান ক্ষুদ্র বা সীমিত কাঠামো দিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করা একেবারেই অসম্ভব।
এ সমস্যা সমাধানে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ:
১. বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর: বর্তমান কাঠামোকে বৃহৎ শিল্পে রূপান্তর করে কারখানার অবকাঠামো ও প্ল্যান্টের আয়তন বাড়াতে হবে।
২. চাচা প্রদত্ত মূলধনের সদ্ব্যবহার: চাচার দেওয়া প্রয়োজনীয় মূলধন গ্রহণ করে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও স্বয়ংক্রিয় তাঁত ক্রয় করতে হবে।
৩. শ্রমিক সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ: মাত্র ২৫ জন শ্রমিক নিয়ে ৫ লক্ষ শাড়ি উৎপাদন সম্ভব নয়; তাই প্রচুর দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ ও তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি।
৪. কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা: উৎপাদনকে বৃহৎ মাত্রায় উন্নীত করতে প্রশাসনিক ও কার্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো নতুন করে সাজাতে হবে।সুতরাং, বর্তমান কারখানা কাঠামোতে থেকে এত বড় চাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষুদ্র/মাঝারি থেকে বৃহৎ মাত্রার আধুনিক শিল্পে কাঠামোগত রূপান্তর করাই এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও