পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
‘ক’ রাষ্ট্রের প্রদেশগুলোতে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু’ভাগে করে সংরক্ষিত বিষয় ও হস্তান্তরিত বিষয় নামে নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। সংরক্ষিত বিষয়গুলো গভর্নর তার হাতে রাখেন।
- ক)(1)
মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন কী?
- খ)(2)
লাহোর প্রস্তাব বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
‘ক’ রাষ্ট্রের প্রদেশে প্রবর্তিত আইনের সাথে তোমার পঠিত ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের সাদৃশ্য আছে কী? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ভারতীয়দের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক দাবি পূরণের লক্ষ্যে ১৯০৯ সালে প্রণীত আইনই মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন (Indian Councils Act 1909) নামে পরিচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাকে লাহোর প্রস্তাব বলা হয়। এ প্রস্তাবে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ (States) গঠনের দাবি জানানো হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের ভবিষ্যৎ বিভক্তি ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রের প্রদেশে প্রবর্তিত ব্যবস্থার সাথে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক পর্যায়ে 'দ্বৈত শাসন' (Dyarchy) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এই ব্যবস্থার অধীনে প্রাদেশিক বিষয়গুলোকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছিল— ১. সংরক্ষিত বিষয় (Reserved subjects) এবং ২. হস্তান্তরিত বিষয় (Transferred subjects)। অর্থ, পুলিশ, বিচার ও রাজস্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো সংরক্ষিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তা গভর্নরের নির্বাহী পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অপরদিকে শিক্ষা, স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন, স্বাস্থ্য প্রভৃতি বিষয় হস্তান্তরিত তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নির্বাচিত মন্ত্রীদের হাতে ন্যস্ত ছিল। উদ্দীপকেও 'ক' রাষ্ট্রে বিষয়গুলোকে সংরক্ষিত ও হস্তান্তরিত ভাগে ভাগ করে সংরক্ষিত বিষয় গভর্নরের অধীনে রাখার কথা বলা হয়েছে, যা ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইনের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আইনটি হলো ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন এবং এর মূল বৈশিষ্ট্য ছিল প্রাদেশিক দ্বৈত শাসন। এ আইনের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এটি বাস্তব প্রয়োগে চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। দ্বৈত শাসনের ফলে প্রদেশে দ্বিমুখী শাসন ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে, যার ফলে কোনো কার্যকর সমন্বয় ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ ও আর্থিক ক্ষমতাযুক্ত বিভাগগুলো গভর্নরের সংরক্ষিত তালিকায় থাকায় নির্বাচিত মন্ত্রীদের হাতে পর্যাপ্ত তহবিল বা ক্ষমতা ছিল না। ফলে মন্ত্রীরা স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করতে পারেননি এবং যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য গভর্নরের মুখাপেক্ষী থাকতে হতো। প্রশাসনের মূল চাবিকাঠি আমলাতন্ত্র মন্ত্রীদের কথা না শুনে গভর্নরের প্রতি অনুগত থাকত। যৌথ দায়িত্বশীলতার অভাব এবং গভর্নরের সীমাহীন ভেটো ক্ষমতার কারণে ১৯১৯ সালের সংস্কার আইন ভারতীয় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা প্রদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও