অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
'X' একটি উন্নয়নশীল দেশ। উক্ত দেশটির জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার নিচের তালিকায় দেয়া হলো:

- ক)(1)
কাম্য জনসংখ্যা কী?
- খ)(2)
কারিগরি শিক্ষার প্রসারণ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য কীভাবে সহায়ক হতে পারে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্যের সাথে অর্থনীতির কোন তত্ত্বটি সঙ্গতিপূর্ণ এবং কেন?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে 'X' দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে কি প্রভাব পড়বে বলে তুমি মনে কর?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশের কার্যকর প্রাকৃতিক সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কারিগরি শিক্ষার প্রসারণ মানুষকে ব্যবহারিক ও বৃত্তিমূলক দক্ষতায় দক্ষ করে তোলে। প্রচলিত সাধারণ শিক্ষার তুলনায় কারিগরি শিক্ষা যুবসমাজকে কর্মমুখী করে, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে। এর ফলে শ্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়ে এবং অনুৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্যের সাথে অর্থনীতিবিদ থমাস রবার্ট ম্যালথাসের 'ম্যালথাসীয় জনসংখ্যা তত্ত্ব' সঙ্গতিপূর্ণ।
ম্যালথাসের মতে, কোনো দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ...) এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ...)।
উদ্দীপকের সারণিতে দেখা যায়, ১৯০০ সালে জনসংখ্যা ২ এবং খাদ্য উৎপাদন ছিল ২। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে জ্যামিতিক হারে (২ থেকে ৪, এরপর ১৬); পক্ষান্তরে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে গাণিতিক হারে (২ থেকে ৩, এরপর ৫)। যেহেতু জনসংখ্যা ও খাদ্য উৎপাদনের এই বৃদ্ধির ধারা ম্যালথাসের তত্ত্বকে যথাযথভাবে নির্দেশ করে, তাই উদ্দীপকের তথ্যের সাথে ম্যালথাসীয় জনসংখ্যা তত্ত্বটি সঙ্গতিপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে 'X' দেশের অর্থনীতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি।
ম্যালথাসের তত্ত্ব অনুযায়ী, খাদ্য উৎপাদনের চেয়ে জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেলে দেশে মারাত্মক খাদ্যঘাটতি দেখা দেয়। 'X' দেশেও খাদ্য উৎপাদনের চেয়ে জনসংখ্যা বহু গুণ বেশি হওয়ায় নিম্নলিখিত প্রভাবগুলো পরিলক্ষিত হবে:
১. অর্থনৈতিক প্রভাব: তীব্র খাদ্যঘাটতি দেখা দেবে এবং খাদ্য আমদানির পেছনে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে। খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে মুদ্রাস্ফীতি ঘটবে, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ হ্রাস পাবে, বেকারত্ব বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।
২. সামাজিক প্রভাব: খাদ্য ও মৌলিক চাহিদার অভাবে দুর্ভিক্ষ, অপুষ্টি ও মহামারি দেখা দেবে। দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাবে এবং সম্পদ দখলের লড়াই, চুরি-ডাকাতি ও সামাজিক অপরাধ বেড়ে গিয়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে। ম্যালথাসের ভাষায়, জনসংখ্যা ও খাদ্যের এই ভারসাম্যহীনতা প্রাকৃতিক নিরোধ বা বিপর্যয়ের পথ সুগম করবে।
অতএব, 'X' দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে অবিলম্বে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও