অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে 'ক' শিল্প থেকে। 'ক' শিল্প বর্তমানে বাংলাদেশের শিল্পক্ষেত্রে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। অনগ্রসর নারীদের কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিল্পটি প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

  1. ক)

    কুটির শিল্প কী?

    (1)
  2. খ)

    শিল্পায়নের মাধ্যমে কীভাবে একটি দেশ স্বনির্ভরতা অর্জন করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা কোন ধরনের শিল্পকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে করো বাংলাদেশ 'ক' দ্বারা নির্দেশিত শিল্পের সমস্যা রয়েছে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরিবারের সদস্যদের প্রধান শ্রম ও স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে স্বল্প পুঁজি নিয়ে পরিচালিত ক্ষুদ্র পরিসরের শিল্পকে কুটির শিল্প বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশে নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ঘটে এবং প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও শিল্পপণ্য অভ্যন্তরীণভাবেই উৎপাদিত হয়। এর ফলে আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পায় এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় ঘটে। এছাড়া শিল্পজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় আয় বৃদ্ধি পায়, যা দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হতে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'ক' দ্বারা তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পকে নির্দেশ করা হয়েছে।

    বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক বা রেডিমেড গার্মেন্টস শিল্প থেকে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, এই শিল্প অনগ্রসর নারীদের কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

    বাস্তব প্রেক্ষাপটেও দেখা যায়, বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া বিপুলসংখ্যক নারী কর্মী এই শিল্পে নিয়োজিত হয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই উদ্দীপকের 'ক' শিল্পটি হলো তৈরি পোশাক শিল্প।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশে 'ক' দ্বারা নির্দেশিত অর্থাৎ তৈরি পোশাক শিল্পের নানাবিধ সমস্যা রয়েছে।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলেও এটি বেশ কিছু গুরুতর চ্যালেঞ্জ ও সমস্যার মুখোমুখি:
    ১. কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা: পোশাক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সুতা, তুলা ও রাসায়নিক সামগ্রীর বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যা উৎপাদন খরচ ও সময় বাড়ায়।
    ২. অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা: বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহ, বন্দর জট এবং দুর্বল পরিবহন ব্যবস্থার কারণে পণ্য সময়মতো বিদেশে পৌঁছাতে বিঘ্ন ঘটে।
    ৩. আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স ও শ্রমিক নিরাপত্তা: কারখানার নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অগ্নি-নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে।
    ৪. শ্রম অসন্তোষ ও কম মজুরি: যৌক্তিক মজুরি কাঠামো ও শ্রমিক কল্যাণের অভাবে প্রায়ই অসন্তোষ ও ধর্মঘটের সৃষ্টি হয়, যা উৎপাদন ব্যাহত করে।
    ৫. বাজার বহুমুখীকরণের অভাব: বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার মূলত আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর নির্ভরশীল; নতুন বাজারের সম্প্রসারণ ধীরগতির।

    অতএব, উপযুক্ত যুক্তিসমূহের আলোকে বলা যায় যে তৈরি পোশাক শিল্পে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এতে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান, যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন