বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়কে বলা হয় ভারতের নবজাগরণের পথিকৃৎ। রামমোহনের সমকালীন সমাজে গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস ও জাতিভেদসহ নানা কুপ্রথা প্রচলিত ছিল। একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের জন্য তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর আন্দোলনের ফলে বৃটিশ সরকার সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করে আইন পাশ করে। এতে নারীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত দাহ করার অমানবিক প্রথার অবসান ঘটে।
- ক)(1)
মৃত্যুঞ্জয় কোন ক্লাসে পড়ত?
- খ)(2)
'আমি বুঝিলাম, বিষহরির দোহাই বুঝি আর খাটে না।' কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজের সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের সমাজ ব্যবস্থার সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
"রামমোহনের কাঙ্ক্ষিত মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের জীবনের এমন করুণ পরিণতি হতো না।"-উদ্দীপক ও 'বিলাসী' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৃত্যুঞ্জয় থার্ড ক্লাসে (বর্তমান অষ্টম শ্রেণি) পড়ত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত বাক্যটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, সাপের বিষ নামানোর মন্ত্রতন্ত্র ও অলৌকিক বিশ্বাসের কার্যকারিতা বাস্তব চিকিৎসার কাছে অচল হয়ে গিয়েছিল।
'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয়কে যখন খরিশ সাপে কামড়ায়, তখন সে বিষহরির দোহাই দিয়ে মন্ত্র পড়ে সাপের বিষ নামানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিষের তীব্রতা যখন ক্রমশ বাড়তে থাকে এবং মৃত্যুঞ্জয়ের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে, তখন লেখক বুঝতে পারেন যে অন্ধবিশ্বাস, মন্ত্র কিংবা দেব-দেবীর দোহাই দিয়ে সাপের বিষ নামানো সম্ভব নয়; বাস্তব সত্যের কাছে এসব কুসংস্কার পুরোপুরি অকার্যকর।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজের অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি ও জাতিভেদ প্রথার সঙ্গে 'বিলাসী' গল্পের রক্ষণশীল সমাজ ব্যবস্থার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রামমোহন রায়ের সমকালীন সমাজে ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কার, বর্ণভেদ ও নারীর প্রতি অমানবিক সতীদাহ প্রথা প্রচলিত ছিল। মানুষ যুক্তি ও মানবিকতার চেয়ে অন্ধবিশ্বাসকে প্রাধান্য দিত।
'বিলাসী' গল্পেও গ্রামীণ সমাজ ব্যবস্থার একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। সেখানে জাত-পাত ও বর্ণপ্রথা ছিল প্রকট। অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলার পরও নিচু জাতের সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীকে সমাজ স্বীকৃতি দেয়নি, বরং জাত যাওয়ার অজুহাতে মৃত্যুঞ্জয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর বিলাসীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয় এবং সমাজের লোক সেই আত্মহত্যার ঘটনাকে অবজ্ঞা ও উপহাসের চোখে দেখে। সাপের কামড়ের মতো মারাত্মক বিষয়ে বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা না নিয়ে মন্ত্র ও ওঝার ওপর নির্ভর করাও কুসংস্কারের অংশ। অতএব, কুসংস্কার, জাত্যাভিমান ও মানবিকতার অভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের সমাজ ও গল্পের সমাজ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ। মানবিকতা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাবের কারণেই বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজের নির্মম পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল।
উদ্দীপকে রাজা রামমোহন রায় ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুপ্রথা বিলোপ করে একটি মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন। তাঁর সংস্কার আন্দোলনের ফলে সতীদাহের মতো অমানবিক প্রথা নিষিদ্ধ হয়েছিল।
'বিলাসী' গল্পে দেখা যায়, মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হলে সমাজের তথাকথিত উচ্চবর্ণের আত্মীয়রা তাকে ফেলে চলে যায়। কেবল সাপুড়ের মেয়ে বিলাসী নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলে। কিন্তু সমাজ সেই ভালোবাসাকে স্বীকার করেনি; উল্টো জাতনাশের অপবাদে তাদের আক্রমণ করে। এছাড়া মৃত্যুঞ্জয় যখন বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়, তখন আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার বদলে ওঝা ও মন্ত্রতন্ত্রের ওপর নির্ভর করায় তার অকালমৃত্যু ঘটে। মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর সমাজের অসহনীয় নিপীড়ন ও লাঞ্ছনা সইতে না পেরে বিলাসীও বিষপানে আত্মহত্যা করে।
যদি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ থাকত, তবে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের অকৃত্রিম প্রেম ও ত্যাগকে সমাজ সম্মান জানাত। আর যদি বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা থাকত, তবে মৃত্যুঞ্জয়ের চিকিৎসার জন্য ওঝার বদলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া হতো এবং মৃত্যুঞ্জয় হয়তো বেঁচে যেত। ফলে বিলাসীকেও অকালে আত্মাহুতি দিতে হতো না। সুতরাং, রামমোহনের কাঙ্ক্ষিত মানবিক ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতি হতো না—মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও