অর্থনীতি ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
রহিম সাহেব ব্যক্তিগতভাবে কিছু মূলধন নিয়ে একটি ওয়েলডিং মেশিন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিন পর তার কারখানার উৎপাদিত দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সে চাহিদা অনুযায়ী দ্রব্য সরবরাহ করতে পারছিলেন না। তাই তিনি পলাশ ও জাকিরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারখানার আকার বৃদ্ধি করেন। এতে দ্রব্য সরবরাহ বৃদ্ধি পায়।
- ক)(1)
BRAC-এর পূর্ণরূপ লিখ।
- খ)(2)
সংগঠনকে শিল্পের চালক (Captain of Industry) বলা হয় কেন?
- গ)(3)
রহিম সাহেবের প্রতিষ্ঠিত কারখানার তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য লেখ।
- ঘ)(4)
যুক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত কারখানা প্রথমে প্রতিষ্ঠিত কারখানার তুলনায় কী কী সুবিধা সৃষ্টি করেছে বলে তুমি মনে করো? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
BRAC-এর পূর্ণরূপ হলো 'Building Resources Across Communities' (পূর্বে এটি 'Bangladesh Rural Advancement Committee' নামে পরিচিত ছিল)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণসমূহ যেমন— ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে একত্রিত করে তাদের মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে উৎপাদন কাজ সফলভাবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন সংগঠক। জাহাজের ক্যাপ্টেন যেমন দিকনির্দেশনা দিয়ে জাহাজকে গন্তব্যে নিয়ে যান, তেমনি সংগঠকও ব্যবসায়িক ঝুঁকি গ্রহণ করে সঠিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার মাধ্যমে পুরো শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তাই সংগঠন বা সংগঠককে 'শিল্পের চালক' (Captain of Industry) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিম সাহেব ব্যক্তিগতভাবে কিছু মূলধন নিয়ে যে ওয়েল্ডিং মেশিন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা হলো একটি 'একমালিকানা ব্যবসায়'।
রহিম সাহেবের প্রতিষ্ঠিত এই একমালিকানা কারখানার তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিচে দেওয়া হলো:
১. একক মালিকানা ও মূলধন সরবরাহ: এ ধরনের ব্যবসায়ের একজনই মালিক থাকেন এবং তিনি একাই সমস্ত মূলধন জোগান দেন।
২. একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনা: ব্যবসায়ের যাবতীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ রহিম সাহেব একাই করেন, ফলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
৩. অসীম দায় ও একক ঝুঁকি: ব্যবসায়ের যাবতীয় লাভ যেমন রহিম সাহেব একাই ভোগ করেন, তেমনি লোকসান ও ঋণের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্বও তাকে এককভাবে বহন করতে হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিম সাহেবের প্রথমে প্রতিষ্ঠিত একক কারখানাটি ছিল একমালিকানা ব্যবসায় এবং পরবর্তীতে পলাশ ও জাকিরের সাথে যুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠিত কারখানাটি হলো অংশীদারি ব্যবসায়। যুক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত অংশীদারি কারখানাটি প্রথমে প্রতিষ্ঠিত কারখানার তুলনায় বহুবিধ সুবিধা সৃষ্টি করেছে।
নিচে সুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. মূলধনের আধিক্য: রহিম সাহেব একা থাকায় বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারছিলেন না। কিন্তু অংশীদারি ব্যবসায়ে একাধিক মালিক যুক্ত হওয়ায় অধিক মূলধন সংগ্রহ সম্ভব হয়, যার ফলে কারখানার আকার বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে।
২. সরবরাহ ও উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি: অতিরিক্ত মূলধন ও যৌথ শ্রম-প্রচেষ্টার মাধ্যমে কারখানাটির আকার বৃদ্ধি পায়, যার ফলে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে দ্রব্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়।
৩. ঝুঁকি বণ্টন: একক কারখানায় সমস্ত ঝুঁকি ও দায় রহিম সাহেবের একার ওপর বর্তাত। অংশীদারি কারখানায় সম্ভাব্য লোকসান ও ব্যবসায়িক ঝুঁকি অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যায়।
৪. যৌথ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা: একাধিক ব্যক্তির বুদ্ধি, পরামর্শ ও কর্মদক্ষতা একত্রিত হওয়ায় ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনা ও কার্যপরিচালনা অধিকতর ফলপ্রসূ ও শক্তিশালী হয়।অতএব, উদ্দীপকের আলোকে স্পষ্ট যে, যুক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত কারখানাটি পর্যাপ্ত মূলধন জোগান, ঝুঁকি হ্রাস এবং উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে আগের একক কারখানার সীমাবদ্ধতা দূর করে ব্যবসায়ের ধারাবাহিক সম্প্রসারণে বিশেষ সুবিধা সৃষ্টি করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও